ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে করণীয় কি, তা আমাদের জানা উচিত।

কারণ, ড্রাইভিং লাইসেন্স একজন চালকের জন্য খুবই গুরত্বপূর্ণ বিষয়।

কেননা এটি ছাড়া রস্তায় গাড়ি চালানো সম্ভব নয়।

তবে যেকোন কারণে আপনার এই লাইসেন্সটি হারিয়ে যেতে পারে।

আর এটি হারিয়ে ফেললে আপনার নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে।

এই ব্লগে আমরা জানব, ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে কি করতে হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স হলো একজন চালকের আইনি দক্ষতা ও রাস্তায় যানবাহন পরিচালনার একমাত্র বৈধ অনুমতিপত্র।

ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে করণীয়

কেন ড্রাইভিং লাইসেন্স গুরুত্বপূর্ণ-

১. এটি রাস্তায় আইনসম্মতভাবে মোটরযান চালানোর একমাত্র সরকারি লাইসেন্স।

২. লাইসেন্স থাকলে ট্রাফিক সার্জেন্টের মামলা বা আইনি শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

৩. এটি চালকের ট্রাফিক আইন ও নিরাপদ ড্রাইভিং সংক্রান্ত যোগ্যতাকে প্রমাণিত করে।

৪. এটি ব্যাংক বা অন্যান্য দাপ্তরিক কাজে জাতীয় পরিচয়পত্রের মতোই কার্যকর ভূমিকা রাখে।

৫. ডেলিভারি সার্ভিস বা রাইড শেয়ারিং অ্যাপে আয়ের পথ তৈরি করতে এটি অপরিহার্য।

ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে করণীয়

ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে বিচলিত না হয়ে ধাপে ধাপে নিচের বিষয়গুলি দেখুন-

১. থানায় জিডি করা

লাইসেন্স হারিয়ে যাওয়ার পর আপনার প্রথম কাজ হলো নিকটস্থ থানায় একটি জিডি (General Diary) করা।

জিডিতে লাইসেন্স নম্বর, ইস্যুর তারিখ এবং হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য স্থান উল্লেখ করুন।

২. ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ

থানায় জিডি করার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার ট্রাফিক বিভাগ থেকে একটি অনাপত্তি সনদ বা ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে।

জিডি কপির ফটোকপি নিয়ে ট্রাফিক অফিসে যোগাযোগ করলে তারা এটি যাচাই করে ক্লিয়ারেন্স দিবে।

৩. নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া

ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের জন্য বিআরটিএ (BRTA) নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে।

বিআরটিএ-র অনুমোদিত ব্যাংকে (যেমন: এনআরবিসি, ওয়ান ব্যাংক ইত্যাদি) অথবা বিকাশের মতো অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে এই ফি জমা দেওয়া যায়।

৪. ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের জন্য আবেদন

অনলাইনে বিএসপি https://brta.gov.bd/  অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বা সরাসরি বিআরটিএ অফিসে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনের সাথে যে কাগজগুলো প্রয়োজন:

  • পূরণকৃত নির্দিষ্ট আবেদন ফরম।
  • থানার জিডি কপির মূল কপি।
  • ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
  • ব্যাংক ফি জমার রসিদ।
  • সদ্য তোলা ২-৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • মূল লাইসেন্সের ফটোকপি (যদি থাকে)।

৫. অস্থায়ী অনুমতিপত্র সংগ্রহ

আবেদনপত্রটি সঠিকভাবে জমা দেওয়ার পর বিআরটিএ আপনাকে একটি প্রাপ্তি স্বীকার রশিদ বা অস্থায়ী অনুমতিপত্র প্রদান করবে।

নতুন স্মার্ট কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই কাগজটি দেখিয়েই আপনি রাস্তায় বৈধভাবে গাড়ি চালাতে পারবেন।

৬. স্মার্ট কার্ড বায়োমেট্রিক ও গ্রহণ

আপনার আবেদন যাচাই-বাছাই শেষ হলে স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

কার্ড প্রস্তুত হয়ে গেলে আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস-এর মাধ্যমে জানানো হবে। এরপর লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন।

ভবিষ্যতে যেন ড্রাইভিং লাইসেন্সটি না হারায় তার জন্য করণীয়

আমরা ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে গেলে করণীয় কি তা জানলাম।

ভবিষ্যতে যেন এটি আর না হারায় তার জন্য যা যা করা যেতে পারে-

১. মানিব্যাগের ভেতর নির্দিষ্ট কার্ড হোল্ডারে লাইসেন্সটি রাখুন যাতে অন্য কিছু বের করার সময় পড়ে না যায়।

২. স্মার্টফোনে লাইসেন্সের স্পষ্ট ছবি তুলে রাখুন অথবা গুগল ড্রাইভে স্ক্যান কপি আপলোড করে রাখুন।

৩. বিআরটিএ-এর অনলাইন পোর্টালে (BSP) প্রোফাইল খুলে সেখানে আপনার লাইসেন্সটি যুক্ত করে নিন।

৪. সব সময় মূল কার্ড সাথে না রেখে একটি রঙিন ফটোকপি বা লেমিনেটিং করা কপি ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

৫. আপনার কার্ড হোল্ডার বা ওয়ালেটে ছোট কোনো ব্লুটুথ ট্র্যাকার ব্যবহার করতে পারেন যা হারিয়ে গেলে লোকেশন জানিয়ে দেবে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. লাইসেন্স হারিয়ে গেলে কি জরিমানা দিতে হয়?

না, তবে আপনাকে ডুপ্লিকেট লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য বিআরটিএ-কে একটি নির্ধারিত আবেদন ফি প্রদান করতে হবে।

২. জিডি করার কত দিনের মধ্যে ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়?

সাধারণত জিডি করার পরপরই ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স নেওয়া ভালো।

৩. লাইসেন্স না থাকা অবস্থায় কি গাড়ি চালানো যাবে?

না, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ।

৪. হারানো লাইসেন্সের ডুপ্লিকেট কপি পেতে কত দিন সময় লাগে?

আবেদন জমা দেওয়ার পর অস্থায়ী অনুমতিপত্র সাথে সাথেই পাওয়া যায়।

তবে মূল স্মার্ট কার্ডটি প্রিন্ট হয়ে আসতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স হারিয়ে যাওয়া খুব বড় সমস্যা হলেও এর সমাধান সম্ভব।

নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত জিডি করা এবং বিআরটিএ-এর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে আপনি পুনরায় আপনার লাইসেন্সটি ফিরে পাবেন।

তবে আপনাকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে ও এটি যেন পুনরায় না হারায় তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।