অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার প্রক্রিয়াটি এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে।
এতে বিআরটিএ এর সেবা অনেক গতিশীল হয়েছে।
বর্তমানে স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন এর পর সেটি বিতরণের জন্য প্রস্তুত কি না, তা জানার জন্য আর বিআরটিএ অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।
এখন ঘরে বসেই স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের মাধ্যমে লাইসেন্সের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নেওয়া যায়।
এতে করে আমাদের আর অফিসের যাওয়ার ঝামেলা থাকেনা ও তৃতীয় কোন ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয়না।
আপনি যদি নতুন আবেদনকারী হয়ে থাকেন বা লাইসেন্সের মেয়াদ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চান।
তবে আপনার জন্য অনলাইনের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করা প্রয়োজন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহারের আগে এর বৈধতা এবং বর্তমান স্ট্যাটাস নিশ্চিত করা উচিত।
অনলাইনে লাইসেন্স যাচাই করার সুবিধাগুলি হল-
১. লাইসেন্সটি আসল নাকি জাল তা ঘরে বসেই তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়।
২. লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ জেনে সময়মতো নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।
৩. স্মার্ট কার্ডটি বর্তমানে কোন অবস্থায় আছে বা কবে নাগাদ হাতে পাওয়া যাবে তা সহজেই ট্র্যাক করা যায়।
৪. রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের ঝামেলা এড়াতে নিজের কাছে সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য থাকে।
৫. ডাটাবেজে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যে কোনো ভুল থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম
অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার প্রক্রিয়াটি এখন বেশ আধুনিক এবং সহজতর।
মূলত ২টি উপায়ে আপনি এটি করতে পারেন:
১. স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে
আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে খুব সহজেই এটি চেক করা সম্ভব:
১. গুগল প্লে-স্টোর থেকে “BRTA Sheba” অ্যাপটি ইনস্টল করুন।
২. কিউ আর কোড স্ক্যানার এ ক্লিক করুন। এখানে একটি ক্যামেরা ওপেন হবে।
৩. আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স স্মার্ট কার্ডের কিউয়ার কোডে ক্যামেরা ধরুন। আপনার কার্ডটি সঠিক থাকলে সকল তথ্য চলে আসবে।
২. বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের (BSP) মাধ্যমে
১. bsp.brta.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. পোর্টাল থেকে ‘সেবা পেতে এখানে ক্লিক করুন‘, বাটনে ক্লিক করুন।
৩. যদি আপনি একজন নিবন্ধিত ইউজার হয়ে থাকেন তাহলে ‘এখানে ক্লিক করুন‘ বাটনে ক্লিক করুন।
৪. আপনি ড্রাইভিং লাইসেন্স অনলাইনে আবেদনের সময় যে তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন, তার মধ্যে মোবাইল ও পাসওয়ার্ড লাগবে। এগুলি দিয়ে ‘লগিন‘ বাটনে ক্লিক করুন।
৫. ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন‘ অপশনে ক্লিক করুন।
৬. এখান থেকে আপনি ‘ই ড্রাইভিং লাইসেন্স‘ দেখতে পাবেন। সেখানে ক্লিক করে আপনি আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখতে পাবেন। আপনি চাইলে সেটি ডাউনলোড করতে পারেন।
৭. নিচে থেকে ‘দেখুন‘ বাটনে ক্লিক করে আপনি আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের যাবতীয় স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন।
FAQ: অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম
১. অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করতে কি কোনো ফি লাগে?
না, বিআরটিএ-র অফিশিয়াল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লাইসেন্স স্ট্যাটাস চেক করা সম্পূর্ণ ফ্রি।
২. কতদিন পর অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করা শুরু করা উচিত?
সাধারণত ড্রাইভিং লাইসেন্সের বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ ও ছবি) দেওয়ার ৭ থেকে ১০ কর্মদিন পর থেকেই অনলাইনে স্ট্যাটাস আপডেট হওয়া শুরু হয়।
৩. বিদেশে বসে কি বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করা যায়?
হ্যাঁ, বিআরটিএ-র ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকেই আপনি আপনার লাইসেন্সের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতে পারবেন।
৪. স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স পেতে সাধারণত কতদিন সময় লাগে?
আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগতে পারে।
উপসংহার – অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার নিয়ম
অনলাইনে ড্রাইভিং লাইসেন্স চেক করার এই আধুনিক ব্যবস্থা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনকে অনেক বেশি সহজ ও ঝামেলামুক্ত করেছে।
এখন আর লাইসেন্সের অবস্থা জানতে বিআরটিএ এর অফিসে যাওয়ার দরকার হয়না।
এছাড়া কোন দালাল ধরতে হয়না।
মাঝেমধ্যেই অনলাইনের মাধ্যমে নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্সের স্ট্যাটাস এবং মেয়াদ যাচাই করা জরুরী।
এতে করে যেমন আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা যায়।
তেমনি রাস্তায় চলাচলের সময়ও আত্মবিশ্বাসী থাকা যায়।
তাই এখনই স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্সের বর্তমান চেক করুন।


