অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার প্রক্রিয়া এখন অনেক বেশি সহজভাবে করা যায়।

তবে আপনাকে অবশ্যই সঠিক নিয়মে সংশোধন আবেদন করতে হবে।

নতুবা আপনার আবেদনটিতে কোন প্রকার ফল পাবেননা। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল।

যার ফলে এই জন্ম সনদে আপনার নাম, জন্ম তারিখ, বাবা-মায়ের নাম বা ঠিকানায় ভুল থাকলে ভবিষ্যতে পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষা সনদসহ নানা কাজে সমস্যা হতে পারে।

তাই অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করা জরুরি।

আর এখন অনলাইনে খুব সহজেই ঘরে বসে জন্ম সনদ সংশোধন করতে পারবেন।

এই ব্লগে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন প্রক্রিয়ার যাবতীয় সকল কিছু সহজেই জানতে পারবেন।

আমাদের অনেকেরই জন্ম নিবন্ধন সনদে নানারকম ভুল থাকে।

অনেকের নিজের নাম, জন্মসাল, পিতামাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদিতে ভুল থাকে।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন

এই ভুল থাকার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, এনআইডি ও পাসপোর্ট করতে, বিদেশ ভ্রমণে, ভিসা পেতে, বিবাহ করতে ইত্যাদি আরো নানাবিধ কাজে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

তাই সময়মত জন্ম নিবন্ধন সনদ সংশোধন করা জরুরী। আর যাদের এখনো এনআইডি কার্ড হয়নি,তাদের কাছে এটি প্রথম পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে।

নিচে অনলাইনে জন্ম সনদ সংশোধন করার নিয়ম দেখুন।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন করার নিয়ম

অনলাইনে জন্ম সনদ সংশোধন প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ।

আপনি নিজেই আপনার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করে এই আবেদনটি সম্পন্ন করতে পারেন। নিচে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি দেখুন।

১. জন্ম নিবন্ধনের সংশোধন করার লিংকে প্রবেশ

প্রথমে এই লিংকে https://bdris.gov.bd লিংকে যান। মেনু থেকে জন্ম নিবন্ধনের জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদনে ক্লিক করুন। 

২. প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান ও ক্যাপচা পূরণ

এরপর এখান থেকে আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্ম তারিখ ও ক্যাপচা দিয়ে অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করতে হবে।

আপনাকে অবশ্যই সঠিকভাবে ক্যাপচা দিতে হবে।

এরপর আপনার তথ্যগুলো সামনে এলে ‘নির্বাচন করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

৩. জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করা

বিষয় অপশন থেকে আপনি যে বিষয়ে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে করতে চান, তা নির্বাচণ করুন থেকে দেখতে পাবেন।

এখানে আপনি ড্রপ ডাউন আকারে সকল বিষয় দেখতে পাবেন।

যেমন- জন্ম তারিখ,পিতামাতার কততম সন্তান, লিঙ্গ, পিতার নাম (বাংলা), মাতার নাম (বাংলা) ইত্যাদি দেখতে পাবেন।

এগুলি থেকে আপনার যেটি ভুল আছে তা সিলেক্ট করতে হবে। এরপর চাহিত সংশোধিত তথ্যটি দিতে হবে।

আর সংশোধনের কারণ হিসেবে ভুল লিপিবদ্ধ করা হয়েছে সিলেক্ট করতে হবে।

আপনার যদি একাধিক তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হয়,তাহলে নিচের সবুজ আরো তথ্য সংযোজন করুন বাটনে ক্লিক করে একইভাবে তথ্য দিতে হবে।

৪. ঠিকানা সংশোধন

জন্মস্থান, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য নিচের ঘর থেকে তা পরিবর্তন করতে পারবেন।

সবগুলি তথ্য আলাদা হলে, আলাদা ঠিকানা দিতে হবে।

তবে যদি জন্মস্থান, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা একই হয়,তবে জন্মস্থানের ঠিকানা দিয়ে নিচের জন্মস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা একই বক্সে টিক দিতে হবে।

আর স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা একই বক্সেও টিক দিতে হবে।

আপনার যদি ঠিকানা পরিবর্তনের প্রয়োজন না থাকে, তাহলে এগুলি পূরণ করার দরকার হবেনা।

৫. প্রয়োজনীয় কাগজপাতি সংযোজন

এরপর আপনি যে তথ্যগুলি সংশোধন করতে চান,তার প্রমাণস্বরুপ প্রমাণপত্র দিতে হবে।

এর জন্য সবুজ সংযোজন বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এখান থেকে আপনার প্রয়োজন অনুসারে স্কুল সার্টিফিকেট,জাতীয় পরিচয়পত্র (NID),পাসপোর্ট,হাসপাতালের জন্ম সনদ, পিতা-মাতার NID ইত্যাদি দিতে হবে।

আপনাকে অবশ্যই স্ক্যান করা ছবি বা মোবাইল দিয়ে তোলা পরিষ্কার ছবি দিতে হবে।

প্রতিটি ছবির সাইজ ২ মেগাবাইটের বেশি হওয়া যাবেনা।

আবেদন কারির তথ্য থেকে নিজে আবেদন করলে নিজ সিলেক্ট করতে হবে।

এছাড়া অন্য কারো জন্য আবেদন করলে তা সিলেক্ট করে দিতে হবে।

এরপর নিচের তথ্য থেকে আবেদনকারীর নাম, ইমেইল, ফোন নাম্বার দিতে হবে।

ফোন নাম্বারের পাশে ওটিপি পাঠান বাটনে ক্লিক করতে হবে। আপনার মোবাইলে আসা ওটিপি এখানে দিতে হবে। এরপর সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে।

এখান থেকে আপনি আবেদনপত্র নম্বর, আবেদনের প্রকৃতি, কার্যালয়ের নাম ও ঠিকানা ইত্যাদি দেখতে পাবেন।

৬. জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন পত্র প্রিন্ট

এরপর আবেদন পত্র প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করে ডাউনলোড করে নিতে হবে।

ডাউনলোডকৃত সেই ফাইলটি নিকটস্থ যেকোন কম্পিউটার ও ফটোকপি সার্ভিস রিলেটেড দোকান থেকে প্রিন্ট কপি করতে হবে।

৭. সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জমা দেওয়া

আবেদন পত্র প্রিন্ট কপির সাথে প্রমাণপত্র কাগজ সমূহের ফটোকপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।

এক্ষেত্রে আপনাকে ওয়ার্ড কাউন্সিল কার্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কার্যালয় ইত্যাদিতে যেতে হবে।

সেখানে সকল কাগজপাতি জমা দিতে হবে।

কার্যালয় থেকে আপনার থেকে নির্ধারিত ফি দিতে বলবে।

সেখানে তা জমা দিতে হবে। তারা আপনাকে বলে দিবে, কবে আপনার সংশোধিত জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

এরপর নির্ধারিত দিনে আপনার সনদ সংগ্রহ করতে হবে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন সতর্কতা

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন এর সংশোধন করতে কিছু বিষয় জানা জরুরি। আর তা হল-

১. আবেদন করার পর ১৫ দিনের মধ্যে প্রিন্ট করা কপি এবং প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র নিয়ে আপনার ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

অন্যথায় আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।

২. আপনাকে অবশ্যই আপনার সঠিক কার্যালয়ে কাগজপত্র নিয়ে যেতে হবে।

৩. আপনাকে ভেবে চিন্তে ও খুব সাবধানতার সহত তথ্য পূরণ করতে হবে। আপনি ৩ বারের বেশি সংশোধন করার সুযোগ পাবেন না।

৪. আপনি যে কাগজপাতি নিয়ে যাবেন,সেগুলিতে যেন কোন প্রকার ভুল না থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

FAQ: অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন

১. জন্ম সনদ সংশোধন হতে কতদিন সময় লাগে?

সাধারণত অনলাইনে আবেদন করার পর এবং সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা) কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সংশোধিত সনদ পাওয়া যায়।

তবে এটি আপনার স্থানীয় অফিসের কাজের চাপের ওপর নির্ভর করে।

২. কতবার জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করা যায়?

জন্ম নিবন্ধন সাধারণত সর্বোচ্চ তিনবার সংশোধন করার সুযোগ পাওয়া যায়।

বারবার সংশোধনের পরিবর্তে নির্ভুল কাগজপত্রের মাধ্যমে একবারেই সঠিক তথ্য সংশোধন করা উত্তম, কারণ বারবার আবেদন করলে তা বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৩. অনলাইনে আবেদন করার পর কি অফিসে যেতেই হবে?

হ্যাঁ, অনলাইনে আবেদন করার পর প্রাপ্ত আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করে এবং প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্রসহ আপনার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা কার্যালয়ে সশরীরে যোগাযোগ করতে হবে। অন্যথায় আবেদনটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

৪. জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?

সাধারণত জন্ম সনদ সংশোধন করতে ৫০ থেকে ২০০ টাকার মত লাগে। তবে এর ব্যতিক্রম হতে পারে। সর্বনিম্ন ৫০ টাকা লাগবেই।

৫. জন্ম সনদ সংশোধন আবেদন করার ওয়েবসাইট কোনটি?

সংশোধন করার ওয়েবসাইটটি হল- https://bdris.gov.bd

উপসংহার – অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন

পরিশেষে বলা যায়, জন্ম নিবন্ধন এর সংশোধন এখন আর আগের মতো জটিল কোনো প্রক্রিয়া নয়।

প্রযুক্তির কল্যাণে এবং সরকারি সেবার উন্নতির ফলে এখন ঘরে বসেই সংশোধনের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।

তবে মনে রাখবেন, জন্ম নিবন্ধন আপনার জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী দলিল।

তাই অনলাইনে আবেদন করার সময় প্রতিটি খুবই সতর্কতার সাথে প্রদান করতে হবে।

আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের সাহায্যে নিজেই সবকিছু করবেন।

কখনোই দালালের মাধ্যমে করার কথা চিন্তা করবেন না। আশা করি, আপনারাও এই ব্লগ পড়ে সবকিছু খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন