চুল পড়া সমস্যা কমবেশি সবার হয়ে থাকে। কিন্তু যারা জানে প্রাকৃতিকভাবে কিভাবে চুল পড়া কমানো যায়, তারা এই সমস্যায় ভুগেন না। অনেকের চুল পড়তে পড়তে এক সময় টাক হয়ে যায়। আবার অনেকের চুল অনেক পাতলা হয়ে যায়। সাধারণত প্রতিটি মানুষের গড়ে ১০০ টি চুল পড়ে থাকে। কিন্তু যারা চুল পড়া সমস্যায় ভোগেন তাদের প্রতিদিন ২০০-৩০০ টা পর্যন্ত চুল পড়ে যায়। এছাড়া সাধারণ মানুষের যেমন প্রতিদিন ১০০ টা করে চুল পড়ে তেমনি তা আবার গজিয়েও যায়। কিন্তু যারা চুল পড়া সমস্যায় ভোগেন তাদের চুল আর সহজে গজাতে চায় না বা গজালেও খুব কম গজায়।

দেখে নিন কি কি কারণে আমাদের এই চুল পড়েঃ

Advertisement

চুল পড়ার নানাবিধ কারণের মধ্যে আছে, নিয়মিত চুল পরিষ্কার না করা, চুলে ক্যামিকেল জাতীয় রং ও প্রসাধনী ব্যবহার করা, অতিরিক্ত বায়ুদূষণ এলাকাতে দীর্ঘক্ষণ চুল রাখা, চুলে অতিরিক্ত সূর্যের আলো লাগা, ভেজা চুল আঁচড়ানো, চুলের জন্য পুষ্টিকর খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত চিন্তা করা, ঠিকমত চুলের যত্ন না নেওয়া, অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা, চুলের জন্য বিভিন্ন স্টাইলিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করা, হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা, রাতে ঠিকমত না ঘুমানো ও পর্যাপ্ত পরিমাণ না ঘুমানো, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না খাওয়া, কোষ্ঠ্যকাঠিনের সমস্যা থাকলে, বয়সের কারণে ও বংশগত কারণে আমাদের চুল অকালে ঝরতে থাকে। আর ঝরতে ঝরতে একসময় টাক হয়ে যায়।

দেখে নিন কি কি উপায়ে প্রাকৃতিকভাবে চুল পড়া রোধ করা যায়ঃ

নিমপাতার পেস্ট, অ্যালোভেরা জেল ও নারিকেল তেলের ব্যবহারঃ

নিমপাতা পেটে নিয়ে তার থেকে ১ চামচ পেস্ট, ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল ও ২ চামচ নারিকেল তেল একসাথে মিশিয়ে গোসলের ৩০ মিনিট মাথার চুলে ও স্ক্যাল্পে ভাল করে মেখে ৩০ মিনিট পর গোসল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরেপর ভাল প্রাকৃতিক শ্যাম্পুর সাহায্যে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে ২ দিন করতে হবে। এতে করে মাথার খুশকী দূর হবে। মাথায় কোন জীবানু , ফুসকুড়ি দ্বারা আক্রান্ত হলে তা দূর হয়ে যাবে ও চুল সফট হয়ে যাবে। আর চুল পড়া অনেক কমে যাবে। কারণ নিমে ও অ্যালোভেরা জেলে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আছে যা মাথার ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করবে। কারণ এই ব্যাকটেরিয়া ও ফুসকুড়ি থেক চুল পড়া শুরু হয়।

ক্যাস্টার ওয়েল, অলিভ ওয়েল, ভিটামিন ই ক্যাপসুল, লেবু, নারিকেল তেলঃ

১ চামচ ক্যাস্টর ওয়েল, ২ চামচ অলিভ ওয়েল, ২ চামচ নারিকেল তেল, ১ টি ভিটামিন ই ক্যাপসুল থেকে বের করা রস ও ১ চামচ লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে এই তেলটি সপ্তাহে ৩ দিন ঘুমানোর আগে মাথার চুলে লাগিয়ে
সকালে প্রাকৃতিক শ্যাম্পুর মাধ্যমে ধুয়ে ফেলতে হবে। ক্যাস্টর ওয়েল চুল পড়া দূর করে নতুন গজাতে সাহায্য করবে। আর লেবু চুলের ভিটামিন সি এর যোগান দিবে, আর অলিভ ওয়েল চুলের পুষ্ট বৃদ্ধি করবে আর নারিকেল তেল চুলকে মজবুত করবে।

চুল পড়া রোধে যা যা করা যাবেনাঃ

১. প্রতিদিন ও ঘন ঘন শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবেনা।
২. চুলের বিভিন্ন স্টাইলিং প্রোডাক্ট, রং ব্যবহার করা যাবে না।
৩. চুলে অনেকক্ষণ ধরে সূর্যের আলো লাগানো যাবেনা। প্রয়োজনে ছাতা ব্যবহার করতে হবে।
৪. ভেজা চুল কখনোই আচড়ানো যাবে না।
৫. চুলে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যাবেনা।
৬. রাত জাগা যাবে না।
৭. অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা যাবে না।

চুল পড়া রোধে যা যা করতে হবেঃ

১. নিজের ব্যবহৃত বালিশ বেডসীড প্রতিসপ্তাহে জীবানুনাশক ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে।
২. প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ গ্লাস পানি খেতে হবে।
৩. প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।
৪. কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে তা ঠিক করে নিতে হবে।
৫. চুলের যত্নে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে

চুল পড়া রোধে কি কি পুষ্টিকর খাবার খেতে হবেঃ

ডিম, কলা, বাদাম, তিসি, মাছ, মুরগীর ব্রেস্ট, ব্রকলি, বিভিন্ন সবুজ শাক ও সবজি, ভিটামিন সি যুক্ত ফল, পালং শাক, স্ট্রবেরী, পেয়ারা, সব ধরনের আশযুক্ত ফল- এগুলো নিয়মিত খেতে হবে।

Advertisement