কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় পরকীয়ার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবককে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে প্রকাশ্যে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছেন স্থানীয় মাতব্বররা। ঘটনার পর থেকে সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

সোমবার এ মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুপুরে তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। মিরপুর থানার  ওসি (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

Advertisement

আটকরা হলেন মিরপুর উপজেলার মালিহাদ ইউপির বাসিন্দা মাতব্বর আকরাম হোসেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য নওয়াব আলী ও সিদ্দিক আলী। 

জানা যায়, শনিবার রাত ১২টার দিকে মালিহাদ ইউপির আশানগর এলাকার সেন্টু আলীর ছেলে ইটভাটার শ্রমিক সাইফুল ইসলাম প্রতিবেশী আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী এক সন্তানের জননীর সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত হন। সেই রাতে প্রতিবেশীরা তাদের দুজনকে আটক করে।

পরদিন রোববার সকাল ১১টার দিকে আশাননগর মোড়ে তাদের গ্রাম্য সালিশ হয়। সে সময় স্থানীয়দের সামনে এ ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় এজন্য স্থানীয় মাতাব্বর আকরাম হোসেন বিচারের রায় ঘোষণা করেন এবং সাইফুলকে জুতার মালা গলায় দিয়ে অর্ধেক গ্রাম ঘোরান। একইসঙ্গে ৩০টি লাঠির আঘাত এবং তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে পরকীয়ার কারণে আব্দুল কুদ্দুস তার স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করতে আপত্তি জানালে কুদ্দুসের স্ত্রীকে সালিশি বৈঠকে তালাক দেওয়া  হয়। পরে স্থানীয়রা সাইফুলের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দিতে চাইলে ওই নারী আপত্তি জানান। আর এ কারণে তাকে মায়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, আব্দুল কুদ্দুস ঢাকায় চাকরি করেন। যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংসার মনোমালিন্য চলছিল। এর আগে সাইফুল ভালোবেসে এক নারীকে বিয়ে করেন। বিয়ের দু’বছরের মাথায় তাদের এক কন্যা সন্তানসহ স্ত্রী রেখে চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া করে বিয়ে করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরো গ্রামের লোকজনের সামনে সাইফুলকে জুতার মালা গলায় দিয়ে নেতারা ঘুরিয়েছেন। সেইসঙ্গে লাঠি দিয়ে অমানবিকভাবে মারধর করা হয়েছে।  

এদিকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় এজন্য এ ধরনের বিচার করা উচিৎ বলে দাবি করেন এলাকাবাসীরা। সমাজের এমন বিচার থাকলে অপরাধ অনেক কমে যাবে বলে তারা মনে করেন।

মিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) শুভ্র প্রকাশ দাস বলেন, বিচারের নামে লাঠি দিয়ে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থল থেকে জুতোর মালাসহ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন জনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Advertisement