ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ট্রাম সার্ভিস চালুর উদ্যোগ আধুনিক নগর পরিকল্পনায় এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক বৈঠকে এই পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
রাজধানী ঢাকার ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসন এবং ঐতিহ্যবাহী যানের সাথে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রগতি সরণি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রকল্প কেবল যাতায়াতে গতি আনবে না।
বরং ঢাকাকে একটি স্মার্ট মেগাসিটি হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করবে।
নাগরিক জীবনকে আরও আরামদায়ক ও গতিশীল করতে এই ট্রাম সার্ভিস বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
ট্রাম হলো রেলপথে চলাচলকারী এক ধরণের আধুনিক গণপরিবহন।
যা সাধারণত শহরের ব্যস্ত রাস্তার মাঝখানে বা পাশ দিয়ে বিছানো সমান্তরাল রেললাইনের ওপর দিয়ে চলে।
এটি অনেকটা ট্রেনের মতো হলেও আকারে ছোট এবং সাধারণত দুই থেকে চারটি বগি নিয়ে গঠিত হয়।
ট্রাম সার্ভিসের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
শহুরে বাহন: এটি দূরপাল্লার ট্রেনের মতো শহর থেকে অন্য শহরে যায় না, বরং শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাত্রী আনা-নেওয়া করে।
বিদ্যুৎ চালিত: আধুনিক ট্রামগুলো ওভারহেড বৈদ্যুতিক তার বা ব্যাটারি থেকে শক্তি সংগ্রহ করে চলে, তাই এটি সম্পূর্ণ ধোঁয়ামুক্ত ও পরিবেশবান্ধব।
রাস্তার সাথে সহাবস্থান: ট্রামলাইনগুলো রাস্তার সমতলে বসানো থাকে, ফলে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ বাস বা গাড়ির পাশ দিয়েই এটি নিজস্ব গতিতে চলতে পারে।
সহজ প্রবেশাধিকার: ট্রামগুলো রাস্তার লেভেলে থাকায় শিশু, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য এতে ওঠা-নামা করা বাসের তুলনায় অনেক বেশি সহজ ও আরামদায়ক।
ঢাকায় ট্রাম সার্ভিস চালুর উদ্যোগ
গত ২৪শে মার্চ মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন এবং যানজট নিরসনে বিকল্প পথ খোঁজার লক্ষ্যেই এই আলোচনার আয়োজন।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৈঠকে ঢাকার ট্রাফিক জট নিরসনে মেট্রোরেলের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী ট্রাম সার্ভিস চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনার প্রধান দিকগুলো ছিল:
পরীক্ষামূলক রুট: ঢাকার কোন কোন এলাকায় প্রাথমিকভাবে ট্রাম চললে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে, তা নির্ধারণে কারিগরি কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব যাতায়াত: বৈদ্যুতিক শক্তিতে চালিত এই ট্রামগুলো কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে ঢাকার বাতাসকে আরও নির্মল রাখতে সাহায্য করবে।
ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণ: এক সময়কার ঢাকার ঐতিহ্যবাহী যানকে আধুনিক প্রযুক্তিতে ফিরিয়ে এনে পর্যটন ও যাতায়াত উভয় ক্ষেত্রেই নতুন মাত্রা যোগ করা।
ঢাকায় ট্রাম সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিলে কি কি সুবিধা হবে
ঢাকায় পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে ট্রাম সার্ভিস চালু করা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।
এটি মেট্রোরেলের পরিপূরক হিসেবে শহরের যানজট নিরসন এবং যাতায়াতে নতুন গতির সঞ্চার করবে।
সুবিধাসমূহ:
- পরিবেশ দূষণ রোধ: বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলায় এটি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে শহরের বায়ুদূষণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করবে।
- সাশ্রয়ী যাতায়াত: মেট্রোরেল বা বাসের তুলনায় ট্রাম সার্ভিস সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ দেবে।
- যানজট নিরসন: নির্দিষ্ট ট্র্যাকে চলায় অন্যান্য যানবাহনের ওপর চাপ কমবে এবং স্বল্প দূরত্বে দ্রুত পৌঁছানো নিশ্চিত হবে।
- যাত্রী ধারণক্ষমতা: বাস বা সিএনজির তুলনায় ট্রামে অনেক বেশি যাত্রী একসাথে অত্যন্ত আরামদায়কভাবে যাতায়াত করতে পারবে।
- নান্দনিকতা ও ঐতিহ্য: ট্রাম চালুর মাধ্যমে ঢাকার রাস্তায় যেমন আভিজাত্য ফিরবে, তেমনি এটি পর্যটকদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণীয় হবে।
ঢাকায় ট্রাম সার্ভিস চালুর উদ্যোগ – কবে থেকে এটি চালু হতে পারে
২৪ শে মার্চের বৈঠকে ট্রাম সার্ভিস চালুর সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা না হলেও এটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকার প্রগতি সরণিকে প্রাথমিকভাবে ট্রাম চালুর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত রুট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে, প্রগতি সরণির এই পাইলট প্রকল্পের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে পর্যায়ক্রমে রাজধানীর অন্যান্য প্রধান সড়কগুলোকেও ট্রাম নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে।
বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো উদ্বোধনী দিনক্ষণ নির্ধারিত না হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে দ্রুত কাজ শুরুর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ফলে আশা করা যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ শেষ করে আগামী বছর নাগাদ রাজধানীবাসী প্রথমবারের মতো আধুনিক ট্রাম সার্ভিসের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবে।
FAQ: ঢাকায় ট্রাম সার্ভিস চালুর উদ্যোগ
১. ঢাকায় ট্রাম সার্ভিস চালুর প্রাথমিক রুট কোনটি?
প্রাথমিকভাবে ঢাকার প্রগতি সরণিকে ট্রাম চালুর জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই রুটে সফলভাবে চালু হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।
২. এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত কোথায় নেওয়া হয়েছে?
গত ২৪শে মার্চ মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৩. ট্রাম সার্ভিস কবে নাগাদ চালু হতে পারে?
বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা না হলেও দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই ও কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আশা করা হচ্ছে, সব প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে আগামী বছরের মধ্যে এই সেবা চালু হতে পারে।
৪. ট্রাম কেন বাসের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক?
ট্রাম বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলে বলে এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং এর জন্য আলাদা ট্র্যাক থাকায় এটি বাসের তুলনায় অধিক যাত্রীবাহী ও সময়সাশ্রয়ী। এছাড়া এর রাইড অনেক বেশি আরামদায়ক ও নিরাপদ।
৫. এটি কি সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল হবে?
না, ট্রাম সার্ভিস মূলত সাধারণ মানুষের জন্য একটি সাশ্রয়ী গণপরিবহন হিসেবে পরিকল্পিত।
এর ভাড়া জনগণের সামর্থ্যের মধ্যেই রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, ঢাকার ব্যস্ততম রাস্তায় ট্রাম সার্ভিসের পুনরাবর্তন কেবল একটি যাতায়াত ব্যবস্থার পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি আধুনিক ও টেকসই নগরী গড়ার অঙ্গীকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রগতি সরণি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই প্রকল্প রাজধানীর যানজট সমস্যার সমাধানে মেট্রোরেলের পাশাপাশি এক শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।
পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং আরামদায়ক এই সেবাটি চালু হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ যেমন লাঘব হবে, তেমনি ঢাকা ফিরে পাবে তার হারানো নান্দনিকতা।
উন্নত বিশ্বের কাতারে নাম লেখাতে বাংলাদেশের এই বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে একটি স্মার্ট ও গতিশীল ভবিষ্যতের মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র:
২৪ শে মার্চ ২০২৬ তারিখে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভার কার্যবিবরণী।


