আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অনেক চাপ সত্ত্বেও মিয়ানমারের যে রাজনীতিকরা রোহিঙ্গাদের অধিকারের বিন্দুমাত্র স্বীকৃতি দিতে রাজি হয়নি, হঠাৎ করে তাদের অবস্থানে নাটকীয় পরিবর্তন বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো অং সান সু চি’র দল এনএলডি-সহ বিরোধী দলগুলোর একটি জাতীয় মোর্চা থেকে গত বৃহস্পতিবার রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে এই নাটকীয় ঘোষণাটি দেওয়া হয়। এতে রোহিঙ্গাদের অধিকারের স্বীকৃতি শুধু নয়, ১৯৮২ সালের যে নাগরিকত্ব আইনের বলে তাদের অধিকার হরণ করা হয়, সেটি বিলোপের অঙ্গীকারও রয়েছে।গণতন্ত্রের দাবিতে রক্তাক্ত সংগ্রামে লিপ্ত মিয়ানমারের বিরোধীদলগুলো এখন গড়ে তুলেছে একটি সমান্তরাল সরকার, যেটি ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) নামে পরিচিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি লাভের জন্য এই এনইউজি এখন সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

Advertisement

কিন্তু রোহিঙ্গা প্রশ্নে তাদের অবস্থান পরিষ্কার না করে সেটা পাওয়া কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় ছিল।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ফরেন এফেয়ার্স কমিটির এক শুনানিতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই শুনানিতে এনইউজির এক দূতকে কংগ্রেসম্যান ব্রাড শেরম্যান প্রশ্ন করেছিলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান কী, যার কোনও সদুত্তর দিতে তিনি ব্যর্থ হন।

এনইউজি যে রোহিঙ্গা প্রশ্ন তাদের অবস্থান বদলেছে, আন্তর্জাতিক চাপ সেখানে বড় ভূমিকা রাখছে বলে অনেকে মনে করছেন।

ল্যারি জ্যাগান বলেন, “তারা নিজেরা যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি চায়, বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে স্বীকৃতি পেতে হলে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে অবস্থান বদল করতে হবে। নইলে তারা সহানুভূতি পাবে না।”

তবে ল্যারি জ্যাগান বলেন, শুধু আন্তর্জাতিক চাপ নয়, সামরিক অভ্যুত্থানের পর রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মিয়ানমারের রাজনীতিকদের চিন্তা-ভাবনায়ও একটা নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে।

“সামরিক অভ্যুত্থান জনগণকে এটা উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছে যে, সামরিক বাহিনীর নিপীড়ন যেটা রাখাইনে ঘটেছিল, সেটাই এখন অন্য সব জায়গায় ঘটছে। কাজেই দৃষ্টিভঙ্গিতে একটা মৌলিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। আমার মতে এটা একটা আন্তরিক পরিবর্তন।”

ল্যারি জ্যাগানের মতে আরেকটি বিষয়ও এখানে কাজ করছে, সেটি হচ্ছে, মিয়ানমারের জেনারেলদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা।

“এনইউজি চায়, সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যে মামলা, তাতে সাহায্য করতে, যাতে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর সংগঠিত অপরাধের বিচার করা যায়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তারা নিজেদের নীতি পরিবর্তন না করে তো এটা করতে পারবে না। সেজন্যেই হয়তো তারা অবস্থান পরিবর্তন করেছে।”

মিয়ানমারের রাজনীতিকরা এবার যে তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করবেন সে ভরসা কোথায়?

বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট টুন খিন অতটা নৈরাশ্যবাদী হতে চান না।

“আগের তুলনায় এবার তারা অনেক বেশি ইতিবাচক, এটাই আমি বিশ্বাস করতে চাই। এর আগেরবার আমরা কেবলমাত্র অং সান সুচির ওপর ভরসা করেছিলাম। কিন্তু এবার আমরা একটা পুরো জাতীয় ঐক্যের সরকারের ওপর এই আস্থা রাখছি। বার্মার মানুষের মধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কিছু সমর্থন এবং সহানুভূতি আমরা দেখছি। কাজেই আমি আশাবাদী।”

Advertisement