আমরা সকলেই ইউটিউব সম্পর্কে অবগত। আমরা জানব, কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করা যায়। 

এটি হল একটি ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম

ইউটিউবে প্রতিদিন হাজার হাজার ভিডিও আপলোড হচ্ছে।

যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে অর্ধেক মানুষই প্রতিদিন Youtube এ লগইন করে থাকেন।

এখানে সবাই এমনি এমনি ভিডিও আপলোড করেন না।

যারা প্রতিনিয়িত ভিডিও আপলোড করছেন, তারা এখান থেকে বেশ ভালো পরমাণের টাকা ইনকাম করছেন। তাহলে আপনি কেন পিছিয়ে থাকবেন?

আপনিও খুব সহজে ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন।

আমরা যেমন ফেসবুকে ভিডিও আপলোড করে, ফেসবুক থেকে আয় করতে পারি। ঠিক তেমনি ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারি। আমরা এই ব্লগে জানবঃ

কিভাবে ইউটিউব থেকে ইনকাম করা যায়?

ইউটিউব থেকে কিভাবে টাকা তোলা যায়?

ইউটিউব থেকে কত টাকা প্রতিমাসে আয় করা যায়?

আজকাল অনেকেই ইউটিউবে ভিডিও বানিয়ে রাতারাতিন সেলিব্রিটি (Celebrity) হয়ে যাচ্ছেন।

ইউটিউবে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করে ও মান সম্মমত ভিডিও বানিয়ে, নিজের চ্যানেলের Subscriber বাড়িয়ে আপনিও একজন জনপ্রিয় Youtuber হতে পারবেন।

আর প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ইউটিউব গুগলের একটি সার্ভিস। আমরা নানা উপায়ে গুগল থেকে আয় করতে পারি। ঠিক তেমনি ইউটিউব থেকে আমরা সহজেই আয় করতে পারি।

ইউটিউব থেকে নানা উপায়ে ইনকাম করা যায়। ইউটিউবে আয় করার জন্য আপনাকে একটি চ্যানেল (Channel) তৈরি করতে হবে।

তারপর সেই চ্যানেলে নিয়িমিত ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতে হবে।

এজন্য আমাদের আগে জানতে হবে ইউটিউব চ্যানেল কি?

ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয়

How to earn money from Youtube Channel

 

ইউটিউব চ্যানেল কি?

আপনি ইউটিউবে একজন সদস্য হিসেবে যোগদান করার জন্য আপনাকে Youtube Channel খুলতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেল খোলার জন্য আপনাকে ইউটিউবে Google Account (Gmail) এর মাধ্যমে লগইন করতে হবে।

এরপর আপনার আপনার চ্যানেলের নাম, ছবি, বর্ণণা, ক্যাটাগরি ইত্যাদি দিয়ে ভিডিও আপলোড করতে পারবেন।

মূলত ইউটিউব চ্যানেলেই ভিডিও আপলোড করতে হয়। একজন ব্যক্তি একটি একাউন্ট থেকে একাধিক চ্যানেল খুলতে পারবেন।

আপনি Personal ও Bussiness (Brand) উভয় ধরনের চ্যানেল খুলতে পারেন।

তবে এর আগে আপনাকে জানতে হবে কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলতে হয়?

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করবেন?

Youtube চ্যানেল থেকে ইনকাম করার জন্য আপনাকে প্রথমে যেকোন ভাল ক্যাটাগরির উপর ভিডিও আপলোড দিতে থাকতে হবে।

আপনি শর্টস ভিডিও (Shorts Video) আপলোড করেও ইনকাম করতে পারবেন।

আপনার চ্যানেলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সাথে সাথে আপনি আপনার এই চ্যানেল থেকে আয় শুরু করে দিতে পারবেন।

ইউটিউবে ৭টি জনপ্রিয় ভিডিও ক্যাটাগরিগুলি হলঃ

  • টিউটোরিয়াল (Tutorial) ভিডিও
  • টেক (Tech) ভিডিও
  • রিভিও (Review) ভিডিও
  • ফানি বা মজাদার ভিডিও
  • ভ্লগ (Vlog) ভিডিও
  • আনবক্সিং (Unboxing)  ভিডিও
  • কার্টুন (Cartoon) ভিডিও

আপনি উপরের ক্যাটাগরি ছাড়াও যেকোন Category নিয়ে ইউটিউব ভিডিও বানাতে পারেন।

ভিডিও বানানোর পর আপনাকে সঠিক উপায়ে সেই ভিডিওগুলি আপনার চ্যানেলে আপলোড দিতে হবে।

এখন দেখে নিন কি কি উপায়ে ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করা যায়-

 

১. ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (Youtube Partner Program) এ যুক্ত হয়ে

২. স্পন্সর কন্টেন্ট (Sponsord Content) আপলোড করে 

৩.  আপনার ভিডিও এর লাইসেন্সিং (License) করে

৪. অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)  করে

৫. নিজের পণ্য (Product) বিক্রি করে

৬. ক্রাউডফান্ডিং (Crowdfunding) ব্যবহার করে

 

১) ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (Youtube Partner Program) এ যুক্ত হয়ে

 

আপনি আপনার Youtube Channel এর সাথে গুগল এডসেন্স (Google Adsense) একাউন্ট যুক্ত করেই ভিডিওতে এড দেখিয়ে টাকা ইনকাম করার পাশাপাশি আরো বেশ কিছু উপায়ে ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে Youtube Partner Program এ যুক্ত হতে হবে। 

Youtube Partner Program এ যেভাবে যুক্ত হতে হবে?

আপনাকে আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে Youtube Studio তে প্রবেশ করতে হবে।

এরপর Earn বাটনে ক্লিক করতে হবে। এখান থেকে দেখাবে আপনি ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম এর জন্য Eligible কিনা। আপনি যদি এখানে Eligible হয়ে থাকেন।

তাহলে Apply Now বাটনে ক্লিক করে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (Youtube Partner Program) এর জন্য আবেদন করতে হবে।

আবেদন করার সময় আপনার গুগল এডসেন্স (Google Adsense) একাউন্টের সাথে আপনার ইউটিউব চ্যানেল লিংক করতে হবে।

আপনার কোন এডসেন্স একাউন্ট থাকলে তার সাথে লিংক করতে হবে। আর না থাকলে এখান থেকে আপনার গুগল একাউন্টের মাধ্যমে সাইন ইন করে আপনার নাম সহ সকল তথ্য দিয়ে একটি এডসেন্স একাউন্ট খুলতে হবে। 

এরপর কিছুদিনের মধ্যে গুগল আপনার চ্যানেলটি রিভিউ করবে। এই রিভিউ প্রক্রিয়া সাধারণত ১ মাসের মধ্যেই হয়ে থাকে।

আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও ও কন্টেন্ট সঠিক থাকলে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (Youtube Partner Program) অ্যাপ্রুভ হয়ে যাবে।

তবে এটি অ্যাপ্রুভ নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে কি কারণে আপনার ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন অ্যাপ্রুভ হয়নি, তা ইউটিউব থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

এরপর আপনি আপনার সমস্যা সমাধান করে আবার Apply করলে তা আবার এপ্রুভ (Approve) হয়ে যাবে।

ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (Youtube Partner Program) এ যুক্ত হওয়ার জন্য যা যা মেনে চলতে হবে-

  • Youtube Monetization policies মেনে চলতে হবে।
  •  আপনার চ্যানেলে ১০০০ Subscriber থাকতে হবে। আর গত ১ বছরে ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ আওয়ার থাকতে হবে অথবা গত ৯০ দিনে বা ৩ মাসে ১০ মিলিয়ন Shorts video views হতে হবে।
  • আপনার চ্যানেলে কোন প্রকার Community Guidelines Strikes থাকা যাবে না।
  •  আপনার গুগল একাউন্টে 2 step verification থাকতে হবে।
  •  Google Adsense একাউন্টের সাথে Youtube account লিংক থাকতে হবে।
  • আপনার দেশে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম থাকতে হবে।
  •  আপনার বয়স ১৮ বছরের অধিক হতে হবে।

ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (Youtube Partner Program) থেকে কিভাবে ইনকাম করা যাবে?

 

১. Watch Page Ads ও Shorts Feed Ads এর মাধ্যমে

আপনার চ্যানেল পার্টনার প্রোগ্রাম এর আওতায় থাকলে Watch Page Ads এর মাধ্যমে গুগল এডসেন্সের এড (Ads) আপনার ভিডিও লাগাতে পারবেন। এরপর আপনার ভিডিও Views এর উপর ভিত্তি করে আপনার ইনকাম শুরু হয়ে যাবে। আপনার ভিডিও দেখে যত বেশি মানুষ এড দেখবে, আপনার তত ইনকাম হবে।

আর Shorts Feed Ads এর মাধ্যমে আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেলের শর্টস (Shorts video) থেকে ইনকাম করতে পারবেন।  

২. Memberships এর মাধ্যমে

আপনি আপনার চ্যানেলের জন্য Membership অপশন চালু করে ইনকাম করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার চ্যানেলে Join হওয়ার জন্য আপনার ইউজারদের একটি মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।

এখানে আপনি আপনার চ্যানেলের মেম্বারদের জন্য স্পেশাল ভিডিও বানাতে পারেন। আর সেই ভিডিও শুধুমাত্র আপনার চ্যানেলের মেম্বারেরাই দেখতে পাবে।

চ্যানেলে মেম্বারশীপ চালু করার জন্য আপনাকে অবশ্যই ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (Youtube Partner Program) এ যুক্ত থাকতে হবে।

আর আপনার চ্যানেল Kids দের জন্য হওয়া যাবে না। আপনি Earn অপশনের Memberships থেকে এই প্রক্রিয়া চালু করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের Subscribe বাটনের পাশে Join নামে আরো একটি বাটন দেখাবে। 

৩. Super Thanks, Super Chat, Super stickers এর মাধ্যমে

আপনি এই পদ্ধতিতে আপনার ইনকাম বাড়িয়ে নিতে পারেন। আপনার লাইভ স্ট্রিমিং ভিডিওতে ইউজারেরা এনিমেটেড চ্যাট ও কালারফুল স্টিকার ইত্যাদি দিতে পারবে।

এর জন্য তারা আপনার চ্যাট ফিড থেকে এই সকল Super Thanks, Super Chat, Super stickers কিনতে পারবে। আপনি Earn অপশন থেকে Supers এ ক্লিক করে এটা অন করে নিতে পারেন। তবে এর জন্য আপনাকে YPP তে যুক্ত থাকতে হবে।

আপনার Country Supported থাকতে হবে। আপনি আর্নিং আপনার Dashboard থেকে দেখতে পারবেন।

৪. Shopping এর মাধ্যমে

আপনার Store এর সাথে আপনার ইউটিউব চ্যানেল যুক্ত করে এখন ইনকাম করতে পারবেন।

আপনি Shopify, Spring অথবা Spreadshop এ আপনার Store খুলতে পারেন। এরপর আপনার Store এর সাথে চ্যানেল লিংক করার জন্য Youtube Studio থেকে Earn অপশন থেকে Shopping এ ক্লিক করতে হবে।

এরপর আপনি একটি বা একাধিক Store লিংক করে নিতে পারবেন। এরপর আপনার চ্যানেলে Store বাটন দেখাবে। আপনি এই Store ব্যবহার করে আপনার ইউজারদের কাছে আপনার প্রডাক্ট বিক্রি করতে পারবেন।

এছাড়া আপনার ভিডিওতে আপনার প্রডাক্টের লিংক Tagging করে আপনার Product বা পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।

এছাড়া Product Shelf এর মাধ্যমে আপনি আপনার পণ্য বিক্রি করে ইনকাম করতে পারবেন। 

৫. Youtube Premium এর মাধ্যমে

 

যারা ইউটিউবে Premium মেম্বার, তারা ইউটিউবকে একটি নির্দিষ্ট ফি প্রদান করে ভিডিও দেখে থাকে। আপনাকে সেই ফি থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়া হবে। এভাবেও আপনি ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারছেন। 

 

২) স্পন্সর কন্টেন্ট (Sponsord Content) আপলোড করে 

 

আপনার ইউটিউব চ্যানেল ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হওয়ার সাথে সাথে আপনার ইনকামের পরিমাণ অনেক গুণ বেড়ে যাবে। কারণ আপনার চ্যানেলে Subscriber বেড়ে যাওয়া মানে আপনি তখন তাদের জন্য Influencer হিসেবে প্রতীয়মান হবেন।

আর তখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চাইবে আপনি আপনার ভিডিও এর মাধ্যমে তাদের কোম্পানী বা পণ্যের প্রচার করুন।

এতে করে সেই কোম্পানীর বিক্রি বেড়ে যাবে। আপনার এও প্রচারণার জন্য তখন সেই কোম্পানী আপনাকে টাকা প্রদান করবে। এতে করে একটা বিশাল পরিমাণের ইনকাম হওয়া সম্ভব।

 

৩) আপনার ভিডিও এর লাইসেন্সিং (License) করে

 

যখন একটা সময় আপনার ভিডিও অনেকে ভাইরাল হবে।

তখন বিভিন্ন নিউজ মিডিয়া, বা অন্য যেকেউ আপনার খরব প্রচারের জন্য আপনার ভিডিও ব্যবহার করতে পারে।

সেক্ষত্রে আপনি আপনার ভিডিও এর License করে রাখতে পারেন। এতে করে আপনার ভিডিও ব্যবহার করতে তাদের লাইসেন্স কিনে ব্যবহার করতে হবে। এতে করে আপনার ইনকাম হবে। এর জন্য আপনাকে যেকোন video rights marketplace এর সাহায্য নিতে হবে। এমন একটি মার্কেটপ্লেস হল Jukin Media

 

৪) অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)  করে

 

অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্য আপনার ভিডিও এর মাধ্যমে বিক্রি করে সেই পণ্যের টাকা থেকে আপনি কিছু কমিশন বা লাভ পাবেন। এই প্রক্রিয়াকে অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং বলে।

অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে ইনকাম করার জন্য প্রথমে Affilate Partner হতে হবে। এর জন্য সেই কোম্পানীতে Affiliate Partner হিসেবে যোগদান করে, তাদের পণ্যের অ্যাফেলিয়েট লিংক সংগ্রহ করে ভিডিও এর Description এ দিয়ে দিতে হবে।

সেই লিংকের মাধ্যমে যতবার পণ্যটি বিক্রি হবে। তত টাকা ইনকাম হবে।

Amazon, Daraz ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে Affiliate Partner হওয়া যায়।

 

৫) নিজের পণ্য (Product) বিক্রি করে

 

আপনার চ্যানেল যখন জনপ্রিয় হবে। আপনাকে যখন মানুষ অনেক বিশ্বাস করবে।

তখন এই ইউজার বা ফ্যানদের বিশ্বাস ও সম্মানকে কাজে লাগিয়ে আপনি আপনার চ্যানেলের লোগো সমৃদ্ধ টি শার্ট, মগ, ব্যাগ ইত্যাদি সরাসরি তাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন।

এক্ষত্রে আপনি একটি নিজস্ব ই কমার্স ওয়েবসাইট খুলতে সেই পণ্য বিক্রি করে টাকা ইনকাম করতে পারেন। 

 

৬) ক্রাউডফান্ডিং (Crowdfunding) ব্যবহার করে

 

আপনি যদি একজন নির্ভরযোগ্য ইউটিউবার হয়ে থাকেন, তাহলে ক্রাউডফান্ডিং (Crowdfunding) ব্যবহার করে আপনি আপনার ইউজারদের কাছ থেকে যেকোন ভাল কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পারেন। বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে Crowdfunding করা যায়।

যেমনঃ Gofundme, kickstarter. এছাড়া আপনি আপনার ভিডিও কোয়ালিটি বাড়ানোর জন্য আপনার ইউজারদের কাছ থেকে crowdfunding এর আবেদন করতে পারেন। এতে করে আপনি আপনার চ্যানেলের মান বৃদ্ধি করে পরবর্তীতে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ইউটিউব থেকে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করার জন্য কি কি বিষয় মেনে চলতে পারেন?

আপনি আপনার দর্শকের চাহিদা অনুসারে ভিডিও তৈরি করুন।

আপনার ভিডিও দেখে যেন আপনার দর্শকেরা engaged হয়।

ভিডিও এর জন্য সঠিকভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ (Keyword Research) করুন। আপনার ভিডিও এর টাইটেল ও Description এ গুরত্ব দিন। হ্যাশ ট্যাগ (#) ব্যবহার করন। প্রয়োজনে আপনার ভিডিওতে সাব টাইটেল (Sub title) যুক্ত করুন। সঠিক ক্যাটাগরির সঠিক ভিডিও আপলোড করুন।

আপনার চ্যানেলের জন্য শর্টস ভিডিও বানান। শর্টস ভিডিও খুব সহজেই ভাইরাল হয়। এতে আপনার চ্যানেলের Subscriber ও ভিউ বেড়ে যাবে।

সব সময় চেষ্টা করুন, আপনার ভিডিওটি যেন ৮ থেকে ১০ মিনিটের হয়।

আপনার ভিডিওটি যেন অনেক তথ্যবহুল হয়, সেদিকে নজর দিন।

নিয়মিত ভিডিও কন্টেন্ট আপলোড করুন। এটা আপনার চ্যানেল দ্রুত বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

আপনার ভিডিওতে আকর্ষণীয় থাম্বনেইল ব্যবহার করুন।

আপনার দর্শকদের মূল্য দিন।

মাঝে মধ্যে লাইভ স্ট্রিমিং (Live Streaming) করুন। এতে করে দর্শকদের সাথে interaction বা সখ্যতা বাড়বে।

 

ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করা টাকা কিভাবে হাতে পাবো?

 

আপনার ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম থেকে আয়কৃত টাকা ইউটিউব কর্তৃপক্ষ প্রতিমাসে আপনার ব্যাংক একাউন্টে পাঠিয়ে দিবে।

তবে এক্ষত্রে আপনার সর্বনিম্ন ১০০ ডলার আয় করতে হবে।

এছাড়া অ্যাফেলিয়েট মার্কেটিং, নিজের পণ্য বিক্রি করে ইনকাম, ক্রাউড ফান্ডিং সহ অন্যান্য ইনকাম আপনি সরাসরি তাদের পেমেন্ট মেথড অনুসারে পাবেন।

ইউটিউব থেকে প্রতিমাসে কত টাকা ইনকাম করা যায়?

এটা অনেক জটিল একটা প্রশ্ন। ইউটিউব থেকে অনেকে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা ইনকাম করছেন।

আবার অনেকেই মাসে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ইনকাম করছেন। এটা নির্ভর করে আপনার চ্যানেলের জনপ্রিয়তা, ভিউ, আপনার লোকেশন ইত্যাদির উপর।

অনেকে ১০০০ ভিডিও ভিউ (Views) এর জন্য ১ থেকে ২ ডলার ইনকাম করছেন। আবার অনেকেই প্রতি ১০০০ ভিউ এর জন্য ৫ থেকে ১০ ডলার পর্যন্ত আয় করছেন।

তবে ইউটিউব থেকে সবথেকে বেশি ইনকাম হয় এর Ads এর মাধ্যমে। তবে দেরি কেন? আপনি আজ থেকেই শুরু করে দিন আপনার ইউটিউব জার্নি।

ভিডিও না বানিয়ে ইউটিউব থেকে কিভাবে ইনকাম করা যায়?

আপনি ভিডিও না বানিয়ে ইনকাম করার জন্য আপনাকে অন্যের কন্টেন্ট নিয়ে সেটা recreate / Reuse করতে হবে। ইউটিউব লাইব্রেরীতে এমন অনেক কন্টেন্ট আছে যাদের Creative Commons license আছে।

আপনাকে সেই ভিডিও গুলি নিয়ে নিজের মত করে ভিডিও বানাতে হবে। এছড়া বিভিন্ন ওয়েবসাইট কপিরাইট ফ্রি ভিডিও প্রদান করে।

যেমনঃ Pixabay, Pexels, Videovo ইত্যাদি। এছাড়া ইউটিউব লাইব্রেরি বা অন্যান্য ওয়েবসাইটে কপিরাইট ফ্রি অডিও রয়েছে। ভিডিও বানাতে এইগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এভাবে আপনি সহজেই আপনার মত করে অন্য ভিডিও ও অডিও ব্যবহার করে ভিডিও বানিয়ে ইনকাম করতে পারেন।

তবে আপনি যদি একজন প্রফেশনাল ইউটিউবার হতে চান। তাহলে এই পদ্ধতিতে ভিডিও না বানানোই ভালো।

কারণ ইউটিউবে যেকোন সময় আপডেট এসে আপনার ভিডিওতে মনিটাইজেশন চলে যেতে পারে।

তাই পরিশ্রম করে ভাল ভিডিও বানান ও ইউটিউবে সফলতা অর্জন করুন।

FAQ:

১. ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (Youtube Partner Program) এ যুক্ত হতে কত Subscriber ও ওয়াচ টাইম থাকতে হয়?

১০০০ Subscriber থাকতে হবে। আর গত ১  বছরে বা ৩৬৫ দিনে ৪০০০ ঘন্টা ওয়াচ আওয়ার থাকতে হবে অথবা গত ৯০ দিনে বা ৩ মাসে (10M) ১০ মিলিয়ন Shorts video views হতে হবে।

২. ইউটিউব প্রতি ১০০০ ভিউতে কত টাকা দেয়?

সাধারণত ইউটিউব থেকে টাকা পাওয়া যায় এডে ক্লিক এবং পুরো ভিডিও এড skip করে দেখার উপর। এছড়া অনেক আরো অনেক কিছুর উপর এর ইনকাম নির্ভর করে। তবে এভারেজে ১০০০ ভিউতে ২ থেক ৩ ডলার ইনকাম করা যায়। এর বেশিও হতে পারে। আবার কমও হতে পারে।

৩. পৃথিবীর সবথেকে বড় ইউটিউব চ্যানেলের নাম কি?

Mr Beast. যার Subscriber এর সংখ্যা ২২৯ মিলিয়ন এর বেশি। তার নাম হল জিমি ডোনাল্ডসন

পরিশেষে বলা যায়,

ইউটিউবে সফল হতে হলে আপনাকে অবশ্যই কোয়ালিটি কন্টেন্ট বানাতে হবে। এর জন্য আপনাকে একটি ভিডিও অনেক সময়

নিয়ে ধৈর্য্য সহকারে সুন্দর করে বানাতে হবে। এছাড়া আপনাকে ইউটিউবের Policies and Guideline মেনে ভিডিও বানাতে হবে।

এছাড়া কোন violation করা যাবেনা, যাতে আপনার চ্যানেলটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এভাবে ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করলে আপনার সফলতা নিশ্চিত। এই ব্লগটি পড়ে আপনি কিছু শিখতে পারলে, ব্লগটি অবশ্যই শেয়ার করুন।

পোস্টটি শেয়ার করুন-