আমরা দিনে যতই ঘুমাই না কেন, রাতের ঘুমের মত ফলাফল কখনোই দিবে না। প্রতিটি মানুষের রাতের জন্য ঘুমানোর উপযুক্ত সময় হল রাতের বেলা। আর দিনের বেলা হল কাজ করার জন্য সময়। কিন্তু অনেকেই আছেন, যাদের রাতের বেলা ঘুম আসতে চায়না। আবার আসলেও তা অনেক রাতে আসে। এই ধরনের সমস্যার মানুষ
অনেক আছে। আর যারা এই সমস্যায় ভুগেন তাদের দীর্ঘমেয়াদি অনেক জটিল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। শুধু তাই নয় এই ধরনের মানুষের কাজেকর্মেও অনেক ব্যাঘাত ঘটে। এই ধরনের মানুষের মেজাজ অনেক খিটখিটে হয়। যার ফলে এর প্রভাব তার সামাজিক ভাবে ব্যাপকভাবে পড়ে। নানা কারণে এই রাত জাগা সমস্যা হতে পারে। তবে জীবনের কিছু অভ্যাস আয়ত্তে আনতে পারলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। দেখে নিন কি কি অভ্যাস আয়ত্তে আনতে হবে-

সাড়াদিন প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানির উপস্থিতি আমাদের মনকে চনমনে রাখে ও শরীরের সকল ক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে, যা রাতে ঘুম আসতে সহায়তা করে।

চা ও কফি সামান্য পরিমাণ খেতে হবে, খুব বেশি খাওয়া যাবে না। অনেকেই আছে সাড়াদিন প্রচুর পরিমাণ চা ও কফি খেয়ে থাকেন। এই চা ও কফির মধ্যে আছে ক্যাফেইন যা আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। আবার এই ক্যাফেইন অল্প ও নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্রহন করলে তা আবার ঘুমের জন্য ভাল। তাই সকালে ও বিকালে অপ্ল পরিমাণ চা ও কফি পান করলে তা রাতে ঘুম আসাতে সাহায্য করে।

কখনোই দিনের বেলা বিশেষ করে দুপুর বেলা লম্বা সময়ের জন্য ঘুম দেওয়া যাবে না। তবে কাজের ফাঁকে ফাঁকে ২০ -৩০ মিনিটের ন্যাপ নিলে অর্থাৎ কাজ করতে করতে কিছুটা ক্লান্ত অনুভব হলে হাতের উপর মাথা নিয়ে ঘুম দেওয়া যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে ন্যাপ নিলে শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর হয়ে যাবে। আর লম্বা সময়ের ঘুম না নেয়ার ফলে রাতে ঘুমও ভাল হবে। তবে এই ন্যাপ নেওয়ার উপযুক্ত সময় হল দুপুর ১২ থেকে ২ টার মধ্যে।

চিনি ও চিনি জাতীয় খাবার অনেক কম খেতে হবে। কারণ চিনির মধ্য থাকা উপাদান ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।

বাইরে কমপক্ষে ৩০ মিনিট প্রতিদিন হাঁটতে হবে ও ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে হবে। কারণ কায়িক পরিশ্রমের ফলে রাতে ঘুম অনেক ভাল হবে ও খুব তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসবে। এছাড়া দিনে কমপক্ষে একবার সূর্যের আলো শরীরে লাগাতে হবে। এই সূর্যের আলো ঘুমের জন্য খুবই ভালো।

ঘুমের একটা রুটিন তৈরি করতে হবে, আর সেই রুটিন মোতাবেক ১ ঘন্টা আগে থেকেই ঘুমের প্রস্তুতি নিতে হবে। আর ধুমপান করার অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করতে হবে।

ঘুমানোর সময় আরামদায়ক, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন বিছানায় ঘুমাতে হবে। আর খেয়াল রাখতে হবে যেন ঘুমানোর ঘরটি যেন আলোমুক্ত, কোলাহোলমুক্ত ও শব্দমুক্ত হয়।

ঘুমানোর ১ ঘন্টা আগে টিভি, মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটব, ট্যাব এগুলো ব্যবহার করা বন্ধ করে দিতে হবে। কারণ এগুলো দেখতে থাকলে এর রেশ আমাদের মস্তিস্কে অনেক থেকে যায়। যার ফলে ততক্ষণাৎ ঘুম আসেনা।