৯ ধরনের ব্যক্তি পাবেন ২৫০০ টাকার ফ্যামিলি কার্ড।
বর্তমান সময়ে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি আর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে।
বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
তখন নতুন আশার আলো হয়ে সামনে এসেছে তারেক রহমানের ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি।
এটি কেবল একটি কার্ড নয়, বরং রাষ্ট্র কর্তৃক প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি দৃঢ় অঙ্গীকার।
এটি মূলত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার একটি অংশ, যার লক্ষ্য হলো মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সরাসরি রাষ্ট্রের সহায়তা প্রদান করা।
এই ব্লগে জেনে নিন, কোন কোন ধরনের ব্যক্তি পাবেন এই ফ্যামিলি কার্ড।
তারেক রহমানের ঘোষিত ২৫০০ টাকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির শুরুর তারিখ নিয়ে অত্যন্ত খুশির খবর রয়েছে।
এটি আর কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নেই, বরং তা বাস্তবায়নের দোরগোড়ায়।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার আগামী ১০ মার্চ ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই যেন সাধারণ মানুষ এই সহায়তা হাতে পান, সেই লক্ষ্যেই এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুরো দেশে একযোগে শুরু না হয়ে এটি প্রথমে পাইলট প্রজেক্ট (পরীক্ষামূলক) হিসেবে শুরু হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু ইউনিয়নে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে বগুড়া থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানানো হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
এখন দেখে নিন যে ৯ ধরনের ব্যক্তি বা পরিবার এই কার্ডে অগ্রাধিকার পাবেন।
যে ৯ ধরনের ব্যক্তি এই ২৫০০ টাকার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন
তারেক রহমান এবং বিএনপির বিভিন্ন ফোরামে আলোচিত তথ্য অনুযায়ী, নিম্নোক্ত ৯টি শ্রেণীকে এই কার্ডের প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তারা হলেন-
১. বেকার যুবক/যুবতী: যারা শিক্ষিত কিন্তু কর্মসংস্থান নেই, তাদের জন্য কার্ডের মাধ্যমে ভাতা বা সহায়তার ব্যবস্থা।
২. নিম্নআয়ের মধ্যবিত্ত পরিবার: যারা সামাজিক সম্মানের ভয়ে সাহায্য চাইতে পারেন না, কিন্তু দ্রব্যমূল্যের চাপে পিষ্ট।
৩. হতদরিদ্র ও ভূমিহীন: যাদের নিজস্ব বসতভিটা বা আয়ের কোনো উৎস নেই।
৪. অসহায় বৃদ্ধ (জেষ্ঠ্য নাগরিক): পরিবারে উপার্জনক্ষম কেউ নেই এমন বয়স্ক ব্যক্তিদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. শ্রমজীবী মানুষ (দিনমজুর ও কৃষক): যাদের আয় অনিয়মিত এবং যারা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হন।
৬. বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারী: নারী ক্ষমতায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
৭. শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী: বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও জীবনধারণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ।
৮. অল্প বেতনের চাকরিজীবী: বিশেষ করে বেসরকারি খাতের নিম্নস্তরের কর্মচারী যারা বর্তমান বাজারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।
৯. ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা: যারা ছোটখাটো কাজ বা ব্যবসা করে সংসার চালান কিন্তু পুঁজির অভাবে বড় হতে পারছেন না।
যে ৩ ধরনের ডকুমেন্ট লাগবে এই ২৫০০ টাকার ফ্যামিলি কার্ড পেতে
তারেক রহমানের নির্দেশনায় নবগঠিত সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প হলো এই স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড।
তারেক রহমানের ঘোষিত ২৫০০ টাকার ফ্যামিলি কার্ড পেতে খুব জটিল কোনো কাগজের প্রয়োজন হবে না।
সরকার এই প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল এবং সহজ করার চেষ্টা করছে যাতে সাধারণ মানুষ কোনো হয়রানি ছাড়াই সুবিধাটি পান। ৩ ধরনের ডকুমেন্ট হল-
১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID):
আবেদনকারীর মূল এনআইডি কার্ড বা এর ফটোকপি লাগবে। যেহেতু এই কার্ডটি পরিবারের মায়ের নামে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাই গৃহকর্ত্রীর এনআইডি অগ্রাধিকার পাবে।
এনআইডি ছাড়া এই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে না।
২. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি:
আবেদনকারীর ২ কপি সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে।
এই ছবি কার্ডে এবং সরকারি ডাটাবেজে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
৩. সচল মোবাইল নম্বর:
আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর।
মনে রাখবেন, এই নম্বরেই মূলত বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে মাসিক ২৫০০ টাকা পাঠানো হবে। তাই নম্বরটি নির্ভুল হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
যে ৬ ধরনের ব্যক্তি বা পরিবার এই ২৫০০ টাকার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না
সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই কার্ডটি কেবল প্রকৃত অভাবী এবং নিম্ন-আয়ের মানুষদের জন্য।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিচের ৬টি ক্যাটাগরির মানুষকে এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে:
১. সরকারি চাকরিজীবী:
পরিবারের কোনো সদস্য যদি বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থাকেন এবং নিয়মিত বেতন ভোগ করেন, তবে সেই পরিবার এই কার্ড পাবে না।
২. পেনশনভোগী পরিবার:
পরিবারের কেউ যদি সরকারের অবসরকালীন সুবিধা বা পেনশন ভোগ করেন, তবে তারা এই বিশেষ আর্থিক সহায়তার আওতাভুক্ত হবেন না।
৩. বিলাসবহুল সম্পদের মালিক:
যাদের বাড়িতে এসি (Air Conditioner) আছে কিংবা যাদের নিজস্ব গাড়ি (কার বা জিপ) আছে, তারা এই তালিকার বাইরে থাকবেন।
৪. বড় ব্যবসার মালিক:
যারা বড় ধরনের ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং যাদের বার্ষিক আয় আয়করের (Tax) সীমার মধ্যে পড়ে, তাদের এই কার্ড দেওয়া হবে না।
৫. বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী:
যাদের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স আছে, তারা অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
৬. উচ্চবিত্ত বা সচ্ছল পরিবার:
যাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত এবং যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল, তারা এই ২৫০০ টকার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না।
মূলত হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিতেই এই সিদ্ধান্ত।
FAQ: ২৫০০ টাকার ফ্যামিলি কার্ড
১. ফ্যামিলি কার্ডের টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে?
এই প্রকল্পের টাকা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের মাধ্যমে দেওয়া হবে না।
কার্ডধারীর নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ বা রকেট) অ্যাকাউন্টে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে (G2P পদ্ধতিতে) পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
২. একই পরিবারে কি একাধিক ব্যক্তি কার্ড পাবেন?
না। এই কর্মসূচির মূল নীতি হলো “এক পরিবার, এক কার্ড”।
৩. কার্ডটি কি কেবল নগদ টাকার জন্য নাকি চাল-ডালও পাওয়া যাবে?
প্রাথমিকভাবে এটি মাসিক ২৫০০ টাকা নগদ সহায়তা প্রদানের জন্য চালু হচ্ছে।
৪. আবেদন করার সময় কি কোনো টাকা দিতে হবে?
একদম না। ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন ফরম সংগ্রহ, পূরণ বা জমা দেওয়ার জন্য কোনো ফি লাগে না।
এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকারি সেবা। কেউ টাকা দাবি করলে নিকটস্থ প্রশাসনকে জানান।
৫. ১০ মার্চ কি সারা দেশে একযোগে টাকা দেওয়া হবে?
১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে বগুড়া ও দিনাজপুরসহ দেশের ১৪টি নির্বাচিত উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রজেক্ট) এই কার্যক্রম শুরু হবে।
৬. এই কার্ড কি আজীবন থাকবে?
এটি একটি নিয়মিত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই কার্ডের সুবিধা চালু থাকবে।
উপসংহার: ২৫০০ টাকার ফ্যামিলি কার্ড
তারেক রহমানের ঘোষিত এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কেবল একটি কার্ড বা নির্দিষ্ট অংকের নগদ সহায়তা নয়।
বরং এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে মাসিক ২৫০০ টাকার এই সাপোর্ট নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মুখে হাসি ফোটাবে এবং তাদের দৈনন্দিন কষ্টের ভার কিছুটা হলেও লাঘব করবে।
১০ মার্চ ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে, তা বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃত অভাবীদের কাছে সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
আপনার পছন্দ হতে পারে এমন আরো পোস্ট


