বর্তমানে আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম জানা জরুরী।
প্রযুক্তির এই যুগে ব্যাংকিং সেবা এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে গেছে।
যার অন্যতম কারিগর হলো বিকাশ।
ঘরে বসেই মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে বিকাশ একাউন্ট খোলা যায়।
টাকা পাঠানো, কেনাকাটার পেমেন্ট কিংবা ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, সবই এখন বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে করা সম্ভব।
এই ব্লগে আপনি জানতে পারবেন, কিভাবে ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট খুলতে হয়।
বর্তমান সময়ে আর্থিক লেনদেনকে সহজ, দ্রুত এবং নিরাপদ করার জন্য একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বিকাশ অ্যাকাউন্ট থাকার প্রয়োজনীয়তা গুলি হল-
১. বিকাশের মাধ্যমে দেশের যেকোনো প্রান্তে খুব দ্রুত এবং সহজে টাকা পাঠানো বা গ্রহণ করা যায়।
২. এর মাধ্যমে যেকোন দোকানে না গিয়েই নিজের বা প্রিয়জনের মোবাইলে যেকোনো সময় রিচার্জ করা সম্ভব।
৩. বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও ইন্টারনেট বিল ইত্যাদি ঘরে বসেই দেওয়া যায়।
৪. কিউআর কোড স্ক্যান করে বিভিন্ন শপে নগদ টাকা ছাড়াই নিরাপদে বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করা যায়।
৫. নিজের টাকা নিরাপদে অ্যাকাউন্টে জমিয়ে রাখা যায়। আর প্রয়োজনে ক্যাশ আউট করার সুবিধা পাওয়া যায়।
৬. যেকোন প্রয়োজনে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়া যায়।
বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম
বর্তমানে বাংলাদেশে ঘরে বসে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা অত্যন্ত সহজ।
আপনি আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে কয়েক মিনিটেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।
নিচে ধাপে ধাপে পদ্ধতিটি আলোচনা করা হলো।
অনলাইনে বা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়াটি নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো:
১. অ্যাপ ডাউনলোড:
প্রথমে প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে bKash App ইনস্টল করে ‘Login/Registration’ অপশনে যান।
২. নম্বর ও ওটিপি:
আপনার সচল মোবাইল নম্বরটি লিখুন এবং ফোনে আসা ভেরিফিকেশন কোড (OTP) দিয়ে নিশ্চিত করুন।
৩. NID সাবমিট:
ভেরিফিকেশন শেষ করে ‘আপনার NID এর ছবি তুলুন’ বাটনে ক্লিক করুন।
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সামনের ও পেছনের অংশের স্পষ্ট ছবি তুলে আপলোড করুন।
৪. তথ্য পূরণ:
আপনার পেশা, আয়ের উৎস ও লিঙ্গসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্যগুলো সঠিকভবে প্রদান করুন।
৫. চেহারা ভেরিফিকেশন:
আপনার ফোনের সামনের ক্যামেরা দিয়ে নিজের চেহারার একটি ছবি (Selfie) তুলুন।
৬. পিন সেটআপ:
সব তথ্য যাচাই হয়ে গেলে ৫ ডিজিটের একটি শক্তিশালী গোপন পিন (PIN) সেট করে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করুন।
বিকাশ অ্যাপ ব্যবহারে সতর্কতা
আপনাকে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম জানার সাথে সাথে এর ব্যবহারে কি কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, তা জানতে হবে।
বিকাশ অ্যাপ ব্যবহারের সময় আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:
পিন (PIN) ও ওটিপি (OTP) গোপন রাখা
আপনার ৫ ডিজিটের পিন নম্বর এবং মোবাইলে আসা ওটিপি কোড কখনোই কাউকে বলা যাবেনা
অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা
ইমেইল, এসএমএস বা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা কোনো সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করে আপনার বিকাশের তথ্য দেওয়া যাবেনা।
অ্যাপ লক ব্যবহার করা
আপনার ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস লক সুবিধা থাকলে সেটি ব্যবহার করুন, যাতে ফোন অন্য কারো হাতে গেলেও অ্যাপটি খুলতে না পারে।
লেনদেনের আগে নম্বর যাচাই
টাকা পাঠানোর (Send Money) বা পেমেন্ট করার সময় প্রাপকের নম্বরটি কয়েকবার চেক করে নিন, যাতে ভুল নম্বরে টাকা চলে না যায়।
প্রতারণা সম্পর্কে সচেতনতা
লটারি জেতা বা বোনাস পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কেউ আপনার কাছে পিন বা টাকা চাইলে তাৎক্ষণিক তা এড়িয়ে চলুন।
FAQ: বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম
১. একটি এনআইডি (NID) দিয়ে কয়টি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা যায়?
একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে কেবল একটিই বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব।
২. বাটন ফোনে কি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা যায়?
হ্যাঁ, তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে আপনার আসল এনআইডি কার্ড এবং এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি নিয়ে নিকটস্থ বিকাশ এজেন্ট পয়েন্ট বা কাস্টমার কেয়ারে যেতে হবে।
৩. অ্যাকাউন্ট খোলার কতক্ষণ পর লেনদেন করা যায়?
অ্যাপের মাধ্যমে সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন এবং পিন সেট করার সাথে সাথেই আপনি লেনদেন শুরু করতে পারবেন।
৪. প্রবাসী ভাই-বোনেরা কি বিদেশ থেকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন?
বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু দেশে বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা চালু হয়েছে।
৫. পিন (PIN) ভুলে গেলে কী করণীয়?
পিন ভুলে গেলে বিকাশ অ্যাপের ‘Reset PIN’ অপশন ব্যবহার করুন অথবা ১৬২৪৭ নম্বরে কল করে বা নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে পিন রিসেট করতে পারবেন।
৬. এনআইডি ছাড়া কি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব?
না, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী কেওয়াইসি (KYC) সম্পন্ন করতে জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক।
উপসংহার
ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরিতে বিকাশ অনেক সাহায্য করছে।
কেননা এটি আর্থিক লেনদেনকে অনেক সহজ ও নিরাপদ করেছে।
বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম মেনে আপনিও একটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন।
তবে মনে রাখবেন, নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টিকে নিরাপদ রাখার জন্য সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।
সতর্কতার সাথে বিকাশ ব্যবহার করুন এবং উপভোগ করুন এর সকল সুযোগ-সুবিধা।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরো পোস্ট


