কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বারাইপুরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের পর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছে স্বামী। এ ঘটনায় নির্যাতিতার অভিযোগে শনিবার তার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত মো. হাসান ওই উপজেলার ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের বারাইপুর গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে।

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮-১৯ বছর আগে মো. হাসানের সঙ্গে বিয়ে হয় ওই নারীর। তাদের সংসারে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি থেকে একাধিকবার আর্থিক সুবিধা নিয়েছে হাসান। সম্প্রতি সে ব্যবসার জন্য পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে স্ত্রীকে চাপ দেয়। টাকা দিতে অসম্মতি জানানোয় ১৯ জুন বিকেলে ওই গৃহবধূকে টয়লেট পরিষ্কারের ব্রাশ দিয়ে পেটায় স্বামী হাসান ও দেবর হোসাইন। এরপর মাথা ন্যাড়া করে দেয়। পরবর্তীতে ২৪ জুন বিকেলে আবারো নির্যাতন চালানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ৩০ জুন দুপুরে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একরামুল হক নিজ কার্যালয়ে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। হাসান সংসার করতে না চাওয়ায় সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, দুই লাখ টাকা নিয়ে স্ত্রী স্বামীকে ডিভোর্স দেবে। কিন্তু নির্যাতন ও মাথা ন্যাড়া করার বিচার না পাওয়ায় হাসানের স্ত্রী সে সিদ্ধান্ত মানেননি।

আরো জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে মাকে নিয়ে নির্যাতিতা গৃহবধূ লালমাই থানার নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্কের এএসআই হ্লাম্রাচিং মারমা’র সহায়তা চান। তখনই বিষয়টি ওসির নজরে আসে।  তিনি বিস্তারিত শুনে এবং প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পেয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেন। শনিবার ভোরে লালমাই থানাধীন ভুশ্চি বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে হাসানকে নিজ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেন।

ভুলইন দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছি। স্বামী হাসান সিদ্ধান্ত মেনে ৪০ হাজার টাকা আমার কাছে জমাও রেখেছে। বাকি টাকা আগস্টে পরিশোধ করার কথা। কিন্তু তার স্ত্রী কেন মামলা করল বিষয়টা জানি না।
 
লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, গৃহবধূকে নির্যাতন ও মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় স্বামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement