সন্তানদের যৌন নির্যাতনের দায়ে চিনি মেশানো গরম পানি ঢেলে ঘুমন্ত স্বামীকে হত্যা করেছেন এক নারী। মাইকেল বাইনস নামে ওই ব্যক্তি নিজের শয্যায় ঘুমিয়ে ছিলেন। তখন বাগানের বড় বালতিতে কেতলি থেকে গরম পানি ভরে তাতে তিন ব্যাগ চিনি মেশান তার স্ত্রী ৫৯ বছর বয়সী কোরিন্না স্মিথ। এরপর বালতিভর্তি পানি ঘুমন্ত স্বামীর গায়ে ঢেলে দেন তিনি। খবর দ্য সান’র।

এর আগে এই দম্পতির মেয়ে অভিযোগ করেন, তারা যখন শিশু ছিল, তখন বহু বছর ধরে সে ও তার ভাই ক্রেগকে যৌন নির্যাতন করেছে এই লোক। পরে ২০০৭ সালে ক্রেগ আত্মহত্যা করেছে। চেশায়ারের নেস্টনের বাসিন্দা স্মিথকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। এমনকি অন্তত ১২ বছর কারাদণ্ড ভোগ করার আগে তাকে কোনো প্যারোলও দেওয়া হবে না বলে আদালত জানিয়েছে।

Advertisement

শুক্রবার (৯ জুলাই) চেস্টার ক্রাউন কোর্টকে কৌঁসুলিরা বলেন, পানিতে মেশানো চিনি ছিল চটচটে আঠালো ও পুরু। গরম পানিতে এই চিনি মিশিয়ে যখন মাইকেল বাইনসের শরীরে ঢেলে দেওয়া হয়, তখন সে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এতে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
আশি বছর বয়সী বাইনসের শরীরের ৩৬ শতাংশ ঝলসে গিয়েছিল। তাকে অস্ত্রপচার ও ত্বক সংযোজন করতে হয়েছে। কিন্তু আক্রান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরে গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে উইসটন হাসপাতালে তিনি মারা যান।

বিচারক আমান্দা ইয়াপ কিউসি বলেন, সবকিছু আমলে নেওয়া কঠিন। তবে ক্রেগ মারা যাওয়ার যে অভিযোগ করেছে এবং আপনার মেয়ে যা বলেছে, তার মধ্যে একটি সংযোগ আছে। আপনি ভারী হতাশ ও ক্রুব্ধ ছিলেন, তা বোঝা যাচ্ছে।

কিন্তু কৌঁসুলিরা বলেন, নিহত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আসামি যে অভিযোগ করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে গত বছরের ১৪ জুলাই এ হামলা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিবাদী যে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন, তা সত্য বলে ধরে নিচ্ছি। 

কিন্তু গত মাসে বিচারে হত্যার দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে বিচারক। স্বামীকে হত্যা ছিল তার পূর্বপরিকল্পিত। পানি গরম করে তা বালতি ভরতে ১৩ মিনিট সময় নেওয়া হয়েছে। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এভাবে পরিকল্পনা করে কিছু করা সম্ভব হয় না। এ কারণে হত্যার পেছনের কারণ হিসেবে বিবাদীর বক্তব্য দুর্বল বলে প্রতিপন্ন করা হয়েছে।

Advertisement