অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম জানা থাকলে, কষ্ট করে ভূমি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হবেনা।
বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয় এর এই অনলাইন সেবা মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমিয়ে এনেছে।
মাত্র কয়েক মিনিটেই নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে জমির কর বা খাজনা পরিশোধ করতে পারেন।
এছাড়া এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বকেয়া খাজনার সঠিক পরিমাণ জানা যায় এবং দ্রুত দাখিলা সংগ্রহ করা যায়।
এই ব্লগের মাধ্যমে দেখে দিন, সঠিকভাবে অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম।
আমাদের অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার উপায় জানার আগে জানতে হবে, এর উপকারিতাগুলি কি কি?
অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম জানার উপকারিতা সমূহ-
১. এতে করে ভূমি অফিসে সশরীরে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। তাই যাতায়াত খরচ ও মূল্যবান সময় বাঁচবে।
২. সরাসরি সরকারি সাইটের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যায় বলে কোনো দালালের হয়রানির সুযোগ থাকে না।
৩. অনলাইনে বকেয়া খাজনার সঠিক পরিমাণ জানা যায়, ফলে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের ভয় থাকে না।
৪. খাজনা পরিশোধের সাথে সাথেই ডিজিটাল দাখিলা বা রসিদ ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা সম্ভব।
৫. প্রবাস থেকে বা দূরে যেকোন জায়গা থেকে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে খাজনা বা কর দেওয়া সম্ভব হবে।
৬. জমির মালিকের তথ্যাদি অনলাইনে সংরক্ষিত থাকে বলে রসিদ হারিয়ে গেলেও পরবর্তীতে অনলাইন থেকে সংগ্রহ করা যায়।
অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম
জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের প্রক্রিয়া এখন অত্যন্ত সহজ। নিচে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ নিয়মটি দেওয়া হলো:
ধাপ ১: ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টালে প্রবেশ
প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট ldtax.gov.bd লিংকে প্রবেশ করুন।
ধাপ ২: নাগরিক নিবন্ধন
ওয়েবসাইটে গিয়ে উপরের ডানদিকের লগিন থেকে ‘রেজিস্ট্রেশন‘ বাটনে ক্লিক করুন।
আপনার সচল মোবাইল নম্বর, নাম ও ক্যাপচা, পাসওয়ার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন।
ধাপ ৩: লগইন ও হোল্ডিং সংযোজন
আপনার মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে লগইন করুন।
এখান থেকে ‘ভুমি উন্নয়ন কর‘ এ ক্লিক করুন।
ড্যাশবোর্ড থেকে ‘খতিয়ান‘ অপশনে গিয়ে ‘নতুন খতিয়ান তথ্য প্রদান করতে ক্লিক করুন‘ বাটনে ক্লিক করুন।
আপনার জমির তথ্য (বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ান নম্বর, খতিয়ানের ধরন, খতিয়ানের ছবি) যুক্ত করুন। এর জন্য সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করুন।
তথ্যগুলো সাবমিট করার পর সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে সেটি অনুমোদিত হতে সাধারণত কিছু সময় বা ১-২ দিন বা কিছু বেশি সময় লাগতে পারে।
ধাপ ৪: বকেয়া যাচাই
হোল্ডিং অনুমোদিত হয়ে গেলে খতিয়ান থেকে স্ট্যাটাস অনুমোদিত দেখাবে।
এরপর হোল্ডিং তালিকা থেকে চোখ চিহ্নের উপর ক্লিক করতে হবে।
সেখানে কত টাকা বকেয়া আছে তা দেখা যাবে।
ধাপ ৫: অনলাইন পেমেন্ট
পেমেন্ট করার জন্য ‘পেমেন্ট‘ বাটনে ক্লিক করুন।
পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে আপনার সুবিধামতো বিকাশ, রকেট, নগদ, বা উপায় নির্বাচন করুন।
আপনার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য ও পিন নম্বর দিয়ে নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করুন।
ধাপ ৬: দাখিলা বা রসিদ সংগ্রহ
পেমেন্ট সফল হওয়ার পর স্ক্রিনে একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা আসবে।
সেখান থেকে আপনার ‘দাখিলা’ (টাকা জমা দেওয়ার রসিদ) ডাউনলোড করে নিন। এটি আপনি প্রিন্ট করে ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতে পারেন।
FAQ: অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম
১. অনলাইনে খাজনা দেওয়ার জন্য কোন ওয়েবসাইটে যেতে হবে?
ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল পোর্টাল ldtax.gov.bd থেকে এই সেবা গ্রহণ করা যায়।
২. অনলাইনে তথ্য খুঁজে না পেলে কী করণীয়?
যদি আপনার খতিয়ান বা হোল্ডিং নম্বর খুঁজে না পান, তবে আপনার জমির খতিয়ান এবং এনআইডি নিয়ে নিকটস্থ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করতে হবে।
৩. বিদেশ থেকে কি জমির খাজনা দেওয়া সম্ভব?
হ্যাঁ, প্রবাসী নাগরিকরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে তাদের নিবন্ধন সম্পন্ন করে মোবাইল ব্যাংকিং বা নির্দিষ্ট পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধ করতে পারেন।
৪. অনলাইন দাখিলা কি সব জায়গায় গ্রহণযোগ্য?
হ্যাঁ। অনলাইন থেকে প্রাপ্ত ডিজিটাল কিউআর কোড সম্বলিত দাখিলা বা রসিদটি আইনগতভাবে বৈধ এবং এটি সব ধরণের দাপ্তরিক কাজে ব্যবহার করা যাবে।
৫. খাজনা দেওয়ার পর রসিদ বা দাখিলা কোথায় পাব?
পেমেন্ট সফল হওয়ার সাথে সাথেই সিস্টেম থেকে ডিজিটাল দাখিলা ডাউনলোডের অপশন আসবে।
এছাড়া আপনার প্রোফাইলে লগইন করে যেকোনো সময় ‘দাখিলা’ মেনু থেকে এটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
উপসংহার – অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম
পরিশেষে বলা যায় যে, অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম অনেক সহজ।
যার ফলে এটি এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।
অনলাইনের এই সিস্টেম যেমন একদিকে সময় ও অর্থ সাশ্রয় করছে।
অন্যদিকে ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এনেছে।
ডিজিটাল এই পদ্ধতি অনুসরণ করে আপনিও নিশ্চিন্তে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরো পোস্ট


