‘গাছে কাঁঠাল, গোঁফে তেল’—এই প্রবাদবাক্য মেনে মানুষের গোঁফে তেল থাকুক আর না–ই থাকুক, গাছে গাছে এখন ঝুলছে বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। তবে জনপ্রিয় এই ফল পাকাতে এখন আর প্রকৃতির উপর নির্ভর করতে হয় না। নানা ধরণের বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করে এক রকম জোর করেই মধু মাসের মধুফল কাঁঠাল পাকানো হচ্ছে। যার ফলে ঘাটাইলসহ মধুপুর গড় এলাকায় উৎপাদিত কাঁঠাল তার সুনাম খোয়াতে বসেছে। পাশাপাশি কাঁঠালের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষক।

উপজেলার কাঁঠাল প্রধান পাহাড়িয়া এলাকা ঘুরে কাঁঠাল ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, বেশি লাভের আশায় মৌসুম শুরুর আগেই কচি কাঁঠালে নির্বিচারে রাসায়নিক প্রয়োগের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। অসাধু ব্যবসায়ীরা অপরিপক্ক কাঁঠাল পাকাতে কার্বনের ধোয়া, পটাশের তরল দ্রবন এবং রাইপেন ও ইথিফন জাতীয় বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করছে। আর স্থানীয় ভাষায় ’শিকমারা পদ্ধতিতে কাঁঠালে এসব বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করা হচ্ছে।

Advertisement

শিকমারা পদ্ধতি সম্পর্কে স্থানীয় কাঁঠাল ব্যবসায়ীরা জানান, প্রথমে প্রায় দেড় ফুট লম্বা লোহার শিক কাঁঠালের বোটা বরাবর ঢুকিয়ে দিয়ে ছিদ্র করা হয়। পরে ছিদ্রপথে সিরিঞ্জ দিয়ে বিষাক্ত কার্বাইড, ইথিফন ও রাইপেন জাতীয় পদার্থ প্রয়োগ করা হয়। তারপর কাঁঠালগুলো স্তুপাকারে সাজিয়ে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়। এ অবস্থায় ২৪ ঘণ্টায় একটি কচি কাঁঠাল পেকে যায়। এছাড়া মেশিনে স্প্রে করেও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে থাকেন কেউ কেউ।

উপজেলার গারোবাজার হাটে গিয়ে দেখা যায় কাঁঠাল ব্যবসায়ীরা দ্রুত কাঁঠাল পাঁকাতে শিকমারা পদ্ধতিতে কাঁঠালে রাইপেন ও ইথিফন জাতীয় বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করছে। অথচ সরকারিভাবে এসব রাসায়নিক বিক্রি নিষিদ্ধ। শুধু গারোবাজার নয় উপজেলার সাগরদিঘী, জোড়দিঘী, শহর গোপিনপুর, ধলাপাড়া, দেওপাড়া, ছোনখোলা, পেচারআটা বাজার, মাকড়াই বাজার, কুশারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার কাঁঠালের বাজার ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে।

কাঁঠাল ব্যবসায়ী পাগু মিয়া জানান, বেশি লাভের আশায় তারা কাঁঠালে রাসানিক দ্রব্য মিশিয়ে থাকেন। ঢাকা শহরে কেউ কাচাঁ কাঠাল কিনতে চায় না। তাই সকল কাঠাল একসাথে পাকাতে রাসায়নিক দিতে হয়।

গারোবাজার এলাকার ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করে কাঁঠালের প্রাকৃতিক স্বাদ নষ্ট করায় অনেকেই এখন আর কাঁঠাল খেতে চান না। যার ফলে বাজারও অনেকটা মন্দা।

স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, বাজারে প্রতিটি কিটনাশকের দোকানে এসব বিষাক্ত রাসায়নিক বিক্রি করলেও এর বিরুদ্ধে কোন অভিযান নেই স্থানীয় প্রসাশনের। জনস্বার্থে এদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

উপজেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, ফলের মধ্যে উচ্চ ও অতিরিক্ত মাত্রায় রাসায়নিক ব্যবহার মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে ফুসফুস, কিডনি জনিত নানা রোগ দেখা দিতে পারে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুর রহমান খান বলেন, রসায়নিক দ্রব্য মিশ্রিত কাঁঠাল খেলে আমাশয়, লিভারের রোগ, রাতকানা ,শ্বাসকষ্ঠ ,অ্যাজমা ও ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ হতে পারে।

Advertisement