ব্রণ একটি চর্মরোগ। ব্রণ হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটি সাধারণত মুখে, পিঠে, ঘাড়ে, এমনকি মাথার ত্বকেও হয়ে থাকে। এছাড়া অনেকের নিতম্বেও এটি হয়ে থাকে। সাধারণত ১২-২৪ বছরের মানুষের এটি সবথেকে বেশি হয়ে থাকে। তবে এর থেকেও বেশি বয়সের মানুষের ব্রণ হতে পারে। এটি সাধারণত বয়ঃসন্ধি কাল থেকে হওয়া শুরু করে। একবার মুখে ব্রণ হলে তা আর ভাল হতে চায় না। নানা ধরনের ব্রণ মানুষের হয়ে থাকে। যেমন- ফুসকুড়ু, বড় ব্রণ, ছোট ব্রণ, ব্ল্যাক হেডস্‌, হোয়াইট
হেডস্‌ ইত্যাদি। ঘরোয়া বিভিন্ন উপায়ে খুব সহজে এই ব্রণ ভাল করা যায়।

কি কি কারণে ব্রণ হয়ঃ

আমাদের ত্বকে ছোট ছোট লোমকুপ থাকে। আর এই লোমকুপের নিচে থাকে সেবাম গ্রন্থি। এটা দিয়ে ত্বকের তেল নিঃসরণ খুব ভালভাবে হয়। কিন্তু ধুলাবালি, মরাকোষ ইত্যাদির কারণে লোমকুপ ব্লক হয়ে যায়। যার ফলে তখন তেল নিঃসরণ ত্বকের মধ্যেই হয়ে থাকে। আর ঠিক তখনই ব্রণের সৃষ্টি করে।

বংশগত কারণে ব্রণ হতে পারে।

অতিরিক্ত মেকাপ ব্যবহার ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল সমৃদ্ধ পন্য ব্যবহারের ফলেও ব্রণ হয়।

এছাড়া মানসিক চাপ ও মাসিকের কারণেও ব্রণ হয়।

প্রাকৃতিক উপায়ে মুখের ব্রণ দূর করার উপায়ঃ

১। নিম পাতা, মধু ও অ্যালোভেরা জেলঃ

আধা চামচ নিমপাতা বাটা, ১ চামচ মধু ও ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল একসাথে মিশিয়ে মিশ্রণটি ব্রণ আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে সারারাত রেখে দিয়ে সকালবেলা পানি দিয়ে ভাল ভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে খুব তাড়াতাড়ি ব্রণ ভাল হয়ে যাবে।

২। আপেল সিডার ভিনেগারঃ

১ চামচ আপেল সিডার ভিনেগারের সাথে ৫ চামচ পানি নিয়ে মিশ্রণটি ত্বক ভাল করে পরিষ্কার করে একট তুলার সাহায্যে ব্রণ আক্রন্ত জায়গায় লাগাতে হবে। প্রতিদিন করলে খুব তাড়াতাড়ু ব্রণ ভাল হবে।

৩। মধু ও দারুচিনির গুড়াঃ

২ চামচ মধু ও ১ চামচ দারুচিনির গুড়া একসাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে মিশ্রণটি ২০-৩০ মিনিট ব্রণে লাগিয়ে রাখতে হবে। মধুর অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ব্রণ ভাল করতে খুবই কার্যকর। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলতে হবে।

যে যে বিষয়গুলি মেনে চললে আর ব্রণ হবে নাঃ

১। সবসময় ত্বক ময়েশ্চারাইজ রাখতে হবে।

২। ব্রণ সব সময় হাত দিয়ে টিপা যাবে না বা ঘন ঘন হাত দেওয়া যাবে না। এতে ঐ জায়গায় জীবানু লেগে ব্রণ আরো বেড়ে যেতে পারে ও বাজে দাগ হয়ে যেতে পারে।

৩। সূর্যের ক্ষতিকর আলো থেকে ত্বককে দূরে রাখতে হবে।

৪। প্রতিদিন ১২ গ্লাস পানি পান করতে হবে।

৫। কখনোই মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা করা যাবে না।

৬। ত্বক সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে ও প্রতিদিন বালিশের কভার ও টোয়ালে পরিষ্কার করতে হবে। বালিশ ও তোয়ালে আলাদা হতে হবে।

৭। প্রতিদিন করতে হবে ও মাথার চুল শ্যাম্প্যু দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

৮। ব্যায়ামের পর গোসল করতে হবে।

৯। চিনি জাতীয় খাবার খাওয়া একেবারেই কমিয়ে দিতে হবে।

১০। মেকাপের পর ভালভাবে রিমুভার দিয়ে ক্লিন করে নিতে হবে ও রাতে শোবার আগে অবশ্যই মেকাপ পরিষ্কার করে নিতে হবে। তবে অতিরিক্ত ব্রণ হলে মেকাপ ত্যাগ করাই শ্রেয়।

১১। দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।

১২। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।