তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় সুখবর নিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার।
নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি আর উৎসবের বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাওয়া নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য চালু হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’।
বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের অঙ্গীকার ও তারেক রহমানের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি এখন বাস্তবায়নের পথে।
এই রমজান মাসেই আপনি পেতে পারেন, এই কার্ড এমন খরব পাওয়া যাচ্ছে।
২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই এই কার্ডের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তারেক রহমানের ভিশন অনুযায়ী, এটি কেবল একটি কার্ড নয়, বরং দেশের প্রতিটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার একটি রক্ষাকবচ।
এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
বিশেষ করে পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করতে এই কার্ডটি মূলত গৃহকর্ত্রীদের নামে ইস্যু করা হচ্ছে।
এই কার্ডের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো।
জেনে নিন, এই কার্ডের সুবিধা কি ও কারা কারা এই কার্ড পাবেন ও কিভাবে এটি পাওয়া যাবে।
ফ্যামিলি কার্ড এর সুবিধা
এই কার্ড অন্যান্য সাধারণ কার্ডের চেয়ে আলাদা। এর অনেক সুবিধা রয়েছে।
এই কার্ডটি থাকলে একটি সাধারণ পরিবার মাসে অন্তত এক সপ্তাহের বাজার খরচ এবং সন্তানদের ছোটখাটো আবদার মেটানোর দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাবে।
নিচে এই কার্ডের সুবিধাগুলি দেওয়া হল-
১. সরাসরি নগদ সহায়তা:
প্রতি মাসে কার্ডধারী পরিবার ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা পাবেন। যা একটি পরিবারের জরুরি খরচ মেটাতে সাহায্য করবে।
২. ডিজিটাল ও স্বচ্ছ পদ্ধতি:
এটি একটি স্মার্ট কার্ড, যা এনআইডি (NID) ডাটাবেজের সাথে যুক্ত। ফলে এখানে নাম জালিয়াতি বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না।
৩. ঈদের বিশেষ বোনাস:
২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরের আগেই প্রথম কিস্তির টাকা ও বিশেষ সহায়তা কার্ডধারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।
৪. পণ্য ক্রয়ে ছাড়:
কার্ডের মাধ্যমে নির্ধারিত আউটলেট থেকে চাল, ডাল, তেল ও চিনি বাজারমূল্যের চেয়ে অনেক কম দামে কেনার সুযোগ থাকবে।
৫. জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন:
নিত্যপণ্যের আকাশচুম্বী দামের কারণে যারা তিনবেলা ঠিকমতো খেতে পারছিলেন না, এই কার্ড তাদের আর্থিক চাপ অনেক কমিয়ে আনবে।
ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা কারা পাবেন
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় যখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন একটি আশার আলো হয়ে সামনে এসেছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’।
বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের অঙ্গীকার এবং তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কার্ডটি কেবল একটি প্লাস্টিকের টুকরো নয়।
বরং এটি কোটি কোটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার এক নতুন হাতিয়ার।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি একটি সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি।
তবে শুরুতে কিছু নির্দিষ্ট গ্রুপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে:
১. পরিবারের নারী বা গৃহকর্ত্রী:
এই কার্ড মূলত পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক নারী সদস্যদের নামে ইস্যু করা হবে। তারেক রহমানের পরিকল্পনা হলো, মা বা গৃহিণীদের হাতে টাকা পৌঁছে দিয়ে তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।
২. হতদরিদ্র পরিবার:
প্রথম ধাপে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র এবং প্রান্তিক পরিবারগুলোকে এই তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে।
৩. নিম্ন-আয় ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত:
পর্যায়ক্রমে ৪ থেকে ৫ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে মধ্যবিত্ত পরিবারের আর্থিক সংকটও কমে।
৪. বেকার জনগোষ্ঠী:
যেসব পরিবারে আয়ের প্রধান উৎস নেই বা যারা বেকারত্বের শিকার, তারাও অগ্রাধিকার পাবেন।
ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাওয়া যাবে?
তারেক রহমানের ঘোষিত এবং বর্তমান সরকারের (২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে) এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত আধুনিক এবং ডিজিটাল করা হয়েছে।
যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের ঝামেলা না থাকে। সরকার মূলত দুটি উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করবে।
সেগুলি হল – বাড়ি বাড়ি যেয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নাম দিয়ে একটি বিশেষ সরকারি অ্যাপ বা ওয়েবসাইট চালু করার মাধ্যমে।
এর ধাপ হতে পারে-
১. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া
আবেদনের সময় বা তথ্য সংগ্রহের সময় জরুরী কাগজ বা তথ্য দিতে হতে পারে।
যেমনঃ গৃহকর্ত্রীর এনআইডি (NID), সক্রিয় মোবাইল নম্বর, পরিবার পরিকল্পনা সনদ বা জন্ম নিবন্ধন, আয়ের তথ্য।
২. যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া
আবেদন করার পর সরকারি ডাটাবেজের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে।
এক্ষেত্রে এনআইডি যাচাই হবে ও আর্থিক অবস্থা ও সরকারি অন্যান্য ভাতা (যেমন- বয়স্ক ভাতা বা বিধবা ভাতা) পাচ্ছেন কি না, তা দেখে অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি হবে।
৩. কার্ড বিতরণ
যাচাই শেষে চূড়ান্ত তালিকাভুক্তদের মোবাইল ফোনে এসএমএস (SMS) পাঠানো হবে।
এরপর সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন অফিস থেকে ডিজিটাল স্মার্ট কার্ডটি সংগ্রহ করতে হবে।
৪. হেল্পলাইন ও সহায়তা
কার্ড সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগের জন্য একটি নির্দিষ্ট শর্টকোড নম্বর (যেমন- ১৬xxx) চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
যেখানে কল করে সরাসরি তথ্য জানা যাবে ।
তবে এই কার্ড পাওয়ার ব্যাপারে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া খুব দ্রুত জানা যাবে।
কবে থেকে ফ্যামিলি কার্ড এর সুবিধা পাওয়া শুরু হবে?
এটি অনেক গুরত্বপূর্ণ। কারণ এটি খারাপ অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর একটি কার্যকর পদক্ষেপ।
সরাসরি মানুষের হাতে টাকা পৌঁছালে বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
সরকার ইতিমধ্যে দেশের ৮টি বিভাগে পাইলট প্রজেক্ট শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
ডিজিটাল অ্যাপের মাধ্যমেও খুব শীঘ্রই আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
তারেক রহমানের ঘোষিত এবং ২০২৬ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে।
কবে থেকে এটি পুরোপুরি চালু হবে এবং কবে নাগাদ সুবিধা পাওয়া যাবে, তার একটি সম্ভাব্য সময়সূচী নিচে দেওয়া হলো:
১. কার্যক্রম শুরুর সময়
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই মাঠ পর্যায়ে এই কার্ডের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী:
তথ্য যাচাই: ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
পাইলট প্রজেক্ট: ইতিমধ্যে দেশের ৮টি বিভাগের নির্দিষ্ট কিছু উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।
২. কার্ড বিতরণ ও সুবিধা প্রাপ্তি
পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই তালিকাভুক্ত পরিবারগুলোর হাতে ডিজিটাল ‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার কথা চিন্তা করা হচ্ছে।
প্রথম কিস্তির টাকা: মার্চ মাসের মাঝামাঝি বা রমজানের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে কার্ডধারীদের মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) অ্যাকাউন্টে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা (২,৫০০ টাকা) পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
৩. ঈদুল ফিতরের বিশেষ সুবিধা
ঈদুল ফিতরের ঠিক ১০-১৫ দিন আগে কার্ডধারীদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
ঈদের সেমাই, চিনি, দুধ ও রান্নার তেলের মতো পণ্যগুলো এই কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ ছাড়ে ডিলার পয়েন্ট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
৪. পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম
ঈদের পর থেকে এই কর্মসূচিটি দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে (লক্ষ্যমাত্রা ৫ কোটি পরিবার) নিয়মিত মাসিক ভিত্তিতে চালু করার কথা চিন্তা করা হচ্ছে।
প্রতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে কার্ডের সুবিধাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হবে।
সতর্কবার্তা: যেহেতু এটি একটি বিশাল প্রজেক্ট। তাই এলাকাভেদে কার্ড পৌঁছাতে কয়েকদিন আগে-পরে হতে পারে।
আপনার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসে নিয়মিত খোঁজ রাখতে হবে।
FAQ: ফ্যামিলি কার্ড
১. ফ্যামিলি কার্ড কি?
এটি একটি ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড, যার মাধ্যমে দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে নিয়মিত আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।
এটি মূলত একটি সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি।
২. এই কার্ডে কত টাকা পাওয়া যাবে?
এখন পর্যন্ত সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি কার্ডধারী পরিবার প্রতি মাসে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা পাবেন।
তবে প্রয়োজনে সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য (যেমন চাল, ডাল, তেল) নেওয়ার সুযোগও থাকতে পারে।
৩. যারা আগে থেকে সরকারি ভাতা পান, তারা কি এই কার্ড পাবেন?
হ্যাঁ পাবেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা অন্যান্য সরকারি ভাতা যারা পাচ্ছেন, তাদের বর্তমান সুবিধাগুলো চালু থাকবে।
ফ্যামিলি কার্ড হবে একটি অতিরিক্ত সুবিধা।
৪. কার্ড পাওয়ার জন্য কোথাও টাকা দিতে হবে কি?
একেবারেই না। এই কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারিভাবে বিতরণ করা হবে। কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীকে টাকা দেবেন না।
৫. কার্ডটি কি শুধুমাত্র মেয়েদের নামেই হবে?
হ্যাঁ। তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কার্ডটি মূলত পরিবারের গৃহকর্ত্রী বা নারী সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে।
এর লক্ষ্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন এবং সংসারের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।
উপসংহার – ফ্যামিলি কার্ড
তারেক রহমানের এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কেবল একটি সাময়িক সহায়তা নয়, বরং এটি দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।
দ্রব্যমূল্যের এই কঠিন সময়ে সরাসরি নগদ অর্থ এবং নিত্যপণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের একটি সাহসী ও মানবিক পদক্ষেপ।
বিশেষ করে পরিবারের মা ও বোনদের নামে এই কার্ড ইস্যু করার সিদ্ধান্তটি দেশের নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে এক ধাপ এগিয়ে দেবে।
যদি স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে এই সুবিধা পৌঁছানো যায়।
তবে এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং সফল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি।
আমরা আশা করি, এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরিবার একটি অভাবমুক্ত, সুন্দর এবং সমৃদ্ধ জীবন গড়ার পথে এগিয়ে যাবে।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরো পোস্ট


