বরগুনার পাথরঘাটার শাহিন মুন্সী (২১) ধর্ষণ মামলায় তিন মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে বিয়ে করেছিলেন মামলার বাদী সুমাইয়া আক্তারকে (১৮)। একটি কন্যা সন্তানও জন্ম দেন তারা। শেষ পর্যন্ত সেই সুমাইয়াকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন শাহিন, সঙ্গে ৯ মাসের মেয়েকেও। এরপর দু’জনকেই মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যান। চাঞ্চল্যকর ওই জোড়া খুনের ১২ দিনের মাথায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে ঘাতক শাহিনকে।

সিআইডি জানায়, জোড়া খুনের ঘটনাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলে সিআইডি ছায়াতদন্ত শুরু করে। সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকা থেকে আসামি শাহিন মুন্সীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

Advertisement

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, পারিবারিক কলহের জেরে নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ১ জুলাই সন্ধ্যা থেকে সুমাইয়ার সঙ্গে শাহিনের প্রচণ্ড বাগবিতণ্ডা হয়। রাতে সুমাইয়া বাসা থেকে বের হলে শাহিন মাছ ধরার বড়শির নাইলনের সুতা দিয়ে তার গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ সময় ঘরে ৯ মাসের শিশুসন্তানটি কান্নাকাটি করছিল, তাকেও বাড়ির পাশের খালে নিয়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর দু’জনকেই ডোবার পাশে কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে চাপা দেওয়া হয়।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, গত বছরের ১৪ জুলাই সুমাইয়াকে ধর্ষণের অভিযোগে শাহিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে জামিনে বেরিয়ে তিনি সুমাইয়াকে বিয়ে করেন। তবে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালো যাচ্ছিল না। শাহিন একাই দু’জনকে হত্যা করেছেন দাবি করলেও এর সঙ্গে অন্য কেউ ছিল কিনা, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

Advertisement