অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার প্রক্রিয়াটি এখন ঘরে বসেই করা সম্ভব।

আপনি যদি বৈধ উপায়ে গাড়ি বা বাইক চালাতে চান, তাহলে আপনার কাছে অবশ্যই একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে।

নিজে আসলেই বাইক বা গাড়ি চালাতে পারেন, তার প্রমাণ হিসেবে এই লাইসেন্স থাকা জরুরি।

আর ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া বাইক বা যে কোন গাড়ি চালালে বড় অংকের আর্থিক জরিমানার সম্মুখীন হবেন।

এ কারণে আপনার অবশ্যই একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স লাগবে। আগে এই লাইসেন্স করতে অফিসে যেয়ে আবেদন করতে হতো।

এখন আপনি ঘরে বসেই খুব সহজে এই লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এতে আপনার আবেদনটি একদম নির্ভুল হবে ও আপনাকে কষ্ট করে অফিসে যেতে হচ্ছে না।

অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমেই আপনাকে পরীক্ষার ব্যাপারে জানানো হবে।

এরপর আপনি নির্দিষ্ট দিনে পরীক্ষাতে হাজির ও উত্তীর্ণ হয়ে লাইসেন্স পেতে পারবেন।

এই ব্লগে আমরা জানবো, কিভাবে অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে হয় ও আবেদন করতে কি কি লাগে।

এছাড়া আমরা আরো জানবো, ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কি পরিমান খরচ হয় ও কিভাবে টাকা পেমেন্ট করতে হয়।

এই পোস্টে যা যা থাকছে-

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন এর জন্য কি কি লাগে?

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন করার জন্য অনলাইনে নির্দিষ্ট পোর্টালে যেতে হবে।

আর আবেদনের জন্য বেশ কিছু বিষয়ের উপর খেয়াল রাখতে হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের জন্য যা যা লাগবে-

১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

২. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (জেপিজি/পিএনজি ফরম্যাটে)।

৩. রেজিস্টার্ড এমবিবিএস (MBBS) ডাক্তারের স্বাক্ষরিত ফিটনেস সার্টিফিকেট (বিআরটিএ ফর্ম অনুযায়ী)।

৪. ন্যূনতম ৮ম শ্রেণি পাস বা সমমানের সনদের স্ক্যান কপি।

৫. বর্তমান ঠিকানার প্রমাণের জন্য বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কপি।

৬. ওটিপি (OTP) ও নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য নিজের নামে কেনা মোবাইল নম্বর।

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন এর নিয়ম

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়াটি একদম সহজ।

ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি দেখুন-

ধাপ ১ঃ একাউন্ট তৈরি ও লগিন

প্রথমে এই লিংকে https://bsp.brta.gov.bd/ ক্লিক করুন।

এরপর উপরের মেনু থেকে নিবন্ধন বাটনে ক্লিক করুন।

আপনার জন্ম তারিখ, জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর, মোবাইল নম্বর, সিকিউরিটি কোড দিয়ে ‘অনুসন্ধান’ বাটনে ক্লিক করুন।

এরপর আপনার মোবাইল নাম্বারে আসা ওটিপি নাম্বারটি দিয়ে ‘ওটিপি যাচাই করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।

পরবর্তী পেজে আপনি যেকোন একটি পাসওয়ার্ড দুইবার লিখে ‘নিবন্ধন করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।

এরপর পরবর্তী পেজে ইউজার নেম হিসেবে মোবাইল নাম্বার, পাসওয়ার্ড ও সিকিউরিটি কোড দিয়ে ‘Login’ বাটনে ক্লিক করুন।

পরবর্তী পেজে আপনার মোবাইলে একটি ওটিপি আসবে।

সেটি দিয়ে ‘Verify’ বাটনে ক্লিক করলে আপনি আপনার ড্যাশবোর্ডে ঢুকতে পারবেন।

ধাপ ২ঃ প্রোফাইল সম্পূর্ণ করা

ড্যাশবোর্ডের উপরের দিকের ডান দিকের কোনার ছোট আইকনটিতে ক্লিক করে ‘প্রোফাইল’ বাটনে ক্লিক করুন।

নিজের দিকের ‘যাচাই করুন’ সবুজ বাটনে ক্লিক করে দিন। সেখানে ‘success’ দেখাবে।

এরপর আপনার বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা দিন।

এক্ষেত্রে আপনার হোল্ডিং নম্বর/ গ্রাম বা বাড়ি, রোড বা মহল্লা, বিভাগ, জেলা, থানা, পোস্টকোড যোগাযোগ নম্বর সবকিছু দিতে হবে।

আপনার বর্তমান ঠিকানা ও স্থায়ী ঠিকানা একই হলে উপরের হ্যাঁ বাটনে টিক দিন।

আর আলাদা হলে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা আলাদা করে লিখুন।

এরপর নিচের দিকে ‘প্রোফাইল হালনাগাদ’ বাটনে ক্লিক করুন।

তারপর নিশ্চিত করুন বাটনে ক্লিক করে প্রোফাইলটি আপডেট করে নিন।

ধাপ ৩ঃ প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের ছবি সংগ্রহে রাখা

এবার ড্যাশবোর্ডের বাম পাশের ড্রাইভিং লাইসেন্স সেকশন থেকে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন’ এ ক্লিক করুন।

পরবর্তী পেজে দেখতে পাবেন, আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের জন্য কি কি লাগবে।

এখানে একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট লাগবে বলা হয়েছে।

এর জন্য ডান পাশে ‘এখানে ক্লিক করুন’ বাটনে ক্লিক করে ফর্মটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে, ফর্মে সকল সকল তথ্য পুরণ করে একজন রেজিস্টার্ড লাইসেন্সধারী ডাক্তারের কাছে থেকে সই ও সীল নিতে হবে।

এরপর এই সনদের কপির ছবি আপনার কাছে থাকতে হবে।

এছাড়া আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র এর স্ক্যান করা ছবি, ইউটিলিটি বিলের স্ক্যান করা ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটের স্ক্যান করা ছবি থাকতে হবে।

প্রতিটি ছবির সাইজ সর্বোচ্চ ৬০০ কেবির মধ্যে হতে হবে।

এই সবগুলি ছবি আপনার কাছে থাকলে ‘আমি সহমত’ বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৪ঃ ড্রাইভিং লাইসেন্স ধরন ও মটরযানের শ্রেণী সিলেক্ট করা

এরপর ড্রাইভিং লাইসেন্স ধরন থেকে ‘Non professional’ বা ‘Professional’ যেকোন একটি সিলেক্ট করুন।

আপনি যদি নিজের, পরিবারের বা নিজস্ব কোনো গাড়ি/মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত কাজে চালানোর জন্য লাইসেন্স করতে চান, তাহলে Non professional সিলেক্ট করুন।

এই লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত ১০ বছর হয়।

আপনি যদি ড্রাইভিং-কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে চান অথবা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে যানবাহন চালিয়ে উপার্জন করতে চান, তাহলে Professional সিলেক্ট করুন।

এই লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত ৫ বছর হয়।

‘Non professional’ সিলেক্ট করলে, মটরযানের শ্রেণী motorcycle অথবা light সিলেক্ট করুন।

‘Professional’ সিলেক্ট করলে, মটরযানের শ্রেণী motorcycle বা light বা Three wheeler বা others সিলেক্ট করুন।

এরপর next বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৫ঃ আবেদনকারীর প্রাথমিক তথ্য দেওয়া 

পরবর্তী পেজে, আপনি আপনার প্রাথমিক তথ্যগুলি দেখতে পাবেন।

এখানে আপনি যে যে তথ্য পূরণ করেননি তা পূরণ করে দিতে হবে।

আপনার স্বামী বা স্ত্রী থাকলে তার নাম ইংরেজিতে লিখুন ও মোবাইল নম্বর দিন। এরপর ‘next’ বাটনে ক্লিক করুন।

পরবর্তী পেজে আপনার ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য সব ঠিক আছে কিনা দেখে নিন।

যদি কোন নতুন তথ্য দেওয়া লাগে তা দিন। জরুরী যোগাযোগের বিবরণ থেকে নাম, মোবাইল নম্বর, সম্পর্ক লিখে দিন।

স্থায়ী ঠিকানা বাংলায় পূরণ করা থাকলে ডান পাশে সবগুলি ইংরেজিতে পূরণ করে দিন।

বর্তমান ঠিকানাও একইভাবে ইংরেজিতে পূরণ করে দিন।

সকল তথ্য পূরণ করার পর নিচের দিকে সার্কেল অফিস ও পরীক্ষার স্থান দেখাবে।

এরপর ‘next’ বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৬ঃ সকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করা

আপনার কাছে থাকা মেডিকেল সার্টিফিকেটের ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের স্ক্যান করা ছবি, ইউটিলিটি বিলের স্ক্যান করার ছবি ‘Choose file’ বাটনে ক্লিক করে করে আপলোড করে দিন।

ছবিগুলি অবশ্যই ৬০০ কেবি এর মধ্যে হতে হবে।

এরপর নিচের দিকে স্মার্ট কার্ড প্রাপ্তির ঠিকানাতে present অথবা permanent যে কোন একটি সিলেক্ট করুন।

তারপর ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৭ঃ ফি জমা দেওয়া

এই পেজে ‘ফি জমা’ বাটনে ক্লিক করুন।

এখানে আপনি আপনার লার্নার বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স এর ফি অনলাইনে জমা দিতে হবে।

আপনি আপনার সকল তথ্য এই পেজে দেখতে পাবেন। নিচের দিকের ফি জমা থেকে আপনার এই লার্নার লাইসেন্সের জন্য মোট কত ফি দিতে হবে তা দেখতে পাবেন।

এরপর ‘ফি জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করুন।

পরবর্তী পেজে আপনি কিভাবে টাকা জমা দিবেন বা পেমেন্ট মেথড সিলেক্ট করে দিন।

এরপর নিজের দিকের I agree তে টিক দিয়ে নিশ্চিত বাটনে ক্লিক করুন।

তারপর আপনার পেমেন্ট মেথড অনুযায়ী পেমেন্ট করে দিন। পেমেন্ট করার সাথে সাথে আপনার ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার শিক্ষানবিশ লাইসেন্স টি দেখতে পারবেন।

সেখানে ‘বিস্তারিত’ বাটনে ক্লিক করলে আপনার শিক্ষানবিশ লাইসেন্স টির যাবতীয় সকল তথ্য দেখতে পারবেন।

আপনার শিক্ষানবিশ লাইসেন্সের কপিতে উল্লেখ থাকবে আপনার কবে বায়োমেট্রিক দিতে হবে ও লিখিত, মৌখিক ও প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে।

সাধারণত এই লার্নার লাইসেন্স পাওয়ার দুই মাস পর পরীক্ষার ডেট থাকে।

এই শিক্ষানবিশ বা লার্নার লাইসেন্সটি ডাউনলোড অপশন থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

এছাড়া প্রিন্ট রিসিট বাটনে ক্লিক করে, রিসিট কপি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

ধাপ ৮ঃ পরীক্ষায় পাশের পর ফি জমা দেওয়া

আপনি পরীক্ষায় পাশ করেছেন কিনা তা জানার জন্য, বিআরটিএ-র পোর্টালে লগইন করতে হবে।

এরপর ড্যাশবোর্ড থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য আবেদন অপশনে ক্লিক করতে হবে।

সেখানে আপনি দেখতে পাবেন, আপনি কবে পরীক্ষা দিয়েছেন ও আপনি কৃতকার্য বা অকৃতকার্য হয়েছেন।

আপনি যদি কৃতকার্য হয়ে থাকেন, তাহলে ‘দেখুন ও পরবর্তী ধাপ’ বাটনে ক্লিক করুন। পরবর্তী পেজে সংরক্ষণ করুন বাটনে ক্লিক করুন।

নিচের দিকে অতিরিক্ত সংযুক্তি করুন অপশন থেকে আপনার লার্নার কপিটি আপলোড করে দিন।

এরপর ‘সংরক্ষণ করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।

তারপর ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইন ফি জমা বাটনে ক্লিক করুন।

পরবর্তী পেজে একদম নিচের দিকে ফি জমা দিন বাটনে ক্লিক করুন।

এরপর আপনি যেকোনো পেমেন্ট মেথড সিলেক্ট করে I agree তে টিক দিয়ে নিশ্চিত বাটনে ক্লিক করুন। পরবর্তীতে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।

পেমেন্ট সম্পন্ন করার পর ড্যাশবোর্ড থেকে Click here নামে একটি বাটন আসবে।

সেখানে ক্লিক করে প্রিন্ট রিসিট বাটনে ক্লিক করে, আপনার টাকা জমা দেওয়ার রিসিট টি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

এরপর হোম বাটনের ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন’ অপশনে ক্লিক করুন।

এখানে প্রিন্ট লাইসেন্স ফর্ম বাটনে ক্লিক করুন। ফর্মটি ওপেন করে ডাউনলোড করে নিন।

এছাড়া অনুমোদনের অবস্থা থেকে আমরা দেখতে পাবো, এটি অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমান।

এই অনুমোদনটি পেতে ২ থেকে ৩ দিন সময় লাগতে পারে। অনুমোদন পাওয়ার সাথে সাথে আপনার মোবাইল নাম্বারে একটি এপ্রুভাল মেসেজ আসবে।

মোবাইলে মেসেজ আসার পর পোর্টালে প্রবেশ করে আবার হোম বাটনের ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন’ অপশনে ক্লিক করুন।

এখানে অনুমোদনের অবস্থাতে লেখা থাকবে অনুমোদিত।

এখান থেকে আপনি ই ড্রাইভিং লাইসেন্স বাটনে ক্লিক করে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সটি দেখতে পারবেন ও ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

আপনার মূল লাইসেন্স কার্ডটি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত, আপনি এই ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে যানবাহন চালাতে পারবেন।

আপনি চাইলে আপনার লাইসেন্সটি প্রিন্ট করে লেমিনেটিং করে ব্যবহার করতে পারবেন।

ধাপ ৯ঃ ড্রাইভিং লাইসেন্স স্মার্ট কার্ড পাওয়া

সাধারণত চূড়ান্ত ফি পরিশোধ ও ই-লাইসেন্স পাওয়ার পর আসল স্মার্ট কার্ড হাতে পেতে ৩০ থেকে ৯০ দিন সময় লাগতে পারে।

স্মার্ট কার্ডটি প্রিন্ট হওয়ার পর আপনার আবেদনে দেওয়া বর্তমান ঠিকানায় রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ডেলিভারিম্যান আপনার সাথে ফোনে যোগাযোগ করে কার্ডটি পৌঁছে দেবেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে করনীয়

ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট তারিখে যে পরীক্ষা দিতে হয়, সেই পরীক্ষায় আপনি যদি ফেল করেন, সেক্ষেত্রে আপনি পুনরায় পরীক্ষা দিতে পারবেন।

এর জন্য আপনাকে পুনরায় বিআরটিএ এর অফিসিয়াল পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে।

এরপর আপনার মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে।

ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

এখানে আপনি অকৃতকার্য হলে, অকৃতকার্য দেখাবে।

পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পুনঃপরীক্ষা বাটনে ক্লিক করুন। নিচের দিকে পুনঃপরীক্ষা তথ্য থেকে আপনার কবে পরীক্ষা তা দেখাবে।

এরপর নিচের দিকে ফি জমা অপশন থেকে, ফি জমা দিন বাটনে ক্লিক করুন।

পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য সাধারণত ২৩০ টাকা ফি ধার্য করা হয়।

এরপর আপনি যে কোন একটি পেমেন্ট মেথড সিলেক্ট করে I agree তে টিক দিয়ে নিশ্চিত বাটনে ক্লিক করে ফি প্রদান করুন।

আপনার একটি নতুন লার্নার কপি জেনারেট হবে। সেটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে হবে।

এরপর এই লার্নার কপি নিয়ে পুনরায় বিআরটিএ অফিসে যেয়ে পরীক্ষা দিতে পারবেন।

অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন ফি

ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন ধরনের ফি লাগে।

দেখে নিন কোন ক্যাটাগরিতে কেমন ফি লাগে-

১. অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের লার্নার (শিক্ষানবিশ) কপির জন্য ক্যাটাগরি ভেদে সরকার নির্ধারিত ফি ৫১৮ টাকা থেকে ৭৪৮ টাকা (অনলাইন চার্জসহ) খরচ হয়।

১ ক্যাটাগরি (শুধু মোটরসাইকেল অথবা হালকা মোটরযান): ৫১৮ টাকা।২ ক্যাটাগরি (মোটরসাইকেল ও হালকা মোটরযান একসাথে): ৭৪৮ টাকা।

২. ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর স্মার্ট কার্ড ইস্যু ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ফি বাবদ অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ৪,৪৯৭ টাকা এবং পেশাদার লাইসেন্সের জন্য ২,৭৭২ টাকা (ডাক বিভাগের পোস্টাল ফি সহ) জমা দিতে হয়।

৩. ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষায় ফেল করলে প্রতি ক্যাটাগরিতে পুনরায় পরীক্ষার ফি বাবদ ভ্যাটসহ সাধারণত ২৩০ টাকা জমা দিতে হয়।

FAQ – অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন

১. ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের জন্য নূন্যতম বয়স কত?

অপেশাদার (Non-Professional): নূন্যতম ১৮ বছর।

পেশাদার (Professional): নূন্যতম ২০ বছর।

২. লার্নার কার্ড পাওয়ার কত দিন পর মূল পরীক্ষা দিতে হয়?

সাধারণত লার্নার পারমিট ইস্যু হওয়ার ২ থেকে ৩ মাস পর পরীক্ষার তারিখ দেওয়া হয়। লার্নার কার্ডেই পরীক্ষার তারিখ ও কেন্দ্র উল্লেখ থাকে।

৩. পরীক্ষায় ফেল করলে বা অনুপস্থিত থাকলে কী করণীয়?

BSP পোর্টালে লগইন করে পুনরায় পরীক্ষার জন্য ফি প্রতি ক্যাটাগরি ২৩০ টাকা জমা দিতে হবে। ফি দিলেই নতুন পরীক্ষার তারিখ পাওয়া যাবে।

৪. ই-লাইসেন্স পাওয়ার পর গাড়ি চালানো যাবে কি?

হ্যাঁ, সম্পূর্ণ বৈধভাবে চালানো যাবে। পরীক্ষার পর চূড়ান্ত ফি দিলেই কিউআর কোডযুক্ত ই-লাইসেন্স পাওয়া যায়। এটি আসল স্মার্ট কার্ড না আসা পর্যন্ত মূল লাইসেন্স হিসেবে কাজ করে।

উপসংহার – অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন

আশা করি, উপরের এই ব্লগটি পড়ে আপনি খুব সহজেই ঘরে বসে অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আর এখানে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইন মাধ্যম হওয়ায়, ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা।

এখানে আপনাকে কোন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কাজটি করতে হবে না।

এছাড়া আপনি অনলাইনের মাধ্যমেই পরীক্ষার তারিখ জানতে পারবেন।

আর নির্দিষ্ট তারিখে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতে নিতে পারবেন।

এছাড়া অনলাইনে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য যাবতীয় সকল পেমেন্ট করতে পারবেন।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্মার্ট কার্ড হাতে পেতে হয়তো কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

তবে এই সময়টিতে আপনি ই ড্রাইভিং লাইসেন্স ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে লেমিনেটিং করে ব্যবহার করতে পারবেন।