মাত্র ২৩ বছর বয়সে অকালে ঝরে গেলেন জনপ্রিয় ইসলামী শিল্পীগোষ্ঠী কলরবের তরুণ সঙ্গীতশিল্পী মাহফুজুল আলম।

মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে নরসিংদী থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার পথে নারায়ণগঞ্জের বরপা এলাকার ইউএস বাংলা হসপিটালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

Advertisement

প্রিয় শিল্পীর এভাবে চলে যাওয়া এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না তার ভক্ত-অনুরাগীদের।

মৃত্যুর মাত্র ১০ দিন আগে যে শিল্পী নিজের গান ইউটিউবে প্রকাশ করেন তিনি আজ মৃত- তা ভাবতেই পারছে না কেউ।

আরো বিস্ময়কর তথ্য হলো মৃত্যুর ১৯ দিন আগে গত ১ জুলাই একটি অনুপ্রেরণামূলক গান নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করেন মাহফুজুল।

আর সেই গানের কথাগুলো শুনলে সত্যি অবাক হবেন সবাই। গানটি হঠাৎ মৃত্যুর বিষয়কে কেন্দ্র করেই।

একজন মানুষের মৃত্যুর পরে তার স্বজনরা যেন ভেঙে না পড়ে- এমন সব কথা বলা হয়েছে সেই গানে।

এই গান শুনে যে কেউ বিস্ময় প্রকাশ করে বলবে, তিনি কি জানতেন হঠাৎ করেই চলে যাবেন পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে? সেজন্যই বন্ধু-স্বজনদের সে কথা জানিয়ে রাখলেন গানের কথায়!

গানের ডেসক্রিপশনে মাহফুজুল আলম নিজেই লিখেছেন, না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার কথা।

তিনি লিখেছেন -গানটি আমাদের খুব কাছের মানুষদের হারিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে । আমরা সবাই একদিন হারিয়ে যাবো, কেউ দুনিয়াতে চিরস্থায়ী নয়।

গানের কথাগুলো হচ্ছে – ‘যখন সন্ধ্যা নেমে জোনাকিরা আসে/আর ফুল গুলো সুবাস ছড়ায় রাতে/তোমার ঘরের খেলনাগুলো/চুপ অভিমানে ঘরে ফিরে যায় ভাঙামনে/তাই তো ওরা আমায় বলে- তুমি ভেঙে পড়ো না এভাবে/কেউ থাকে না চিরদিন সাথে/যদি কাঁদো এভাবে তার ঘুম ভেঙে যাবে/ ও চাঁদ বলো না সে লুকিয়ে আছে কোথায়/সে কি খুব কাছে’

‘তুমি ভেঙে পড়ো না এভাবে/কেউ থাকে না চিরদিন সাথে/যদি কাঁদো এভাবে তার ঘুম ভেঙে যাবে’।

গানরে কথাগুলো ভক্তদের হৃদয়ে দারুণ ধাক্কা দিয়েছে।  এ কী কাকতালীয় নাকি মাহফুজ আলম তার ঘুম না ভাঙাতে কাঁদতে মানা করেছেন!

রাকিব হাসানের লেখা গানটি প্রথমে গেয়েছিলেন প্রীতম হাসান। পরে নতুন করে গেয়ে ১৯ দিন আগে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড দেন মাহফুজুল।

গানটি শুনুন –

মাহফুজুল আলম বাংলাদেশের ইসলামী সঙ্গীত জগতের একজন কর্মঠ ও বিপুল শ্রোতাপ্রীয় শিল্পী ছিলেন। তিনি একাধারে সাউন্ড ডিজাইনার, গীতিকার এবং শিল্পী ছিলেন। ইসলামী সঙ্গীতের অসংখ্য শ্রুতিমধুর সংগীত তিনি গেয়েছেন এবং সাউন্ড ডিজাইন করেছেন।

বাংলাদেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় ইসলামী সঙ্গীত চ্যানেল হলিটিউনে চারশ’র বেশি গান কম্পোজ করেছেন তরুণ এ শিল্পী। এছাড়া প্রায় দুই শতাধিক গান তিনি নিজেও গেয়েছেন। শ্রোতাদের কাছে মাহফুজুল আলমের সঙ্গীতের আলাদা কদর ছিলো সব সময়।

তার ইন্তেকালে ইসলামী সঙ্গীত জগতের অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এত অল্প বয়সে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামী সঙ্গীত জগতের গুনগ্রাহীরা।  

Advertisement