ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে চালু হবে বিষয়টি বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে সরকার একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

যার নাম ‘ফ্যামিলি কার্ড’। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানা গেছে, এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারী প্রতিটি পরিবারকে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা প্রদানের বিষয়টি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই কার্ড বিতরণ এবং টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আপডেট তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

এই পোস্টে যা যা থাকছে-

ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে চালু হবে ও ২৫০০ টাকা কবে থেকে পাবেন

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখ থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক (Pilot) কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার প্রতিটিতে একটি করে ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের সব পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে।

এই পাইলট প্রকল্পটি চার মাস চলবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সারাদেশের সকল উপজেলা ও ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম শুরু হবে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই নির্বাচিত পরিবারগুলোর হাতে এই কার্ড এবং আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন।

ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে চালু

বিশেষ করে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এবং অন্যান্য তথ্য থেকে এই প্রকল্পের স্পষ্ট রূপরেখা পাওয়া গেছে।

ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে চালু হবে প্রশ্নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী ১০ মার্চ ২০২৬ থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক (পাইলটিং) উদ্বোধন করা হবে।

মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, এই কার্ড দেওয়া হবে মূলত পরিবারের মা বা নারী প্রধানের নামে, যাতে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন।

কারা এই কার্ড পাবেন – ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে চালু হবে

ফ্যামিলি কার্ড বা এই ২৫০০ টাকার সহায়তা কর্মসূচিটি মূলত সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত এবং নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে সাজানো হয়েছে।

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, এই কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেনীর মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নিচে একটি তালিকা দেওয়া হলো যারা এই কার্ডের আওতায় আসতে পারেন:

১. নিম্ন-আয়ের ও দরিদ্র পরিবার

যাদের মাসিক আয় খুবই সামান্য এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন, তারা এই কার্ডের প্রাথমিক দাবিদার।

বিশেষ করে দিনমজুর, রিকশাচালক, কুলি বা ফেরিওয়ালারা অগ্রাধিকার পাবেন।

২. নারী-প্রধান পরিবার

সরকার এই কর্মসূচিতে নারীদের ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই যে সকল পরিবারে:

বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তা নারী রয়েছেন।

স্বামী পঙ্গু বা উপার্জনে অক্ষম এবং স্ত্রীই সংসার চালাচ্ছেন।

পরিবারের প্রধান হিসেবে একজন নারী দায়িত্ব পালন করছেন।

৩. ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষী

যাদের নিজস্ব কোনো চাষযোগ্য জমি নেই এবং অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন, তারা এই কার্ডের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন।

৪. বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি (প্রতিবন্ধী)

যে পরিবারে উপার্জক্ষম কোনো ব্যক্তি নেই এবং পরিবারের সদস্য শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম, সেই পরিবারগুলো এই তালিকার শীর্ষে থাকবে।

৫. অতি দরিদ্র জনগণ

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী থেকে বাদ পড়া পরিবার
অনেকেই আছেন যারা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা অন্য কোনো সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন না।

কিন্তু তারা অত্যন্ত দরিদ্রএমন পরিবারগুলোকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার বিশেষ শর্তাবলি

আপনি যদি চিন্তা করেন ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে চালু হবে,

তাহলে আপনাকে জানতে হবে এই কার্ড পাওয়ার শর্ত গুলি কিকি। সেগুলি হল-

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর অবশ্যই বৈধ এনআইডি কার্ড থাকতে হবে।

এক পরিবারে একটি কার্ড: একই পরিবারের একাধিক সদস্য এই কার্ড পাবেন না। একটি পরিবারকে একটি ইউনিট হিসেবে ধরা হবে।

স্বচ্ছতা: যারা ইতোমধ্যে অন্য কোনো বড় সরকারি আর্থিক সুবিধা (যেমন- বড় অংকের পেনশন) ভোগ করছেন, তারা সাধারণত এই কার্ডের বাইরে থাকবেন।

কিভাবে আবেদনকারীকে আবেদন করতে হবে ও যাচাই বাছাই করা হবে?

ফ্যামিলি কার্ডের জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়াটি এবার প্রচলিত সরকারি ভাতার চেয়ে কিছুটা আলাদা।

সরকার বিষয়টিকে স্বচ্ছ রাখতে এবং দালালের দৌরাত্ম্য কমাতে ‘সরাসরি তথ্য সংগ্রহ’ পদ্ধতি বেছে নিয়েছে।

এখন আমাদের মধ্যে যারা জানতে চাচ্ছি ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে চালু হবে তারা এটাও জানতে চাচ্ছি কিভাবে আবেদনকারীকে যাচাই বাছাই করা হবে।

আপনি যেভাবে আবেদন করবেন বা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করবেন, তার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ (মূল পদ্ধতি)

বর্তমানে সরকার ঘোষণা করেছে যে, কোনো অফিসে গিয়ে লাইন ধরে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

সরকারি প্রতিনিধি: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (UNO) তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি বিশেষ দল আপনার বাড়িতে আসবে।

তথ্য ফরম: তারা সাথে করে একটি নির্দিষ্ট ফরম নিয়ে আসবে এবং আপনার পরিবারের আর্থিক অবস্থার তথ্য সরাসরি আপনার কাছ থেকে সংগ্রহ করবে।

কাগজপত্র প্রদর্শন: তথ্য সংগ্রহের সময় আপনার NID কার্ড এবং মোবাইল নম্বর তাদের দেখাতে হবে।

২. স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ (বিকল্প পথ)

যদি আপনার এলাকায় তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়ে যায় কিন্তু আপনার বাড়িতে কেউ না আসে, তবে আপনি নিচের ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন:

আপনার এলাকার ইউপি সদস্য (মেম্বার) বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (UDC) উদ্যোক্তা।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস।

৩. অনলাইন পোর্টাল (আসন্ন)

সরকার একটি ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপ তৈরি করছে।

এটি চালু হলে আপনি নিজের মোবাইল থেকেই আবেদন করতে পারবেন।

এই প্রক্রিয়ায় পোর্টালে গিয়ে আপনার NID নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিলে আপনার তথ্য চলে আসবে।

এরপর কিছু অতিরিক্ত তথ্য (যেমন- পেশা, আয়) দিয়ে আবেদন সাবমিট করতে হবে।

ফ্যামিলি কার্ড পেতে কি কি কাগজ পত্র লাগবে?

ফ্যামিলি কার্ড বা এই ২৫০০ টাকার সহায়তা পাওয়ার জন্য খুব বেশি জটিল কাগজের প্রয়োজন নেই।

তবে তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের সময় নিচের ৪টি জিনিস আপনার কাছে থাকা বাধ্যতামূলক:

১. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card)

আবেদনকারীর (সাধারণত পরিবারের মা বা গৃহকর্ত্রী) মূল এনআইডি কার্ড এবং একটি ফটোকপি সাথে রাখতে হবে।

যাদের এনআইডি নেই বা স্মার্ট কার্ড পাননি, তাদের ক্ষেত্রে অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা কপি বা ভোটার স্লিপ সাময়িকভাবে কাজে লাগতে পারে।

২. সচল মোবাইল নম্বর

আপনার নামে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর থাকতে হবে।

এই নম্বরেই ভেরিফিকেশন কোড (OTP) আসবে।

সরকার এই নম্বরের মাধ্যমেই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে এবং পরবর্তী আপডেট জানাবে।

৩. মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট (বিকাশ/নগদ/রকেট)

যেহেতু টাকা সরাসরি আপনার মোবাইলে আসবে, তাই আপনার এনআইডি দিয়ে খোলা একটি সচল মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

অ্যাকাউন্টটি যেন আবেদনকারীর (নারী সদস্যের) নিজের এনআইডি দিয়ে খোলা হয়, তাতে টাকা পেতে সুবিধা হবে।

৪. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি

সাধারণত ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি সাথে রাখা ভালো। ফরম পূরণের সময় বা কার্ডে লাগানোর জন্য এটি প্রয়োজন হতে পারে।

FAQ: ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে চালু

১. ফ্যামিলি কার্ডে কি প্রতি মাসেই ২৫০০ টাকা পাওয়া যাবে?

হ্যাঁ, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী যোগ্য পরিবারগুলো প্রতি মাসে এই নির্দিষ্ট অংকের আর্থিক সহায়তা পাবে।

এটি মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ মেটাতে সহায়তা করবে।

এই টাকা কি সরাসরি হাতে দেওয়া হবে?

না। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে টাকা সরাসরি উপকারভোগীর মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ বা রকেট) অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠানো হবে।

৩. একই পরিবারে কি একাধিক কার্ড পাওয়া যাবে?

না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ‘এক পরিবার, এক কার্ড’ নীতি অনুসরণ করা হবে।

৪. আবেদন করতে কি কোনো টাকা লাগবে?

একেবারেই না। ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন বা তালিকায় নাম তোলার জন্য কাউকে কোনো টাকা দিতে হবে না।

৫. ১০ মার্চ থেকে কি সারাদেশে এই টাকা দেওয়া শুরু হবে?

না। ১০ মার্চ ২০২৬ থেকে প্রাথমিকভাবে ১৪টি উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে এটি শুরু হবে। এর ৪ মাস পর পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

৬. আমার এনআইডি (NID) কার্ড নেই, আমি কি আবেদন করতে পারব?

এনআইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র এই আবেদনের জন্য আবশ্যিক। তবে আপনার যদি ভোটার স্লিপ থাকে বা অনলাইন কপি থাকে, তবে সেটি দিয়েও প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চালানো যেতে পারে (সরকারি নির্দেশনাসাপেক্ষে)।

উপসংহার – ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে চালু

পরিশেষে বলা যায়, সরকারের এই ফ্যামিলি কার্ড ও ২৫০০ টাকা সহায়তা কর্মসূচি দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সাধারণ মানুষের পকেটে সরাসরি নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগটি দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

আপনার NID কার্ড এবং একটি সচল মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ/রকেট) অ্যাকাউন্ট এখনই প্রস্তুত রাখুন।

সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য দিয়ে এই সরকারি সুবিধাটি গ্রহণ করুন এবং আপনার পরিচিতজনদেরও এই বিষয়ে সচেতন করুন।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন