প্রতিটি মানুষ বংশগতভাবে তাদের ত্বকের রং পেয়ে থাকে। কেউ ফর্সা, কেউ শ্যামলা,কেউ আবার কালো। আর গায়ের রং দিয়ে মানুষের সৌন্দর্য বিচার করা যায় না। তবে ত্বকের সঠিক পরিচর্যা করলে ত্বক অনেক স্বাস্থ্যবান আর চকচকে হয়। আর আমরা জানব কিভাবে প্রাকৃতিকভাবে এই ত্বকের পরিচর্যা করে ত্বককে অনেক বেশি ফর্সা দেখানো যায়।

আমরা প্রায় সকলেই ঠিকমত ত্বকের পরিচর্যা করিনা। যার ফল দিনের পর দিন আমাদের ত্বক অনেক কালো হয়ে যায়। অর্থাৎ আমাদের ত্বকের প্রকৃত রং এর চেয়ে এটি ২ থেকে ৩ গুণ কালো হয়ে যায়। তখন আমাদের দেখতে খুব বিশ্রী দেখায়। কিন্তু ত্বকের সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে ত্বক অনেক ফর্সা ও আকর্ষনীয় করা সম্ভব। আর আমাদের ত্বকের প্রকৃত রং এর চেয়েও বেশি ফর্সা করা সম্ভব তাও আবার প্রাকৃতিক উপায়ে।

Advertisement

দেখে নিন কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বক ফর্সা করা যায়ঃ

ময়েশ্চারাজিংঃ

উজ্জ্বল ত্বক পেতে আমাদের সবসময় ত্বক ময়েশ্চারাইজ রাখতে হবে। কারণ ত্বক টান টান ও রুক্ষ থাকলে আপনার অজান্তেই ত্বক ফেটে যায়। যার ফলে ত্বকের অনেক কোষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আর তখন ত্বক কালো দেখায়। তাই ত্বক ময়েশ্চারাইজ রাখতে প্রাকৃতিক অ্যালোভেরা জেল পাতা থেকে সংগ্রহ করে তা নিয়মিত ত্বকে লাগাতে হবে। এতে ত্বক মসৃণ ও কোমল থাকবে। আর ধীরে ত্বকের আসল রং ফিরে আসবে। এছাড়া ত্বক আরো উজ্জ্বল হতে থাকবে। প্রাকৃতিক অ্যালোভেরার পরিবর্তে বাজারে পাওয়া অ্যালোভেরা জেল সকালে ও রাতে ত্বকে লাগানো যাতে পারে।

ভার্জিন কোকোনাট ওয়েলঃ

ভার্জিন কোকোনাট ওয়েলের সাথে ২ চিমটি চিনি মিশিয়ে এটি রাতে ঘুমানোর আগে ত্বকে খুব সুন্দর করে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। ঘুম থেকে উঠে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই পদ্ধতি নিয়মিত করলে ত্বক ধীরে অনেক উজ্জ্বল হতে থাকবে।

লেবু, মধু , ওলিভ ওয়েলঃ

আধা চামচ লেবু, ১ চামচ মধু ও ১ চামচ ওলিভ ওয়েল একসাথে মিশিয়ে মিশ্রণটি ত্বকে সুন্দর করে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে রাখতে হবে। এরপর ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে ৩ দিন করলে ত্বক অনেক ফর্সা হতে শুরু করবে। কারণ লেবুতে আছে ভিটামিন সি যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী এটি ত্বককে স্বাস্থ্যবান করে আর ত্বকের দাগছোপ দূর করে। এটি ত্বকের টান টান দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করতে সাহয্য করে। আর মধু ত্বকে আরো প্রাণবন্ত করে। আর ওলিভ ওয়েল ত্বককে
ময়েশ্চারাইজ করার সাথে সাথে ত্বককে অনেক বেশি উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

বেসন ও হ্লুদঃ

আধা চামচ হলুদের গুড়া ও ৩ চামচ বেসন নিয়ে এর মধ্যে সামান্য কিছু পানি নিয়ে পেস্ট তৈরি করতে হবে। এরপর এটি ত্বকে সুন্দর করে লাগিয়ে রাখতে হবে। ১৫ মিনিট পর এটি ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে নিয়মিত করতে থাকলে ত্বক হবে অনেক উজ্জ্বল, ফর্সা আর চকচকে। হলুদে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান, যা ত্বকর মরা কোষকে দূর করে আর এর কোলাজেন ত্বককে উজ্জ্বল করে। এভাবে সপ্তাহে ৩ দিন করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

শশা ও টকদইঃ

শশাতেও রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান। আর এটি ত্বককে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া থেকে রক্ষা করে। আর এই ঘাম ত্বকের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ২-৩ চামচ শশার রসের সাথে ২ চামচ টকদই মিশিয়ে ত্বকের উপর ১০ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ৩ দিন এটি করা যেতে পারে।

গোলাপ জল, কমলার খোসার গুড়া, কলাঃ

গোলাপ জল ত্বকের টোনার হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা কয়েক শেড পর্যন্ত বাড়াতে পারে। আর কলাতে রয়েছে ভিটামিন এ বি সি ও ই। আর রয়েছে প্রাকৃতিক পটাশ। যা ত্বককে উজ্জ্বল ও কোমল করে। আর কমলার খোসার গুড়াতে রয়েছে পাকৃতিক মেলানিন, যা ত্বককে অনেক বেশি উজ্জ্বল করে। তাই একটি পাকা কলা সম্পূর্ণ চটকিয়ে এর মধ্যে ৩ চামচ গোলাপ জল আর ১ চামচ কমলার খোসার গুড়া নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে ত্বকের উপর লাগিয়ে রাখতে হবে। ২০ মিনিট রেখে দিতে ভালভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে ৩ -৪ দিন করতে হবে।

ত্বক ফর্সা করতে যা যা বিষয় মেনে চলতে হবেঃ

১. প্রতিদিন ১০-১২ গ্লাস পানি খেতে হবে।

২. ত্বক সবসময় ময়েশ্চারাইজ রাখতে হবে।

৩. ধুমপান করার অভ্যাস থাকলে ত্যাগ করতে হবে।

৪. ত্বক নিয়মিত ফেসওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

৫. পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে। অন্তত ৮ ঘন্টা।

৬. সূর্যের আলো ত্বকে লাগানো যাবেনা। বাইরে গেলে সানস্ক্রীন লাগাতে হবে।

৭. প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে ও ১৫ মিনিট ইয়োগা করতে হবে।

ত্বক ফর্সা করতে কি কি খাবার নিয়মিত খেতে হবেঃ

স্ট্রবেরী, ডিম, আনারস, লেবু, টমেটো, পালং শাক, পেঁপে, গাজর, ব্রকলি, শিয়া সিড, মিষ্টি আলু, মিষ্টি কুমড়া, কাঠ বাদাম, গ্রীণ টি, ডাবের পানি এই খাবার গুলি নিয়মিত খেলে ত্বক অনেক বেশি ফর্সা হতে থাকবে।

Advertisement