মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর আরোপের প্রস্তাব করেছে সরকার।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট সংক্রান্ত এক বৈঠকে এই প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ ব্যবহারকারী সরাসরি প্রভাবিত হবেন।
মধ্যবিত্তের যাতায়াত ও চালকদের জীবনযাত্রার ব্যয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবহন খাতের এই নতুন চ্যালেঞ্জ ও তার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
দেশের ক্রমবর্ধমান রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করতে সরকার এই নতুন কর আরোপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
সড়কপথে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনাই এই প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
নিবন্ধিত যানবাহনের সঠিক তথ্যভাণ্ডার নিশ্চিত করতে কর ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অটোরিকশা ও বাইকের অতিরিক্ত সংখ্যা কমিয়ে যানজট নিরসন করার পরিকল্পনাও এর পেছনে কাজ করছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাড়তি তহবিল জোগাড় করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় কত টাকা কর নেওয়া হবে?
মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার ওপর সিসি এবং এলাকাভেদে নতুন কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
রাজস্ব আয় বাড়াতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই নতুন কর কাঠামোতে সম্মতি দিয়েছেন।
মোটরসাইকেলের প্রস্তাবিত কর হার
ইঞ্জিন ক্ষমতা বা সিসি অনুযায়ী মোটরসাইকেলের বার্ষিক
অগ্রিম আয়কর নিচে দেওয়া হলো:
১১০ সিসি পর্যন্ত: কোনো কর দিতে হবে না (করমুক্ত)।
১১১ থেকে ১২৫ সিসি: বছরে ২,০০০ টাকা কর।
১২৬ থেকে ১৬৫ সিসি: বছরে ৫,০০০ টাকা কর।
১৬৫ সিসির উপরে: বছরে ১০,০০০ টাকা কর।
অটোরিকশার প্রস্তাবিত কর হার
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে এলাকাভেদে করের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে:
সিটি কর্পোরেশন এলাকা: বছরে ৫,০০০ টাকা কর।
পৌরসভা এলাকা: বছরে ২,০০০ টাকা কর।
ইউনিয়ন পর্যায়: বছরে ১,০০০ টাকা কর।
নতুন এই নিয়ম কার্যকর হলে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা মালিকদের এই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রতি বছর সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
অটোরিকশা চালক ও মোটরসাইকেল মালিকদের উপর চাপ ও সুবিধা
মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় ১০ হজার টাকা পর্যন্ত কর প্রদান করা বেশ কষ্টসাধ্য হতে পারে।
চালকদের ওপর করের চাপ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। যাতায়াত খরচ এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বার্ষিক এই কর মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের সঞ্চয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সুবিধা
যদি এই করের টাকা সড়কের মান উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চালকদের বিমার সুবিধায় ব্যয় করা হয়।
তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি ইতিবাচক ফল দিতে পারে।
এছাড়া অবৈধ ও অনিবন্ধিত যানের সংখ্যা কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
উপসংহার
পরিশেষে, রাজস্ব বৃদ্ধিতে এই নতুন কর ব্যবস্থা সরকারের জন্য একটি বড় আয়ের উৎস হবে।
তবে সাধারণ মানুষ ও চালকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।
যাতায়াত খরচ বাড়লে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর জীবনযাত্রার বাড়তি চাপের সৃষ্টি হতে পারে।
সঠিক তদারকির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রশাসনের একান্ত দায়িত্ব।
জনকল্যাণ ও অর্থনীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে এটাই প্রত্যাশা।
তথ্যসূত্রঃ
বাজেট সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠক এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দেওয়া নীতিগত সম্মতির ভিত্তিতে এই তথ্যগুলো সংগৃহীত।


