অনলাইন থেকে অর্থ উপার্জনের জন্য অনেক বিদেশি ইনকাম সাইট রয়েছে।

বর্তমানে ইন্টারনেটের এই যুগে ঘরে বসে আয় করার বিষয়টি খুব বেশি কঠিন নয়।

এখন অনেকেই অনলাইনে ফ্রিল্যান্সিং করে বা বিভিন্ন আর্নিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করে ডলার ইনকাম করছেন।

বর্তমানে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণী বিদেশি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করে প্রতি মাসে কয়েক কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে আনছেন।

তবে কাজ করার জন্য আপনাকে অবশ্যই রিয়েল ইনকাম সাইট চিনতে হবে।

ইনকাম করার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্বস্ত ইনকাম সাইট থেকে আয় করতে হবে।

আজকের এই ব্লগে আমরা এমন ১০টি সেরা ডলার আয় করার সাইট সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

সঠিক দক্ষতা থাকলে এবং নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে বিদেশি সাইট থেকে অবশ্যই আয় করা সম্ভব।

বিদেশি ইনকাম সাইট

বর্তমানে বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষ আপওয়ার্ক বা ফাইভারের মতো সাইটে কাজ করে নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করছেন।

তবে এক্ষেত্রে ধৈর্য এবং কাজের মানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়।

সঠিক নিয়েমে ও সঠিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করলে, অবশ্যই আপনি বিদেশি ইনকাম সাইটগুলি থেকে ডলার আয় করতে পারবেন।

তবে আপনাকে কখনোই ইনকাম করার ক্ষেত্রে ডিপোজিট করা যাবেনা।

আপনি সব সময় ফ্রি টাকা ইনকাম সাইট থেকে আয় করার চেষ্টা করতে হবে।

সেরা বিদেশি ইনকাম সাইট সমূহ

বিদেশি সাইটে কাজ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কাজের উচ্চমূল্য এবং সময়মতো পেমেন্ট।

নিচে জনপ্রিয় ১০টি সাইটের তালিকা দেওয়া হলো:

১. Upwork

এটি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনি ডাটা এন্ট্রি, রাইটিং, ওয়েব ডিজাইন, টাইপিং থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরণের পেশাদার কাজ পাবেন।

এই সাইটে কাজ করার জন্য আপনাকে ভালো করে কাজ শিখতে হবে।

আপনি ডাটা এন্ট্রির মত সহজ কাজ দিয়ে শুরু করতে পারেন।

এই সাইটে কাজ করার পূর্বে আপনাকে এখানে একাউন্ট খুলতে হবে ও প্রোফাইল তৈরি করতে হবে।

Upwork ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Get Started’ বাটনে ক্লিক করে ইমেইল ভেরিফিকেশন করার পর একটি পেশাদার প্রোফাইল এবং পোর্টফোলিও তৈরি করে অনুমোদনের জন্য জমা দিতে হয়।

এখানে আওয়ারলি বা ফিক্সড প্রাইসে কাজ করা যায়।

এই সাইট মূলত আপনার দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।

আপনি যত বেশি কাজ করবেন, তত বেশি আয় হবে।

অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে এই সাইটে কাজ করে আপনি প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন।

এই ইনকাম ভবিষ্যতে আরো বাড়াতে পারবেন।

এই সাইট থেকে সরাসরি ব্যাংক এর মাধ্যমে ইনকামের টাকা তুলতে পারবেন।

Fiverr আরো একটি জনপ্রিয় আর্নিং সাইট। এখানে ফ্রিল্যান্সাররা তাদের দক্ষতাকে ছোট ছোট ‘গিগ‘ বা সার্ভিস প্যাকেজ হিসেবে বিক্রয় করতে পারেন।

ফাইভারের ওয়েবসাইটে ইমেইল দিয়ে সাইন-আপ করার পর ‘Become a Seller’ অপশনে গিয়ে প্রোফাইল সেটআপ সম্পন্ন করে অন্তত একটি গিগ পাবলিশ করতে হয়।

এখানে ৫ ডলার থেকে শুরু করে হাজার ডলারের কাজ পাওয়া যায়।

ফাইভারে কয়েকশ ক্যাটাগরিতে কাজ করা যায়।

এখানে আপনি গ্রাফিক ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং, রাইটিং, ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি কাজ করে মাসে ৩০ হাজার টাকা অনায়েসেই আয় করতে পারবেন।

আপনার ইনকাম দক্ষতা বাড়ার সাথে সাথে ইনকাম বাড়তে থাকবে।

আপনি সরাসরি আপনার Payoneer (পেওনিয়ার) অ্যাকাউন্টে ডলার ট্রান্সফার করতে পারবেন।

পেওনিয়ারে ডলার চলে আসলে সেটি মুহূর্তের মধ্যেই বিকাশ, নগদ বা অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি টাকায় কনভার্ট করে হাতে পেতে পারেন।

Freelancer.com হলো বিশ্বের অন্যতম বড় এবং পুরোনো বিদেশি ইনকাম সাইট।

এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং বিশাল একটি মার্কেটপ্লেস যেখানে বিডিং এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা কাজ খুঁজে পায়।

ওয়েবসাইটের ‘Sign Up’ বাটনে ক্লিক করে ইমেইল দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করার পর নিজের দক্ষতা বা স্কিল সেটগুলো যুক্ত করতে হয়।

এখানে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি, কন্টেন্ট রাইটিং এবং অ্যাপ ডেভেলপমেন্টসহ প্রায় সব ধরনের কাজ পাওয়া যায়।

কাজের ধরন এবং দক্ষতার ওপর নির্ভর করে একজন ফ্রিল্যান্সার এখান থেকে মাসে ২০ হাজার টাকা বা তারও বেশি আয় করতে পারেন।

আয়ের টাকা খুব সহজে পেওনিয়ার (Payoneer), সরাসরি লোকাল ব্যাংক ট্রান্সফার বা এক্সপ্রেস উইথড্রয়ালের মাধ্যমে তুলে নেওয়া যায়।

অবশ্যই পড়ুনঃ

আমাজনের এই সাইটটিতে ছোট ছোট কাজ (Micro-tasks) করে আয় করা যায়।

যেমন ডাটা এন্ট্রি, ছবি শনাক্তকরণ বা ছোট সার্ভে। যাদের বিশেষ কোনো বড় স্কিল নেই, তারা এখানে চেষ্টা করতে পারেন।

অ্যামাজন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এমটার্ক (mTurk) সাইটে গিয়ে ‘Request a Worker Account’ বাটনে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য জমা দিতে হয় এবং অ্যামাজন কর্তৃক আমন্ত্রণের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

এখানে ছোট ছোট কাজের বিনিময়ে ডলার পাওয়া যায়। এটি পার্ট-টাইম হিসেবে ভালো।

এই সাইট থেকে প্রতিমাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

এছাড়া এই সাইট থেকে আপনি আপনার আয় করা ডলার দিয়ে আমাজন থেকে কেনাকাটা করতে পারেন।

এখান থেকে সরাসরি ব্যাংকে টাকা আনার জন্য Hyperwallet বা ইউএস ভার্চুয়াল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হয়।

এরপর সেই টাকা আপনি বিকাশ বা ব্যাংকে নিয়ে আসতে পারেন।

টপটাল হলো বিশ্বের শীর্ষ ৩% দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি প্রিমিয়াম প্ল্যাটফর্ম যেখানে অত্যন্ত উচ্চমানের ক্লায়েন্টের সাথে কাজ করা যায়।

আয় করার জন্য ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হয় এবং সেখানে ভাষা দক্ষতা থেকে শুরু করে প্রজেক্ট রিভিউ পর্যন্ত ৫টি ধাপের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করতে হয়।

এখানে মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডিজাইন, ফাইন্যান্স এক্সপার্ট, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এবং প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট ক্যাটাগরিতে কাজ পাওয়া যায়।

দক্ষতার স্তর ও কাজের ঘন্টার ওপর ভিত্তি করে এখান থেকে গড়ে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা আয় বা তারও বেশি আয় করা সম্ভব।

আয়ের টাকা সাধারণত পেওনিয়ার (Payoneer), সরাসরি লোকাল ব্যাংক ট্রান্সফার বা পেপ্যালের (PayPal) মাধ্যমে উত্তোলন করা যায়।

এটি একটি জনপ্রিয় ইউরোপীয় বিদেশি ইনকাম সাইট, যা দক্ষ পেশাদারদের সাথে বিশ্বজুড়ে ক্লায়েন্টদের যুক্ত করে দেয়।

ওয়েবসাইটে গিয়ে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে সাইন-আপ করে একটি প্রোফাইল তৈরি করতে হয় যা পরে তাদের বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা অনুমোদিত হতে হয়।

এখানে এসইও (SEO), কন্টেন্ট রাইটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক ডিজাইন এবং ডিজিটাল মার্কেটিং সংক্রান্ত প্রচুর কাজ পাওয়া যায়।

নির্দিষ্ট প্রজেক্টে বিড করার পাশাপাশি ‘Offer’ বা গিগ তৈরি করে এবং ঘণ্টা চুক্তিতে কাজের মাধ্যমে এখান থেকে ফ্রি টাকা আয় করা যায়।

কাজের দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে গড়ে ৪০০ ডলার থেকে ২,৫০০ ডলার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

আয়ের অর্থ সাধারণত পেওনিয়ার (Payoneer), পেপ্যাল (PayPal) অথবা সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে তোলা যায়।

৭. 500px

500px হলো একটি জনপ্রিয় ছবি বিক্রি করে আয় করার সাইট। যেখানে আপনার তোলা উচ্চমানের ছবি লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিক্রি করে ডলার আয় করা সম্ভব।

এখানে আয়ের প্রধান উপায় হলো আপনার ছবিগুলো ‘Marketplace’-এ আপলোড করা।

500px ওয়েবসাইটে গিয়ে ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সাইন-আপ করে একটি ফটোগ্রাফি প্রোফাইল তৈরি করলেই অ্যাকাউন্ট খোলা সম্পন্ন হয়।

প্রোফাইলে লগইন করে ‘Upload’ বাটনে ক্লিক করে নিজের তোলা উচ্চমানের ছবি নির্বাচন করার পর সঠিক শিরোনাম, ট্যাগ এবং বর্ণনা দিয়ে সাবমিট করতে হয়।

যখনই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আপনার ছবির বাণিজ্যিক ব্যবহারের অধিকার কিনবে, আপনি তার একটি নির্দিষ্ট অংশ (সাধারণত ৬০% পর্যন্ত রয়্যালটি) কমিশন হিসেবে পাবেন।

আয়ের পরিমাণ সম্পূর্ণ নির্ভর করে ছবির গুণমান এবং চাহিদার ওপর।

সাধারণত নতুন অবস্থায় দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হতে পারে।

এখান থেকে উপার্জিত টাকা সাধারণত Payoneer (পেওনিয়ার) বা PayPal-এর মাধ্যমে উত্তোলন করা যায়।

যা পরবর্তীতে আপনি খুব সহজেই আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্ট বা স্থানীয় ব্যাংকে নিয়ে আসতে পারবেন।

রিলেটেডঃ অনলাইনে ছবি বিক্রি করে টাকা আয় করার উপায়

Rev হলো একটি জনপ্রিয় ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম।

রেভ (Rev) এর ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Become a Freelancer’ অপশনে ক্লিক করে ফর্ম পূরণ করতে হয় এবং এরপর একটি ছোট ইংরেজি ব্যাকরণ ও ট্রান্সক্রিপশন টেস্টে উত্তীর্ণ হয়ে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করতে হয়।

এখানে মূলত অডিও বা ভিডিও শুনে তা টেক্সটে রূপান্তর (Transcription), ক্যাপশন তৈরি (Captioning) বা বিদেশি ভাষার সাবটাইটেল লিখে ডলার আয় করা যায়।

এই সাইটে কাজ করে একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার দিনে ৫০০ টাকা ইনকাম করতে পারেন।

আয়ের টাকা উত্তোলনের প্রধান মাধ্যম হলো PayPal.

তবে বাংলাদেশে পেপ্যাল সরাসরি না থাকায় অনেক ফ্রিল্যান্সার ভার্চুয়াল মাস্টারকার্ড বা অন্য গেটওয়ের মাধ্যমে সেই ডলার Payoneer-এ নিয়ে আসেন।

যা পরবর্তীতে সরাসরি বিকাশ বা স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে উত্তোলন করা সম্ভব।

Teachable হলো একটি অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম।

এই সাইট থেকে আয় করার জন্য তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Get Started’ বাটনে ক্লিক করে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্পন্ন করা যায়।

এখানে আপনার কোনো বিশেষ দক্ষতা বা জ্ঞান (যেমন: গ্রাফিক ডিজাইন, প্রোগ্রামিং বা রান্নার কোর্স) ভিডিও টিউটোরিয়াল আকারে আপলোড করে, কোর্স বিক্রি করে ডলার আয় করা যায়।

আয়ের প্রধান উপায় হলো নিজের তৈরি কোর্সের মূল্য নির্ধারণ করা এবং যতবার কোনো শিক্ষার্থী সেই কোর্সটি কিনবে, ততবার আপনি নির্দিষ্ট ফি বা রয়্যালটি পাবেন।

আয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।

তবে ভালো মানের কোর্সের মাধ্যমে সপ্তাহে ৪০০০ টাকা বা তারও বেশি টাকা আয় করা সম্ভব।

এখান থেকে অর্জিত টাকা সরাসরি Payoneer (পেওনিয়ার) বা PayPal-এর মাধ্যমে উত্তোলন করা যায়।

যা পরবর্তীতে খুব সহজেই আপনার বিকাশ, নগদ, রকেট, পেটিএম ইত্যাদি অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসা সম্ভব।

১০. Usertesting

UserTesting হলো একটি জনপ্রিয় বিদেশি ইনকাম সাইট।

এই সাইটে গিয়ে নিজের ইমেইল এড্রেস দিয়ে সাইন-আপ করার পর একটি ছোট প্র্যাকটিস টেস্ট বা নমুনা পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়।

এখানে নতুন কোনো ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা ফিডব্যাক শেয়ার করার মাধ্যমে ডলার আয় করা যায়।

এই সাইট থেকে আয়ের প্রধান উপায় হলো ছোট ছোট ২০ মিনিটের টেস্ট সম্পন্ন করা।

এই সাইট থেকে আপনার দিনে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অনায়াসেই আয় করা সম্ভব।

এখান থেকে অর্জিত টাকা উত্তোলনের প্রধান মাধ্যম হলো PayPal।

যা সরাসরি বাংলাদেশে না থাকলেও অনেক ব্যবহারকারী পেওনিয়ার বা ভার্চুয়াল কার্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করেন।

পরবর্তীতে তা খুব সহজেই বিকাশ বা স্থানীয় যেকোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসা সম্ভব।

বিদেশি ইনকাম সাইট সম্পর্কে কিছু কথা

অনলাইন আয় কোনো লটারি বা জাদুর কাঠি নয়।

বরং এখানে সফল হতে হলে ডাটা এন্ট্রি, আর্টিকেল রাইটিং বা এসইও-এর মতো সুনির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জন এবং ধৈর্য ধরে টিকে থাকা অপরিহার্য।

বিশেষ করে “ক্লিক করলেই টাকা” বা অগ্রিম বিনিয়োগের মতো প্রলোভনগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া।

কারণ প্রকৃত বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলো কাজ দেওয়ার বদলে কখনোই টাকা দাবি করে না।

প্রথম কাজ পেতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস খানেক সময় লাগতে পারে।

তাই শর্টকাট উপায়ের পেছনে না ছুটে ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে দক্ষ করে তোলাই হলো অনলাইন আয়ের আসল চাবিকাঠি।

FAQ: বিদেশি ইনকাম সাইট

১. এই সাইটগুলোতে কাজ শুরু করতে কি কোনো টাকা জমা দিতে হয়?

না। Upwork, Fiverr বা Toptal – এর মতো বিশ্বস্ত বিদেশি সাইটগুলো কাজ দেওয়ার জন্য কখনোই আপনার কাছে টাকা বা ‘রেজিস্ট্রেশন ফি’ চাইবে না।

২. ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য কি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থাকা বাধ্যতামূলক?

প্রফেশনাল কাজ যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ওয়েব ডেভেলপমেন্টের জন্য ল্যাপটপ বা পিসি থাকা প্রয়োজন।

তবে ডাটা এন্ট্রি, কন্টেন্ট রাইটিং বা ইউটিউব ভিডিও তৈরির মতো কিছু কাজ স্মার্টফোন দিয়েই শুরু করা সম্ভব।

৩. মাসে কত টাকা আয় করা সম্ভব?

আয়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার দক্ষতা এবং আপনি প্রতিদিন কতটুকু সময় দিচ্ছেন তার ওপর।

৪. বিদেশি সাইট থেকে টাকা সরাসরি বিকাশে আনা যায়?

হ্যাঁ, বিকাশের রেমিট্যান্স অপশনে গিয়ে Payoneer অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে আপনি সরাসরি ডলার টাকায় রূপান্তর করে বিকাশে আনতে পারেন।

৫. ইংরেজি কি খুব ভালো জানতে হয়?

ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলার বা কাজের ইনস্ট্রাকশন বোঝার মতো প্রাথমিক ইংরেজি জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

উপসংহার – বিদেশি ইনকাম সাইট

পরিশেষে বলা যায়, অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম এখন কোন অবাস্তব বিষয় নয়।

আপনি যদি ধৈর্য সহকারে কাজ শিখতে পারেন ও এই ১০টি সাইটগুলির যেকোন এক বা দুইটি সাইটে কাজ করে আয় করার চেষ্টা করেন।

তাহলে আপনিও সফল হবেন।

আর এই বিদেশি সাইট গুলিতে কাজ করে ডলার ইনকাম করতে পারবেন।

ফেক ও ডিপোজিট করে ইনকাম সাইট থেকে দূরে থাকুন। সব সময় ট্রেস্টেড সাইটে কাজ করুন।