এনআইডিতে যুক্ত হচ্ছে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম, যা দেশের ডিজিটাল পরিচয়পত্র ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করে তুলবে।

সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি তাদের পিতা ও মাতার নামও ডাটাবেজে ইংরেজি হরফে সংরক্ষিত থাকবে।

মূলত পাসপোর্ট তৈরি, বিদেশের ভিসা আবেদন এবং আন্তর্জাতিক দাপ্তরিক কাজে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এই সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটারদের পাশাপাশি পুরাতন কার্ডধারীদের তথ্যও ধাপে ধাপে ডিজিটাল সার্ভারে আপডেট করা হবে।

নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ২৩ এপ্রিল এ বিষয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন।

এনআইডি ডাটাবেজে নাগরিকের নিজের নামের পাশাপাশি এখন থেকে পিতা, মাতা ও জীবনসঙ্গীর নামও ইংরেজিতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনআইডিতে যুক্ত হচ্ছে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম

তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে এনআইডির সাথে পাসপোর্টের তথ্যের মিল না থাকায় নাগরিকদের যে ভোগান্তি হয়, তা দূর করতেই এই সিদ্ধান্ত।

বর্তমানে এনআইডি নিবন্ধন ফরমে পিতা-মাতার নাম ইংরেজিতে লেখার ঘর নেই, যা দ্রুত সংশোধন করে নতুন ফিল্ড যুক্ত করা হবে।

আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনার মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে দাপ্তরিকভাবে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এনআইডিতে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম যুক্ত করলে কি কি সুবিধা হবে

ডাটাবেজে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম যুক্ত করার উদ্যোগটি নাগরিক সেবাকে আরও আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে মূলত পাসপোর্ট, ভিসা এবং বিদেশের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজগুলো অনেক বেশি সহজ ও গতিশীল হবে।

সুবিধাগুলো নিচে দেওয়া হলো:

 

  • পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন সহজ হওয়া: এনআইডি সার্ভারে ইংরেজি নাম থাকায় পাসপোর্ট অফিসের তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হবে।
  • ভিসা জটিলতা নিরসন: বিদেশের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের ইংরেজি বানান হুবহু মিলে যাওয়ায় আইনি জটিলতা কমবে।
  • বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান: আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বা কাজের চুক্তির ক্ষেত্রে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম সঠিক থাকা বাধ্যতামূলক, যা এখন সহজেই নিশ্চিত হবে।
  • ব্যাংকিং ও কেওয়াইসি আপডেট: অনলাইন ব্যাংকিং বা আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
  • ডিজিটাল ডাটাবেজ আধুনিকায়ন: নাগরিকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সংরক্ষিত থাকায় যে কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্য যাচাই সহজতর হবে।

বর্তমান ও নতুন কার্ডে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম কি যুক্ত হবে?

পুরাতন ও নতুন উভয় ধরনের ভোটারদের এনআইডি কার্ডের দৃশ্যমান বা বাহ্যিক অংশে পিতা-মাতার নাম সরাসরি ইংরেজিতে রূপান্তরিত বা প্রিন্ট হবে না।

পরিবর্তনটি মূলত কার্যকর হবে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ ডিজিটাল ডাটাবেজে, যেখানে এখন থেকে বাংলা নামের পাশাপাশি ইংরেজি নামও স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

এর ফলে বর্তমান কার্ডধারীদের নতুন করে কার্ড পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়বে না।

তবে আন্তর্জাতিক তথ্য যাচাইয়ের সময় সার্ভার থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইংরেজি নাম পাওয়া যাবে।

নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রেও কার্ডে আগের মতোই বাংলা নাম থাকবে, যদিও নিবন্ধনের সময় তাদের কাছ থেকে ইংরেজি বানানের তথ্য সংগ্রহ করে সার্ভারে রাখা হবে।

সহজ কথায়, আপনার হাতের কার্ডটি বাহ্যিকভাবে আগের মতোই থাকবে।

কিন্তু ডিজিটাল সিস্টেমে আপনার সকল তথ্য ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই আপডেট হয়ে যাবে।

FAQ: এনআইডিতে যুক্ত হচ্ছে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম

১. আমার এনআইডি কার্ডে কি এখন পিতা-মাতার নাম ইংরেজিতে দেখা যাবে?

না, এনআইডি কার্ডের ফিজিক্যাল বা দৃশ্যমান অংশে পিতা-মাতার নাম আগের মতোই কেবল বাংলায় থাকবে।

তবে নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল ডাটাবেজে এই নামগুলো ইংরেজিতে সংরক্ষিত হবে।

২. যাদের পুরনো কার্ড আছে, তাদের কি নতুন কার্ড দেওয়া হবে?

না, এজন্য নতুন করে কোনো কার্ড প্রিন্ট করে দেওয়া হবে না। আপনার বর্তমান কার্ডটিই সচল থাকবে।

শুধুমাত্র ব্যাক-এন্ড সার্ভারে আপনার পিতা-মাতার ইংরেজি নাম আপডেট করে দেওয়া হবে।

৩. এই ইংরেজি নাম যুক্ত হওয়ার ফলে আমার লাভ কী?

সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে পাসপোর্ট এবং বিদেশের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে।

এনআইডি ডাটাবেজে ইংরেজি নাম থাকলে পাসপোর্ট অফিসের সাথে তথ্য যাচাই (Verification) দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হবে।

৪. নতুন ভোটারদের কি আলাদা কিছু করতে হবে?

নতুন ভোটারদের নিবন্ধনের সময় ‘ফরম-২’ পূরণ করতে হয়। এখন থেকে সেই ফরমে পিতা, মাতা বা স্বামী/স্ত্রীর নাম ইংরেজিতে লেখার জন্য আলাদা ঘর থাকবে, যা ভোটার হওয়ার সময়ই পূরণ করে দিতে হবে।

৫. ডাটাবেজে ইংরেজি নাম ভুল থাকলে কি সমস্যা হবে?

হ্যাঁ, ডাটাবেজের ইংরেজি নামের সাথে আপনার জন্মনিবন্ধন বা সার্টিফিকেটের মিল থাকা জরুরি।

কোনো ভুল থাকলে তা এনআইডি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন করে ঠিক করে নিতে হবে।

উপসংহার – এনআইডিতে যুক্ত হচ্ছে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম

পরিশেষে বলা যায়, এনআইডি ডাটাবেজে পিতা-মাতার ইংরেজি নাম যুক্ত করার এই সিদ্ধান্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

এটি কেবল দাপ্তরিক জটিলতাই কমাবে না, বরং পাসপোর্ট বা বিদেশের ভিসা সংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার এনআইডি তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে ডাটাবেজের এই আপডেটগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং প্রয়োজনে তথ্য হালনাগাদ করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

আধুনিক ও স্মার্ট নাগরিক সেবা পেতে সঠিক তথ্যের কোনো বিকল্প নেই।

সঠিক তথ্য দিয়ে আপনার এনআইডি প্রোফাইল সমৃদ্ধ করুন এবং নিশ্চিন্তে নাগরিক সুবিধা ভোগ করুন।