স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে জাতীয় সংসদে তোপের মুখে পড়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তবে সমালোচনার পরও স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন যে করোনা মোকাবেলায় ওষুধের কোনো ঘাটতি হয়নি। অক্সিজেনের অভাব হয়নি। আমেরিকায় যে চিকিৎসা, এখানেও একই চিকিৎসা হয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকালের অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, ‘কেনাকাটায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুর্নীতির ডিপো। কিভাবে এই মন্ত্রণালয়ের সংস্কার করবেন, তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সুস্পষ্টভাবে জানাতে হবে।’

Advertisement

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ১০ মাসে স্বাস্থ্য খাতে এডিপির মাত্র ২৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। এখন আবার নতুন করে বরাদ্দ চাইছে। তিনি বলেন, ‘৭৫ শতাংশ অর্থ কেন অব্যবহৃত রয়ে গেছে, তার জবাব স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দিতে হবে।’ রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জেলায় জেলায় আইসিইউ স্থাপন করতে বলেছেন। কিন্তু দেড় বছরে মাত্র পাঁচ জেলায় নতুন আইসিইউ স্থাপন করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘আপনি একজন সজ্জন। আপনার বাবা আমার সঙ্গে মন্ত্রী ছিলেন। আপনাকে আমি চিনি। অত্যন্ত ধনাঢ্য পরিবারের ছেলে আপনি। কিন্তু আপনার তো কর্তৃত্ব নেই, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যা হচ্ছে!’ তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতালে এখন দরকার অক্সিজেন। সেটা না এনে আনা হচ্ছে এমআরআই, সিটি স্ক্যান মেশিন। পাঠানো হচ্ছে উপজেলায়। তারা সব সাজিয়ে রেখে দিয়েছে। চালাতে পারে না।’

এসব সমালোচনার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা মোকাবেলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এসব কারণে দেশে মৃত্যুর হার দেড় শতাংশ। বিশ্বে এই হার আড়াই শতাংশ।’

মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। টিকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চীন থেকে পাঁচ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে এসেছে। এই টিকা ২৫ মে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। আরো ছয় লাখ ডোজ টিকা অনুদান হিসেবে শিগগিরই পাওয়া যাবে।’

Advertisement