করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে শুক্রবার থেকে আরো সাত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল স্থগিত করেছে এ দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

এর আগে চারটি দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল স্থগিত ছিল। ফলে এখন মোট ১১টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচল স্থগিত করা হলো। শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বেবিচক।

Advertisement

নিষেধাজ্ঞায় নতুন যুক্ত হওয়া দেশগুলো হলো- বাহরাইন, বলিভিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, প্যারাগুয়ে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং উরুগুয়ে। আগে থেকে এই তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ভারত ও নেপাল।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এসব দেশ থেকে কেউ বাংলাদেশে আসতে পারবে না এবং বাংলাদেশে থেকে কেউ এসব দেশে যেতে পারবে না।

সেই সঙ্গে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ওমান, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, তিউনিসিয়া, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, সাইপ্রাস, জর্জিয়া, মঙ্গোলিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।

গত পহেলা মে থেকে শর্ত সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দেশগুলোর তালিকা দিয়ে বেবিচক বলছে, এক্ষেত্রে যাত্রী আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত পালন করতে হবে।

এ-ক্যাটেগরিতে যেসব দেশ রয়েছে, সেসব দেশে কেউ যেতে পারবেন না বা বিদেশি কেউ এসব দেশ থেকে আসতে পারবেন না। 

এখন নিষেধাজ্ঞায় থাকা ১১টি দেশ রয়েছে এ ক্যাটেগরিতে। ক্যাটেগরি বি-তে যেসব দেশ রয়েছে, সেসব দেশের সকল নাগরিকরা বাংলাদেশে আসতে পারবেন। 

তবে এই দেশে আসার পর নিজেদের খরচে সরকার নির্ধারিত হোটেলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। দেশে আসার আগেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদের এসব দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

এসব দেশের মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, চিলি, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডেনমার্ক, গ্রিস। তবে এই ক্যাটেগরিতে থাকা কুয়েত ও ওমান থেকে আসা যাত্রীদের তিনদিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

গ্রুপ সি-তে রয়েছে এর বাইরের দেশগুলো, যেখানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, চীন, জাপান, কোরিয়ার মতো দেশ।

এসব দেশে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। তবে এসব দেশ থেকে যারা ফিরবেন, তাদের বাড়িতে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তাদের হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে।

বাংলাদেশে আসা সকল যাত্রীদের (১০ বছরের নীচের শিশু ব্যতীত) করোনাভাইরাসের পিসিআর নেগেটিভ সনদ থাকতে হবে। বিমান যাত্রার ৭২ ঘণ্টা পূর্বে এসব পরীক্ষা হতে হবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Advertisement