সুন্দর ও ঘন চুল মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্যের একটি বহিঃপ্রকাশ। আর এই চুল যখন একবার উঠতে থাকে তখন তাকে আর কোনভাবেই যেন রোধ করা যায় না। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সাথে সাথে সমান তালে চুলও যেন পড়তে থাকে। নানা রকমের দামি দামি প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও এই চুল পড়া রোধ করা সম্ভব হয়ে উঠে না। একটি মানুষের গড়ে প্রতিদিন ১০০টি চুল পড়া একেবারেই স্বাভাবিক। কিন্তু এর থেকে বেশি পড়লেই বিপদ। আমাদের যেমন চুল পড়ে, ঠিক তেমনি চুল গজায়। কিন্তু যখন এই চুল পড়ার পরিমাণ চুল গজানোর পরিমাণের থেকে অনেক বেশি হয় তখন মাথার স্ক্যাল্প ফাকা হতে থাকে। তখন অনেকের চুল পাতলা হতে হতে টাক হয়ে যায়।

Advertisement

কি কি কারণে আমাদের চুল পাতলা হয়ে যায়ঃ

চুল পড়ে যাওয়া বা পাতলা হওয়ার নানা রকম কারণ আছে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হলঃ
বয়স বেড়ে যাওয়া
বংশগত কারণ
ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহার
চুলের পুষ্টির অভাব
হাইডোজ ওষুধ খাওয়ার ফলে
অসুস্থতা জনিত কারণ
এলার্জী জনিত কারণ
অতিরিক্ত ধুমপান
নিয়মিত চুল পরিষ্কার না রাখার ফলে
দুশ্চিন্তা

চুল পড়া বা পাতলা হওয়ার যত কারণই থাক না কেন, প্রাকৃতিক উপায়ে চুলকে ঘন করা সম্ভব।

দেখে নেই কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে চুল ঘন করা যায়ঃ

ডিমঃ

ডিম প্রোটিনে ভরপর। এই ডিম নিয়মিত চুলে ব্যবহারের ফলে চুলের প্রোটিন বৃদ্ধি করে চুল পড়া কমানো সম্ভব। একটি ডিম ভেঙ্গে নিয়ে ভালকরে নেড়ে নিয়ে পুরাটাই মাথার স্ক্যাল্প ও চুলে প্রয়োগ করে ৩০ মিনিট পর ভাল মাইল্ড শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে প্রতিসপ্তাহে করা যেতে পারে। এছাড়া আরো একভাবে ডিমের ব্যবহার করা যেতে পারে। তা হল ২ টি ডিম ভেঙ্গে নিতে এর মধ্যে ১ চামচ অলিভ ওয়েল ও ২ চামচ পানি নিয়ে ভালভাবে মিক্স করে উপাদানটি মাথার চুলে প্রয়োগ করে ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

অলিভ ওয়েল ও ক্যাস্টর ওয়েলঃ

অলিভ ওয়েলে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা চুলের পুষ্টির জন্য খুবই উপকারি। আর ক্যাস্টর অয়েলে রয়েছে ভিটামিন সি ও ফ্যাটি এসিড যা চুলে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়। ২ চামচ অলিভ অয়েল ১ চামচ ক্যাস্টর অয়েল ভালভাবে মিশিয়ে এই তেলটি মাথার স্ক্যাল্পে প্রয়োগ করতে হবে। ১ ঘন্টা মাথায় রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু ও ক্লন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে ২ দিন নিয়িমত ব্যবহারের ফলে চুল ঘন হতে শুরু করবে।

অ্যালোভেরা জেলঃ

প্রাকৃতিক অ্যালভেরা থেকে জেল বের করে তা মাথার স্ক্যল্পে মেখে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। অ্যালোভেরা জেল প্রয়োগের পর খুব সুন্দর করে তা মাথায় ঘষে ঘষে ম্যাসাজ করতে হবে। আর অ্যালোভেরা জেল চুলের পুষ্টি ও বৃদ্ধির জন্য খুবই ভাল। তাই সপ্তাহে ২ দিন এটি ব্যবহারে চুল অনেক ঘন হয়ে যাবে।

কমলার খোসার জেলঃ

কমলার খোসা ভিটামিন সি, পেক্টিন ও উপকারি এসিড নিয়ে গঠিত। আর এই উপাদান গুলি চুলকে ঘন করতে খুবই কার্যকর। কয়েকটি কমলার খোসা ভালভাবে ব্লেন্ড করে মাথার স্ক্যাল্পে ভালভাবে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে ১ ঘন্টা পর ঠান্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতি নিয়মিত প্রয়োগে চুল পড়া অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে। চুল ঘন হতে শুরু করবে ও চুলের পুষ্টি ফিরে আসবে।

দেখে নিন কি কি খাবার প্রাকৃতিকভাবে চুল ঘন করার ক্ষেত্রে উপকারীঃ

চুলের পুষ্টির জন্য শুধু বিভিন্ন উপকারী জিনিস চুল ও স্ক্যাল্পে প্রয়োগ করলেই হবে না। সেই সাথে চুলের পুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় নানা রকম খাবার খেতে হবে যা চুলকে ঘন করতে খুবই উপকারি ও চুল পড়া কমাতে খুবই কার্যকর। আর এই জন্য প্রোটিন, বায়োটিন, ভিটামিন ই ও সি, ফ্যাটি এসিড, ওমেগা ৩ যুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন ডিম, পালং শাক, লেবু, কমলা, সালমন, তিসি, আখরোট, বাদাম, গ্রীন টি, বিভিন্ন বিচি এই খাবার গুলি নিয়মিত খাবার তালিকায় রাখতে হবে।

দেখে নিন চুল ঘন করতে কি কি বিষয় খেয়াল রাখতে হবেঃ

সালফেট সম্মৃদ্ধ শ্যাম্পু পরিহার করতে হবে। কারণ সালফেট মাথার স্ক্যাল্পে ক্ষতি করে চুলের গ্রোথ নষ্ট করে ও চুল পড়তে সাহায্য করে।

অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে না। সপ্তাহে ৪ দিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহারে চুল পড়া বেড়ে যায়। কারণ অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারের ফলে মাথার স্ক্যল্প অনেক শুষ্ক হয়ে যায়। আর মাথায় প্রয়োজনীয় তেল থাকে না, যার ফলে চুল ঝড়ে
যায়।

চুলের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন স্টাইলিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করা যাবেনা। এছাড়া হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যাবে না। এগুলো চুলের খুবই ক্ষতি করে। যার ফলে চুল পড়ে যায়।

ধুমপানের অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করতে হবে।

প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে।

চুলে সরাসরি রোদ লাগাতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে ছাতা ব্যবহার করতে হবে।

কোন ইস্যুতে মোটেও দুশ্চিন্তা করা যাবে না।

রাত জাগা যাবে না।

ধুলাবালি যুক্ত স্থানে কখনোই যাওয়া যাবে না। চুল সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

কখন ডাক্তারের কাছে যেতে হবেঃ

সব কিছু প্রয়োগের পরও কাজ না হলে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

Advertisement