রাজধানীর বাড্ডায় নূরের চালা সাঈদ নগর এলাকার সাততলা বাড়ির ষষ্ঠতলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন আব্দুর রহিম শেখ ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম। বেশির ভাগ সময়েই ভেতর থেকে বন্ধ থাকত বাসাটি। ডিবি পুলিশের অভিযানে দেখা যায়, স্বামী-স্ত্রী মিলে সেখানে টাকা বানানোর রীতিমতো ‘টাঁকশাল’ খুলে বসেছেন। খাটের নিচ থেকে শুরু করে পুরো বাসায় থরে থরে সাজানো নতুন টাকার বান্ডিল। টাকা তৈরির কাগজ, প্রিন্টার, কালি, নিরাপত্তা সুতা- সবই আছে সেখানে। যার সবই জাল।

সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ অভিযান চালায় বাসাটিতে। অভিযানে গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে রয়েছেন- রহিম শেখ ও তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম এবং তাদের সহযোগী হেলাল খান, আনোয়ার হোসেন ও ইসরাফিল আমিন।

Advertisement

জাল টাকা তৈরির এ কারখানা থেকে ১০০০ টাকা ও ৫০০ টাকা মূল্যমানের প্রায় ৪৩ লাখ জাল টাকা, একটি ল্যাপটপ, দুটি কালার প্রিন্টার, আঠা ও আইকা, বিভিন্ন ধরনের রং, কাগজ, নিরাপত্তা সুতার বান্ডিল, লেমিনেটিং মেশিন, কাটার, টাকায় ব্যবহূত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লোগোযুক্ত বিশেষ কাগজ জব্দ করা হয়েছে। এসব উপকরণ দিয়ে কয়েক কোটি টাকার জাল নোট তৈরি করা সম্ভব।

অভিযানের পর ঘটনাস্থলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) এ কে এম হাফিজ আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন উৎসব, বিশেষত ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জাল টাকা তৈরির চক্র, মলম পার্টি, অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাইকারীর দৌরাত্ম্য বাড়ে। এ চক্রটিও ঈদ উপলক্ষে জাল টাকা তৈরি করছিল।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান। তিনি সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তার ফাতেমা ও তার স্বামী রহিম শেখ জাল টাকা তৈরি ও সরবরাহের পুরোনো কারিগর। ২০১৯ সালেও হাতিরঝিল এলাকার একটি বাসা থেকে ফাতেমাকে তার সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন তার স্বামী পালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে ফাতেমাও কারাগার থেকে বেরিয়ে পুরোনো পেশায় যুক্ত হয়। এ তথ্য জানার পর পুলিশ ফের এই চক্রটিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছিল।

অভিযানে ফাতেমা ও রহিমের সঙ্গে গ্রেপ্তার হেলাল খান গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ছিলেন। তবে ইয়াবায় আসক্ত হয়ে তিনি সব খুইয়ে মাদক ও জাল টাকার ব্যবসা শুরু করেন। হেলাল জাল টাকা তৈরিতে অর্থ বিনিয়োগ করে আসছিলেন।

গ্রেপ্তার রহিম শেখ ও তার স্ত্রী ডিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তারা তাদের বাসায় জাল টাকা তৈরি করলেও তা নানা হাত ঘুরে খুচরা পর্যায়ে চলে যায়। ঈদ উপলক্ষে তারা মাসে এক কোটি টাকার জাল নোট তৈরির চেষ্টায় ছিলেন। এক লাখ টাকার জাল নোটের একটি বান্ডিল তৈরি করতে তাদের সাত থেকে আট হাজার টাকা খরচ হয়। তবে তা তারা বিক্রি করেন ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। পাইকারি ক্রেতারা খুচরা পর্যায়ে প্রতি বান্ডিল ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া এসব তথ্য দিয়ে ডিবি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জাল টাকার পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Advertisement