অনলাইনে খাজনা দিতে খতিয়ান যুক্ত করা এখন বাধ্যতামূলক। ডিজিটাল বাংলাদেশে ভূমিসেবা এখন অনেক সহজ এবং আধুনিক।

বর্তমানে ঘরে বসেই অনলাইনে জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সুবিধা চালু হয়েছে।

যার মূল ভিত্তি হলো আপনার জমির খতিয়ানটি ডিজিটাল সিস্টেমে সঠিকভাবে যুক্ত করা।

আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করবো কেন এবং কীভাবে আপনি খুব সহজে ভূমি সেবা পোর্টালে আপনার খতিয়ান যুক্ত করে ঝামেলামুক্তভাবে খাজনা পরিশোধ করতে পারেন।

অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য খতিয়ান যুক্ত করা একটি অপরিহার্য ধাপ।

অনলাইনে খাজনা দিতে খতিয়ান যুক্ত করার নিয়ম

খাজনা দিতে খতিয়ান যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা নিচে দেওয়া হলো:

১. খতিয়ান যুক্ত করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জমিতে আপনার বৈধ মালিকানা সরকারি ডাটাবেজে যাচাই ও নিশ্চিত করা হয়।

২. জমির ধরন (কৃষি বা অকৃষি) ও পরিমাণ অনুযায়ী আপনার প্রকৃত খাজনার পরিমাণ নির্ভুলভাবে হিসাব করতে এটি প্রয়োজন।

৩. খতিয়ান যুক্ত থাকলে খাজনা প্রদানের পর তাৎক্ষণিকভাবে বৈধ অনলাইন রসিদ বা ই-দাখিলা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

৪. এটি যুক্ত থাকলে ভূমি অফিসে সশরীরে না গিয়েই যেকোনো স্থান থেকে দ্রুত খাজনা পরিশোধ করা যায়।

৫. ডিজিটাল সিস্টেমে খতিয়ান রেকর্ডভুক্ত থাকলে একই জমির খাজনা অন্য কেউ ভুলভাবে দিয়ে জালিয়াতি করার সুযোগ পায় না।

৬. খতিয়ান যুক্ত করার ফলে আপনার জমির সর্বশেষ নামজারি ও করের তথ্য সরকারি পোর্টালে সর্বদা হালনাগাদ থাকে।

অনলাইনে খাজনা দিতে খতিয়ান যুক্ত করার নিয়ম

বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয় ভূমি সেবাকে মানুষের হাতের নাগালে নিয়ে এসেছে।

এখন আর খাজনা দিতে তহসিল অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয় না।

তবে অনলাইনে খাজনা দেওয়ার আগে আপনার নির্ধারিত জমি বা খতিয়ানটি সিস্টেমে যুক্ত করা প্রয়োজন।

অনলাইনে খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের জন্য ভূমি সেবা পোর্টালে খতিয়ান যুক্ত করার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

ধাপ ১: ভূমি সেবা পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন

খতিয়ান যুক্ত করার আগে আপনার একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

১. প্রথমে ldtax.gov.bd ওয়েবসাইটে যান।

২. উপরের লগইন থেকে রেজিস্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করুন।

৩. আপনার নাম (ইংরেজিতে), মোবাইল নাম্বার ও ক্যাপচা দিয়ে  সাবমিট করুন বাটনে ক্লিক করুন।

৪. এরপর আপনার মোবাইলে আসা ওটিপি দিয়ে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।

পরের পেজে ২ বার পাসওয়ার্ড লিখে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিন।

ধাপ ২: প্রোফাইলে লগইন করুন

নিবন্ধন হয়ে গেলে আপনি সরাসরি ড্যাশবোর্ডে ঢুকতে পারবেন।

অথবা লগইন এ ক্লিক করে আপনার মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

লগইন করার পর আপনি আপনার ব্যক্তিগত ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন।

ধাপ ৩: প্রোফাইল ভেরিফাই করা

ড্যাশবোর্ড থেকে প্রোফাইল অপশনে ক্লিক করে নিচের দিকের ভেরিফিকেশন অপশন থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করুন বাটনে ক্লিক করুন।

এখান থেকে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার ও জন্ম তারিখ দিয়ে যাচাই করুন বাটনে ক্লিক করুন।

এরপর আপনার নাম ইংরেজিতে ও আপনার পিতা ও মাতার নাম বাংলায় লিখে হালনাগাদ ও যাচাই বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৪: খতিয়ান যুক্ত করার প্রক্রিয়া

ড্যাশবোর্ড থেকে খতিয়ান অপশনে ক্লিক করুন।

এরপর ‘নতুন তথ্য প্রদান বাটনে ক্লিক করুন’ এ ক্লিক করতে হবে।

আপনার খতিয়ানের তথ্য দিতে হবে। এখানে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, জরিপের ধরণ দিতে হবে।

এরপর খতিয়ান নাম্বার দিয়ে যাচাই বাটনে ক্লিক করলে হোল্ডিং নাম্বার চলে আসবে।

সংযুক্তিতে আপনার খতিয়ানের স্ক্যান করা তোলা ছবি আপলোড করে দিতে হবে।

ছবিটি .png/.jpg/.pdf হতে হবে। সাইজ ২ mb এর বেশি হওয়া যাবেনা।

ধাপ ৫: সংরক্ষণ 

সব তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে মালিকানার ধরন থেকে নিজস্ব মালিকানা সিলেক্ট করে সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করুন।

এভাবে আপনার খতিয়ানটি যুক্ত হয়ে যাবে। আর সকল তথ্য ঠিকভাবে দিলে কিছুদিনের মধ্যেই আপনার খতিয়ানটি ভেরিফাইড হয়ে যাবে।

খতিয়ানটি সফলভাবে যুক্ত হলে স্ট্যাটাস ‘অপেক্ষমান’ থেকে ‘অনুমোদিত’ হয়ে যাবে।

FAQ: অনলাইনে খাজনা দিতে খতিয়ান যুক্ত করা

১. অনলাইনে খতিয়ান যুক্ত করতে কী কী তথ্য লাগে?

অনলাইনে খতিয়ান যুক্ত করতে আপনার জমির বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান নম্বর এবং খতিয়ানের একটি পরিষ্কার ছবি বা স্ক্যান কপি প্রয়োজন হয়।

২. খতিয়ান আপলোড করার পর কতদিন পর অনুমোদিত হয়?

সাধারণত আবেদন করার পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে ২ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে এটি যাচাই ও অনুমোদন করা হয়।

৩. খতিয়ান যুক্ত করার আবেদন বাতিল হলে করণীয় কী?

এক্ষেত্রে ‘বাতিল’ হওয়ার কারণটি দেখে নিয়ে পুনরায় সঠিক তথ্য ও পরিষ্কার ছবি দিয়ে আবেদন করতে হবে।

৪. একটি প্রোফাইলে কি একাধিক খতিয়ান যুক্ত করা যায়?

হ্যাঁ, আপনার মালিকানাধীন যতগুলো খতিয়ান আছে, সবগুলোর তথ্য আলাদাভাবে ইনপুট দিয়ে একটি প্রোফাইলেই যুক্ত করতে পারবেন।

৫. খতিয়ান যুক্ত না করে কি খাজনা দেওয়া সম্ভব?

না, সিস্টেমের মাধ্যমে আপনার জমির সঠিক কর নির্ধারণের জন্য অবশ্যই খতিয়ান যুক্ত থাকতে হবে। 

৬. খতিয়ানের ছবির সাইজ কত হতে হবে?

আপলোড করার জন্য খতিয়ানের ছবি বা পিডিএফ ফাইলের সাইজ ২ মেগাবাইট (2 MB) এর নিচে হতে হবে।

উপসংহার – অনলাইনে খাজনা দিতে খতিয়ান যুক্ত করা

পরিশেষে বলা যায়, অনলাইনে খাজনা দিতে অবশ্যই খতিয়ান যুক্ত করে নিতে হবে।

সঠিক নিয়মে খতিয়ান যুক্ত করার এই সামান্য প্রক্রিয়াটি আপনার জমির মালিকানাকে যেমন স্বচ্ছ রাখবে।

তেমনি আপনাকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে স্মার্ট ভূমি সেবা গ্রহণে সহায়তা করবে।

তাই দেরি না করে আজই আপনার খতিয়ানটি অনলাইনে যুক্ত করে নিন এবং ঘরে বসেই নিশ্চিন্তে খাজনা পরিশোধ করুন।