নাম ‘ইএম ভাইটালিটি’। ২২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫ বছরের পুরনো এ জাহাজটি ভাঙার জন্য আনা হয়েছে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। গত এক দশকে এত দামে কোনো জাহাজ আমদানির রেকর্ড না থাকলেও এটির মাধ্যমে রেকর্ড গড়েছে সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের পারিবারিক শিল্পগ্রুপ মোস্তফা-হাকিম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এইচএম শিপব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড।

জানা গেছে, এ বছর এখন পর্যন্ত বিশ্বে এ ধরনের পুরনো জাহাজ বিক্রি হয়েছে মাত্র ১১টি। তন্মধ্যে এ জাহাজটি আমদানি করতে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে দিতে হয়েছে দুই কোটি ৪৫ লাখ ৬৪ হাজার মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। শুল্ককর দিতে হয়েছে ১৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। জাহাজটি কেটে বিক্রি করা হবে লোহা ও সঙ্গে থাকা বিভিন্ন মালামাল। এরপর খরচ বাদ দিয়ে থাকবে লাভের অংশ।

Advertisement

১৯৯৬ সালের অক্টোবরে জাপানের একটি কারখানায় জাহাজটি তৈরি হয়। তৈরির পর কয়েক বছর সৌদি আরবের জ্বালানি তেল পরিবহন কোম্পানি ‘বাহরি’র হাতে ছিল জাহাজটি। সাগর-মহাসাগরে জ্বালানি তেল নিয়ে ছুটে চলত এটি। 

জাহাজটি লম্বায় ৩৪০ মিটার, ঠিক ৯৭ তলা উঁচু ভবনের মতো লম্বা। এর আয়তন ১৯ হাজার বর্গমিটার। অর্থ্যাৎ, কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের ম্যাচটি যে মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আয়তনে সেই মাঠের তিনগুণ। 

এটির পেছনে রয়েছে প্রায় ৭৩ টন ওজনের প্রপেলার বা পাখা। প্রপেলারটি চালানোর জন্য রয়েছে ৩৩ হাজার ৬০০ অশ্বশক্তির (বিএইচপি) ইঞ্জিন। যা প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ৭০ বার প্রপেলারটিকে ঘোরাতে সক্ষম। ইঞ্জিন চালানোর জন্য রয়েছে পাঁচটি জেনারেটর। এছাড়াও মূল্যবান নানা পণ্য রয়েছে জাহাজটিতে।

দুই বছর আগে ১৮০ কোটি টাকায় একই ধরনের জাহাজ কিনেছিল চট্টগ্রামের এ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু বিশ্ববাজারে লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় সেই দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২২৩ কোটিতে। 

এদিকে, আমদানির পর দুই সপ্তাহ আগে জাহাজটি ভাঙার কাজ শুরু করেছে শিপইয়ার্ডটির প্রায় ৫শ’ কর্মী। এ ধরনের জাহাজ বানাতে ৯ থেকে ১৫ মাস সময় লাগলেও এক বছরেই এটি ভাঙতে চায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। আর এখান থেকেই ৪৮ হাজার টনের বেশি লোহা পাওয়া যাবে বলে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। 

গ্রপটির পরিচালক মো. সারোয়ার আলম বলেন, ইস্পাত কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে জাহাজ ভাঙার গলনশীল লোহার চাহিদা ভালো। আমাদের দুটি কারখানা সীতাকুণ্ডের গোল্ডেন ইস্পাত ও কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ের এইচএম স্টিলে এ জাহাজের গলনশীল লোহা ব্যবহার হবে। এছাড়া বাকি পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি তামা, পিতল, কপারের মতো বেশ কিছু মূল্যবান পণ্য রফতানি করা হবে।

Advertisement