হঠাৎ ঘরের মধ্যে যেকোন জিনিসে ধরছে আগুন। পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে সবকিছু। কে বা কারা আগুন দিচ্ছে তার হদিস মিলছে না। এমনই এক ঘটনা ঘটে চলেছে ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া মুন্সিপাড়া গ্রামে।
আর এ ঘটনা ঘটে চলেছে গত ২৮ মার্চ থেকে। এই ঘটনায় এলাকাবাসী খুবই আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

ঐ গ্রামে গত ২৮ মার্চ রাতে হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত হয়। আর এটি সর্বপ্রথম হয় ঐ গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের বাড়ির খড়ের গোয়ালঘরে। এরপর সেই আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কিন্তু এর পরদিন থেকে আরো তিনটি পরিবারে আগুন লেগে যায়।
এতে ঐ পরিবারগুলোর আসবাবপত্র সহ মোট লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর পরদিন থেকে আরো ৮-১০ টি পরিবারে এই অলৌকিক আগুন লেগে যায়। এতে তাদের বাড়ির বিভিন্ন অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

Advertisement

ঠিক কি কারণে এমন করে আগুন লেগে যাচ্ছে, তা এখনো অজানাই রয়ে গেছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, গ্রামে পাহাড়া বসিয়ে, মিলাদ, দোয়া মাহফিল করে, এমনকি ওঝা এনেও বিষয়টি জানা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে আগুনে পুড়ে মারা যাবার ভয়ে অনেকে নিজেদের শিশু সন্তানদের পাশের গ্রামে আত্মীয়দের বাড়িতে রেখে আসছেন। অনেকে বাড়ির ভিতর থেকে মূলবান আসবাব পত্র ও জিনিসসমূহ বের করে বাড়ির উঠোনে রেখে পাহাড়া দিচ্ছেন। এমনকি
গ্রামের টেনশনে রাতে ঘুমাতে পাচ্ছে না। তাই তারা সারারাত জেগে পাহাড়া বসিয়েছে।

একজন ভুক্তভোগী জানান, আগুন তৎক্ষণাৎ নিভানোর জন্য প্রতিটি বাড়িতে কলসি, বড় পাতিল, বালতি এগুলোতে পানি সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে। যাতে আগুন লেগে গেলে তৎক্ষণাৎ নিভানো যায়। এদিকে আরেক ভুক্তভোগী জানান, তার ঘরের
বিছানায়, টেবিলে, জায়নামাজ ও কুরআন শরীফে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। এরপর সবাই মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অনেক পাহাড়া বসিয়েও এই আগুন লাগার উৎস না খুঁজে পেয়ে গ্রামের প্রায় সবাই বলছে, এ আগুন জ্বীনে ধরিয়ে দিচ্ছে।

এরমধ্যে আরেক ভুক্তভোগী জানান, জ্বীন সন্দেহে অনেকেই ওঝা ও জোতষি নিয়ে এসে ঝাড়ফুঁক করছেন, কিন্তু কোনকিছুতেই কিছু হচ্ছে না। তাই তিনি বলেন, এই বিষয়ে তিনি প্রশাসনের কাছে সাহায্য চান, যাতে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ বের হয়।
গ্রামের চেয়ারম্যান, বালিয়াডাঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল সার্জনের লোকজন সকলেই এই আগুনের সূত্রপাত বের করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগি পরিবারকে খাদ্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, প্রকৃত কারণ জানার জন্য। সর্বশেষ গত ২৩ ও ২৪ এপ্রিল ঐ গ্রমে সর্বমোট ২১ বার আগুন লাগে।

Advertisement