অনলাইনে নাগরিক সনদ আবেদন করার প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। আপনি চাইলেই যেকোন প্রয়োজনে ঘরে বসে অনলাইনে এই নাগরিকত্ব সনদের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আপনার হাতে থাকা মোবাইল বা কম্পিউটারের সাহায্যে খুব সহজেই এই নাগরিক সনদ বা জাতীয়তা সনদ পাওয়ার জন্য আবেদন করে সনদটি হাতে পাওয়া যায়।

খুব সহজেই এই সনদটি পাওয়ার জন্য কিভাবে আবেদন করতে হবে, আবেদন করতে কি কি লাগবে ও অনলাইনে আবেদনের কি কি সুবিধা রয়েছে সেই সম্পর্কে এই ব্লগে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

এছাড়া এই সনদ করতে কত টাকা ফি লাগবে, সেই সম্পর্কেও জানতে পারবেন।

বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ও সরকারি কাজে নাগরিকত্ব সনদের প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইনে নাগরিক সনদ আবেদন

দেখে নিন কি কি কারণে আমাদের এই সনদের প্রয়োজন হতে পারে-

১. নতুন জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরিতে

২. জমি রেজিস্ট্রি, নামজারি ও উত্তরাধিকারী সূত্রে সম্পত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন হয়

৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে

৪. ব্যাংক একাউন্ট খুলতে

৫. বিভিন্ন সরকারি ভাতা পেতে

৬. ওয়ারিশ সার্টিফিকেট, বিবাহ করতে ও আরো নানা প্রয়োজনে এই সনদের প্রয়োজন হয়।

অনলাইনে নাগরিক সনদ আবেদন করতে কি কি লাগবে?

অনলাইনে জাতীয়তা সনদ বা নাগরিকত্ব সনদ পেতে যা যা লাগবে তা হল-

১. আপনার এন আইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট

২. আপনার পিতার নাম ও মাতার নাম

৩. স্থায়ী ঠিকানা ও বর্তমান ঠিকানা

৪. একটি সচল মোবাইল নম্বর

৫. আপনার ছবি

অনলাইনে নাগরিক সনদ আবেদন করার নিয়ম ধাপে ধাপে

অনলাইনে নাগরিকত্ব সনদ করার জন্য আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের প্রয়োজন হবে।

মোবাইল বা কম্পিউটারে অবশ্যই ইন্টারনেট থাকতে হবে।

এখন দেখে নিন কিভাবে খুব সহজে আবেদন করবেন-

ধাপ ১ঃ নাগরিক একাউন্ট তৈরি

প্রথমে এই লিংকে https://prottoyon.gov.bd ক্লিক করুন।

উপরের মেনু থেকে ‘ফ্রি নাগরিক একাউন্ট’ বাটনে ক্লিক করুন।

পরবর্তী পেজে সাধারণ নিবন্ধন থেকে আপনার নাম ইংরেজিতে ও বাংলায় লিখুন।

এরপর আপনার মোবাইল নম্বর দিন।

একদম শেষে নিচের ক্যাপচা পূরণ করে ‘নিবন্ধন করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।

পরবর্তী পেজে আপনার মোবাইলে একটি ওটিপি আসবে। সেটি দিয়ে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করুন।

এরপর এসএমএসের মাধ্যমে আপনার মোবাইলে একটি ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড আসবে, সেটি সংরক্ষণ করুন।

ধাপ ২ঃ লগইন করা

উপরের মেনুর লগইন বাটনে ক্লিক করুন।

এখানে আপনার মোবাইল নাম্বার ও আপনি এসএমএস এর মাধ্যমে যেই পাসওয়ার্ডটি পেয়েছেন সেটি দিয়ে ‘লগইন’ বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩ঃ প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ করুন

লগইন করার পর আপনার ড্যাশবোর্ড দেখতে পাবেন।

এখান থেকে বাম পাশের প্রোফাইল ব্যবস্থাপনাতে ক্লিক করুন।

সকল তথ্য থেকে, আপনার নাম বাংলা ও ইংরেজিতে, পিতার নাম বাংলা ও ইংরেজিতে, মাতার নাম বাংলা ও ইংরেজিতে, স্বামী বা স্ত্রীর নাম বাংলা ও ইংরেজিতে (যদি থাকে), মোবাইল নাম্বার, জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার দিন।

এরপর বর্তমান ঠিকানা থেকে সকল তথ্য পূরণ করুন।

এভাবে স্থায়ী ঠিকানা থেকে সকল তথ্য পূরণ করুন।

এরপর শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করে দিন।

এভাবে আপনার প্রোফাইলটি ১০০% সম্পূর্ণ করে নিন।

ধাপ ৪ঃ নাগরিকত্ব সনদের জন্য আবেদন

প্রোফাইল সম্পন্ন করার পর ‘ড্যাশবোর্ড’ বাটনে ক্লিক করুন।

এরপর ‘নাগরিকত্ব সনদ’ এর উপর ক্লিক করুন।

এরপর পরবর্তী পেজে আবেদন করুন বাটনে ক্লিক করুন।

পরবর্তী পেজে আপনার তথ্য হালনাগাদ করুন নামে একটি অপশন আসবে।

আপনি যদি আপনার প্রোফাইলটি ১০০% পূর্ণ করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে সকল তথ্য এমনি চলে আসবে।

এখান থেকে ‘সব ঠিক আছে’ বাটনে ক্লিক করুন।

এরপর পরবর্তী পেজে আপনি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই নাগরিকত্ব সনদ নিতে পারবেন।

এর জন্য বাংলা ও ইংরেজি উভয়েই টিক দিন।

আপনার নাগরিকত্ব সনদের জন্য কত টাকা ফি কাটবে তা ডান দিকে দেখতে পাবেন।

এখানে সাধারণত ৩০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত ফি হয়ে থাকে।

এরপর নিচে sslcommerz সিলেক্ট করে ফি ‘পরিশোধ করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৫ঃ ফি পরিশোধ করা

এখানে আপনি বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি বিভিন্ন অপশন দেখতে পাবেন।

আপনি যে মাধ্যমে ফি পরিশোধ করবেন, সেটি সিলেক্ট করে আপনার অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিয়ে ফি পরিশোধ করে দিন।

ধাপ ৬ঃ খসড়া সনদ প্রিন্ট

আপনি যে নাগরিক সনদের জন্য আবেদন করলেন তার খসড়া সনদটি প্রিন্ট করার জন্য ড্যাশবোর্ড বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এরপর ‘আবেদন সমূহ’ তে ক্লিক করতে হবে।

এখানে আপনার আবেদনটি দেখতে পাবেন ও ‘খসড়া সনদ দেখুন’ বাটন দেখতে পাবেন।

সেই বাটনে ক্লিক করে সনদটি প্রিন্ট করে নিন।

ধাপ ৭ঃ কার্যালয় থেকে অরিজিনাল নাগরিক সনদ সংগ্রহ করা

আপনার এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় বা ওয়ার্ড কাউন্সিলের কার্যালয়ে যেয়ে মোবাইল নাম্বার, এনআইডি কার্ড এর ফটোকপি ও খসড়া সনদের প্রিন্টের কপিটি তাদের কাছে দিলে, একদিনের মধ্যে আপনার অরিজিনাল নাগরিক সনদটি নিতে পারবেন।

অনলাইনে নাগরিক সনদ আবেদন করার সুবিধা গুলি কি কি

আপনার মনে প্রশ্ন হতে পারে যে, আমাকে যদি কার্যালয়ে যেতেই হয় তাহলে অনলাইনে আবেদন করে কি লাভ?

জেনে নিন অনলাইনে আবেদন করার কি কি সুবিধা-

১. অনলাইনে যেহেতু আপনি নিজে আবেদন করছেন, তাই এখানে কোন প্রকার বানানের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।

২. আপনাকে কষ্ট করে বারবার কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে না।

৩. কার্যালয়ে যেয়ে নাগরিক সনদ করলে আপনার অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।

কিন্তু আপনি যদি নিজেই ঘরে বসে করেন তাহলে খুবই অল্প খরচেই এটি করতে পারবেন।

৪. অনলাইনে ঘরে বসে নিজের প্রোফাইলের মাধ্যমে এটি করলে, আপনার কাছে আজীবনের একটি রেকর্ড থাকবে।

আপনি যে কোন প্রয়োজনে ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এই ধরনের নাগরিক সনদ থেকে শুরু করে যে কোন সনদ খুঁজে নিতে পারবেন ও তৈরি করতে পারবেন।

৫. আজকাল অনেক কার্যালয়ে গেলেও তারা অনলাইনে আবেদনের কাগজ নিয়ে আসতে বলে, সে ক্ষেত্রে আপনি নিজেই ঘরে বসে আবেদন করলে সুবিধা পাবেন।

FAQ: অনলাইনে নাগরিক সনদ আবেদন

১. নাগরিকত্ব সনদ আবেদনের জন্য কত টাকা লাগে?

সাধারণত অনলাইনে এই সনদ আবেদনের জন্য ৩০ থেকে ১০০ টাকার মতো খরচ হয়, যা বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পরিশোধ করা যায়।

২. অনলাইনে আবেদন করার কত দিন পর মূল সনদ হাতে পাওয়া যায়?

সাধারণত মূল সনদ কার্যালয় থেকে পেতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মতো সময় লাগে।

৩. নাগরিকত্ব সনদের মেয়াদ কতদিন থাকে?

সাধারণত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একটি নাগরিকত্ব সনদের মেয়াদ তিন থেকে ছয় মাস হয়ে থাকে।

উপসংহার

অনলাইনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব সনদ পাওয়ার এই প্রক্রিয়াটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অনেক উপকারে এসেছে।

আমরা এখন ঘরে বসে যে কোন জায়গা থেকে মোবাইল বা কম্পিউটারের সাহায্যে সনদের জন্য আবেদন করতে পারছি।

এতে করে আমাদের সময়ের অপচয় কম হচ্ছে ও প্রযুক্তির ব্যবহার শেখা যাচ্ছে।

আর নিজেরাই আবেদন করার ফলে ভুল ত্রুটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছেনা।

এছাড়া আমাদের কাছে আজীবনের জন্য এই সনদের অনলাইনে রেকর্ড থাকছে।

আশা করি আপনারা ঘরে বসে খুব সহজেই নিজের নাগরিকত্ব বা জাতীয়তা সনদের জন্য নিজে আবেদন করতে পারবেন।