বুদ্ধির জোরে অপহরণকারীদের বন্দি দশা থেকে মুক্তি পেল ১২ বছরের শিশু মাহিন। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহের নান্দাইল চৌরাস্তায় গোল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। 

মাহিনের বাড়ি কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায়, সে উপজেলা সদরের সাচাইল গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে।

Advertisement

শিশু মাহিন জানায়, সে তার নানার বাড়ি করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি ইউনিয়নের সতেরোধরিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের বাড়ি বেড়াতে এসেছিল। রোববার বিকেল ৩টার দিকে তার নানার বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে প্রস্রাবরত অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার মুখে রুমাল চেপে ধরে পিকআপে তুলে নিয়ে আসে। এ সময় সে অজ্ঞান হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফেরার সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন লোক তাকে গলা কেটে ফেলার হুমকি দেয় এবং চুপচাপ খাঁচার ভেতর বসে থাকতে বলে। তাকে পিকআপ ভ্যানের উপর একটি বাশেঁর বেতের খাঁচা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।

পরে ওই পিকআপ ভ্যানটি সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় যখন নান্দাইল চৌরাস্তা জামে মসজিদের সামনে এসে অন্যান্য মালবাহী যানবাহনের কারণে একটু জ্যামে পড়ে যায়। তখন সে মৃত্যু ভয়কে উপেক্ষা করে খাঁচাসহ গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে মসজিদের সামনে মাটিতে পড়ে যায়। পরে অন্যের মোবাইল ফোনে তার বাবাকে কাঁদতে কাঁদতে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিল। ঘটনা শুনে সামনে এগিয়ে যান স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান। তারা শিশুটির নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায়।

পরে দ্রুত বিষয়টি তাড়াইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ভূইয়াকে ও শিশুটির মা-বাবাকে জানান এবং তাদের আসতে বলেন।

এ বিষয়ে মাহিনের বাবা জানান, মাহিনকে না পেয়ে তাড়াইল থানায় একটি জিডি করছিলেন। এ মুহূর্তেই তার ছেলের ফোন আসে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না?

তাড়াইল উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম বলেন, ছেলেটি তার বুদ্ধির জোরে অপহরণ থেকে মুক্তি পেয়েছে। অন্যথায় বড় ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে হতো।

Advertisement