কলা আমাদের সকলের খুবই প্রিয় একটি ফল। আমরা সকলেই এটিকে নিয়মিত খেয়ে থাকি। বাজারে নানা ধরনের কলা পাওয়া যায়, যেমন সাগর কলা, সবরি কলা, চিনিচম্পা কলা ইত্যাদি। সব ধরনের কলাতেই সধারণত একই গুণ থাকে। কলা এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার। এর পুষ্টির কথা বলে শেষ করা যাবে না। প্রতিটি মানুষের প্রতিদিন নিয়মিত প্রতিদিন কমপক্ষে ১ টি করে কলা খাওয়া উচিত। কলা দুইভাবে খাওয়া যায়, পাকা কলা ও কাচা কলা এই দুইভাবে। কাচা কলা রান্না করে খাওয়া হয়ে থাকে। এই কাচা কলার ভর্তা খেতে অনেক সুস্বাদু। তবে কলার সবথেকে বেশি পুষ্টিগুণ পাওয়া যায় পাকা কলার মাধ্যোমে। দেখুন কলা কি কি পুষ্টিগুণ রয়েছে-

কলাতে রয়েছে ভিটামিন বি৬। যা আমাদের শরীরের অত্যন্ত উপকারি লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি করে থাকে। এই লোহিত রক্ত কণিকা আমাদের শরীরের খুবই গুরত্বপুর্ণ একটি উপাদান। নিয়মিত প্রতিদিন কলা খেলে এই লোহিত রক্ত কণিকার লেভেল ঠিক থাকে। এছাড়া এই ভিটামিন বি৬ আমাদের লিভার ও কিডনী পরিষ্কার রাখে, আমাদের নার্ভ সিস্টেম ভাল রাখে ও মেটাবলিজম শক্তি বৃদ্ধি করে।

ADVERTISEMENT

কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। এই ভিটামিন সি আমাদেরকে টিস্যু ডামেজ হওয়া থেকে রক্ষা করে। যার ফলে আমাদের ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হওয়ার সাথে সাথে আমাদের চুলের অনেক উন্নতি হয়। নিয়মিত কলা খেলে চুল পড়া প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়া কলাতে থাকা ভিটামিন সি আমাদের শরীরের আয়রন শোষণ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়া ভিটামিন সি আমাদের ত্বক পরিষ্কার রাখে ও মানসিক চাপ থেকে মুক্ত রাখে। এছাড়া এটি ব্যাথা নিরাময়েও কাজ করে।

কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম যা হার্ট ও ব্লাড প্রেসার ঠিক রাখে।

নিয়মিত কলা খেলে আমাদের হজম শক্তি বাড়ে। যার ফলে আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের আলসার, গ্রাস্ট্রিক সমস্যা এই ধরনের সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়।

কলারা মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক সুগার যা আমাদের শরীরের মোটেও ক্ষতি করে না। তাই বিভিন্ন খাবারে (যেমনঃ ওটস, পায়েস ইত্যাদি) চিনির বদলে কলা খাওয়া যেতে পারে বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে। এছাড়া কলার এই
প্রাকৃতিক সুগার খেলে রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা ঠিক থাকে। এছাড়া এটি ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের প্রতিদিন কমপক্ষে ২টি করে কলা খাওয়া জরুরী। কারণ আমাদের শরীরের মাসলস এর উন্নতি করতে খুবই কার্যকর।