একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে বিভিন্নভাবে আয় করা যায়। যেমন ব্লগ লিখে অ্যাড লাগিয়ে আয়, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয়, ওয়েবসাইট বিক্রি করে আয় অথবা নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করা সহ নানাভাবে একটি ওয়েবসাইট থেকে আয় করা যায়। যার ফলে অবশ্যই সেই ওয়েবসাইটটির একটি ভাল মানের ওয়েবসাইট ওয়েবসাইট হওয়া প্রয়োজন। আর একটি ভালমানের ওয়েবসাইটের বিভিন্ন গুণাবলি থাকা প্রয়োজন কিংবা একটি ভাল মানের ওয়েবসাইটে নানা রকম বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন, যাতে করে
বেস্ট আর্নিং সাইটে পরিণত হয়।

দেখে নিন একটি ভাল মানের আর্নিং ওয়েবসাইটের কি কি বৈশিষ্ট্য থাকা জরুরীঃ

১। ভাল মানের ডোমেইন হতে হবেঃ

একটি ডোমেইনের উপর আপনার ব্যবসা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। আপনাকে একটি ডোমেইন নির্বাচনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে সেটি টপ লেভেল ডোমেইন হয়। যেমনঃ .com, .net, .info ইত্যাদি। আর ডোমেইনের নামের সাথে যেন ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুর মিল থাকে। আর ডোমেইনটি যেন ভাল প্রোভাইডারের হয়। যেমনঃ godaddy.com, namecheap.com, domain.com. তবে এদের মধ্যে godaddy.com এর ডোমেইন ভাল হয়। কারণ ডি এন এস প্রোপাগেশন সময় অন্যদের চাইতে ভাল হয় ও এদের ডোমেইন গুলোর সার্ভার রেস্পন্স সময় ভাল হয়, যার ফলে ওয়েবসাইট দ্রুত কাজ করে।

২। ভাল মানের ওয়েব হোস্টিংঃ

ওয়েবসাইট থেকে আনলিমিটেড আয়

একটি গুড আর্নিং অয়েবসাইটের অন্যতম দরকারী হল একটি ভাল মানের ওয়েবসাইট হোস্টিং। অনেক সস্তা ও কম কনফিগারেশন যুক্ত হোস্টিং ব্যবহার করা ঠিক নয়। এতে করে খুব একটা বেশি ভিজিটর ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারে না। বিভিন্ন ধরনের ওয়েব হোস্টিং রয়েছে। যেমনঃ শেয়ার্ড হোস্টিং, ক্লাউড হোস্টিং, ডেডিকেটেড হোস্টিং ইত্যাদি। এদের মধ্যে কমপক্ষে ক্লাউড হোস্টিং ব্যবহার করা উচিত। আর এতে কমপক্ষে ২০ ডলারের সার্ভার নিয়ে প্রথম স্টেপে কাজ শুরু করা উচিত। ধীরে ধীরে ভিজিটির বাড়ার সাথে সাথে আরো দামী হোস্টিং নেওয়া যাতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে হোস্টিং এর রিজিয়ন যেন আপনি যেখান থেকে ভিজিটর চান, তার আশেপাশে হয়। যেমন আপনি যদি বাংলাদেশের ভিজিটর চান তবে সেক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান সার্ভার রিজিয়ন নির্বাচন করতে হবে। কয়েকটি ভালমানের ক্লাউড সার্ভার হলঃ amazon lightsails, digitalocean.com, vultr.com, linode.com ইত্যাদি।

৩। ওয়েবসাইটের সঠিক প্ল্যাটফর্ম নির্ধারণ করাঃ

একটি ওয়েবসাইট বিভিন্নভাবে তৈরি করা যায়। যেমনঃ নিজস্ব কোডিং এর মাধ্যমে, বিভিন্ন সি এম এস ব্যবহার করে, ওয়েবসাইট বিল্ডার ব্যবহার করে। তবে এদের মধ্যে সি এম এস ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে ওয়েবসাইট বানালে খুব ভাল হয়। কারণ ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে ওয়েবসাইট বানালে সেই ওয়েবসাইট খুব সহজেই বানানো যায়। এছাড়া এই ওয়েবসাইটের সব থীমগুলি রেস্পন্সিভ হয় ও অনেক ফাস্ট হয়। তাছাড়া এই ওয়েবসাইটগুলোর বিভিন্ন প্লাগিন ব্যবহার করে যেকোন অপশন ওয়েবসাইটে লাগানো যায়।

৪। ওয়েবসাইটের স্পীডঃ

যে ওয়েবসাইটের স্পীড যত বেশি, সেই সকল ওয়েবসাইটে তত বেশি ভিজিটর হয়। তাই এর জন্য ওয়ার্ডপ্রস ওয়েবসাইট ও এর সাথে একটি মিনিমাল থীম ব্যবহার করতে হয়। আর ওয়ার্ডপ্রেসের বিভিন্ন প্লাগিন্স ব্যবহার করে ওয়েবসাইটেরর স্পীড বাড়ানো যায়। যেমনঃ w3 total cache, wp super cache, wp-rocket ইত্যাদি। এছাড়া ওয়েবসাইটে সবসময় অপ্রয়োজনিয় প্লাগিন্স ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে। এছাড়া
ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ছবি অপ্টিমাইজ করে লাগাতে হবে। এছাড়া ওয়েবসাইটের আরো স্পীডের জন্য cdn ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ওয়েবসাইটের গতি আরো বাড়িয়ে দিবে।

৫। ওয়েবসাইট আপডেট রাখাঃ

একটি ভাল মানের আর্নিং ওয়েবসাইট সবসময় আপটুডেট থাকে। যেমন এর পিএসচপি, ডাটাবেস, অপারেটিং সিস্টেম সবসময় আপডেট থাকে। এতে করে এদের ভিতরকার বাগ সব ঠিক হয়ে যায়। এছাড়া এতে ওয়েবসাইটের স্পীড বাড়ার সাথে সাথে এর নিরাপত্তাও ঠিক থাকে। কারণ পুরানো ভার্সন ব্যবহারে এর ভেতরে নানা ভাইরাস ঢুকে যেতে পারে। এছাড়া ওয়েবসাইটটি ওয়ার্ডপ্রেসে বানানো হলে এর ভার্সনো আপডেট দিতে হবে।

৬। ওয়েবসাইটটি রেসপনসিভ করাঃ

একটি রেসপনসিভ ওয়েবসাইটে ডেস্কটপ থেকে ডেস্কটপ ভার্সন ও মোবাইল থেকে মোবাইল ভার্সনে ওয়েবসাইট অটোমেটিক কাজ করে। এর জন্য মোবাইল ভার্সনের জন্য বাড়তি কোন কাজ করতে হয়না। এতে ডেস্কটপ ও মোবাইলে ছবি ও কন্টেন্ট একদম পারফেক্টভাবে কাজ করে। আর হওয়াটা জরুরী। কারণ ডেস্কটপের স্ক্রিন অনেক বড় ও চওড়া হয়। আর মোবাইলের স্ক্রীন অনেক ছোট ও অপেক্ষাকৃত চিকন হওয়ায় এটি রেস্পন্সিভ না হলে মোবাইল স্ক্রীনে তা কেটে যেত তাই ওয়েবসাইটটি অটোমেটিক রেস্পন্সিভ হলে সময় ও কাজ বেঁচে যায় ও খুব সহজেই ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রিত হয়। ওয়ার্ডপ্রেসের থীমগুলো সাধারণত সবগুলোই রেসপনসিভ হয়।

৭। ওয়েবসাইটটি সিকিউর কিনাঃ

একটি ওয়েবসাইটকে নিজের নিয়ন্ত্রণ করতে অনেক হ্যাকার সেটিতে ম্যালওয়ার পাঠিয়ে হ্যাক করে ফেলে। এরজন্য সবসময় স্ট্রং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। সেটা ডাটাবেস, পিএইচমাইস্কিউয়েল বা ড্যাশবোর্ড সবকিছুরই। আর ওয়ার্ডপ্রেসের ওয়েবসাইট সিকিউর করার জন্য বিভিন্ন প্লাগিন্স রয়েছে। যাতে করে ম্যালওয়ার না প্রবেশ করে। যেমনঃ sucuri, Wordfence, Astra Security ইত্যাদি।