চেহারা উজ্জ্বল ও চকচকে হলে যেমন দেখতে ভাল দেখায়, ঠিক তেমনি ঠোঁট যদি হয় অনেক কোমল ও গোলাপি, তাহলে দেখতে আরো সুন্দর দেখায়। অনেকের চেহারায় উজ্জ্বলতা থাকলেও ঠোটগুলো অনেকে ফ্যাকাশে, অমসৃণ ও কালো হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতিক উপায়ে ঠোঁট গোলাপি করা যায়।

কেন আমাদের ঠোঁট কালো হয়ে যায়ঃ

নানাবিধ কারণে আমাদের এই গুরত্বপূর্ণ ঠোঁট কালো ও অমসৃণ হয়ে যায়। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে কারণে এরকম হয়ে থাকে, তা হল প্রকৃত যত্নের অভাব।

এছাড়া যেসকল কারণ রয়েছেঃ

১। অতিরিক্ত ধুমপান করা

২। সব সময় ঠোঁট চটকানোর অভ্যাস

৩। ভিটামিনের ঘাটতি

৪। প্রেগনেন্সি

৫। কম রক্তচাপ

৬। কিছু ওষুধ গ্রহণের ফলে

৭। ঠোঁট ঠিকমত ময়েশ্চারাইজ না রাখার ফলে

৮। ঠোঁট ঠিকমত পরিষ্কার না করা ফলে

৯। সূর্যের তাপের ফলে

১০। অতিরিক্ত মেকাপ ও ক্ষতিকর কেমিক্যালযুক্ত লিপস্টিক ব্যবহারের ফলে।

ঠোঁট প্রাকৃতিক উপায়ে গোলাপি করার উপায় দেখে নিনঃ

ঠোঁট প্রাকৃতিক উপায়ে বিভিন্নভাবে গোলাপি করা সম্ভব। দেখে নিন কিছু উপায়ঃ

লেবু ও চিনির সাহায্যেঃ

প্রকৃতিকভাবে ঠোঁট গোলাপি
লেবু ও চিনি

আধা চামচ লেবুর রসের সাথে আধা চামচ চিনি মিশিয়ে ভালকরে পেস্ট করে একটি টুথব্রাশের সাহায্যে ধীরে ধীরে ঠোঁটে ঘষতে হবে। এতে প্রাকৃতিকভাবে ঠোঁটের ডেড সেলগুলি উঠে যাবে আর ঠোঁটের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। আর ঠোঁট ধীরে ধীরে তার আসল রং ফিরে পেতে শুরু করবে। এটি ১-২ মিনিট ধরে করতে হবে। এরপর ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে সপ্তাহে ১ দিন করতে হবে।

অ্যালোভেরা জেল ও মধুর সাহায্যেঃ

১ চামচ মধু ও ১ চামচ অ্যালোভেরা জেল একসাথে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগিয়ে রাখতে হবে। এটি রাতে শোবার আগে প্রতিদিন ঠোঁটে লাগিয়ে রেখে ঘুমিয়ে যেতে হবে। এতে ঠোঁট ময়েশ্চারাইজ থাকবে ও ঠোঁটের উজ্জ্বলতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

নারকেল তেল বা অ্যালমন্ড তেলঃ

নারিকেল তেল বা অ্যালমন্ড তেল নিয়ে ঠোঁটের উপর সুন্দর করে আঙ্গুলের সাহায্যে ডলে ডলে লাগাতে হবে। এতে ঠোঁটের রক্ত সঞ্চালন বাড়বে ও ঠোঁট তার প্রাণ ফিরে পাবে। এভাবে সাড়াদিন লাগিয়ে রাখলে ভাল। এতে করে ঠোঁট ময়েশ্চারাইজ থাকবে। ঠোঁটে ক্ষতিকর ব্যকটেরিয়া বাসা বাধতে পারবে না। ধীরে ধীরে ঠোঁট গোলাপি হতে শুরু করবে।

ঠোঁট গোলাপি করতে কি কি বিষয় মনে রাখতে হবেঃ

১। সব সময় ঠোঁট ময়েশ্চারাইজ রাখতে হবে, এরজন্য অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া নিয়িমিত নারকেল তেল ঠোঁটে ব্যবহার করা যেতে পারে।

২। লিপস্টিক ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে, সেটি যেন নিম্নমানের না হয়।

৩। ধুমপান করা ছেড়ে দিতে হবে।

৪। সূর্যের আলোর তাপ থেকে ঠোঁটকে রক্ষা করতে হবে।

৫। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে অবশ্যই লিপস্টিক ও মেকাপ মুছে ঘুমাতে যেতে হবে।

৬। প্রতিদিন ১২ গ্লাস পানি খেতে হবে।

ঠোঁট গোলাপি রাখার জন্য যেসকল খাবার খেতে হবেঃ

ঠোঁট গোলাপি করতে ও রাখতে খাদ্য তালিকায় লেবু, তরমুজ, টমেটো, ডাবের পানি, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি, ব্লুবেরি, টকদই, গ্রীন টি, মধু, অ্যালোভেরা রাখতে হবে। এই খাবারগুলি ঠোঁটকে সূর্যের ক্ষতির কারণে ঠোঁট ড্যামেজ হওয়া ঠিক করে, ঠোঁটকে ময়েশ্চারাইজ রাখতে সাহায্য করে, ঠোঁটকে আকর্ষণীয় ও কমবয়সী দেখাতে সাহায্য করে, ঠোঁটের পিগমেন্টেশন দূর করে, ঠোঁটকে শুষ্কতার হাত থেকে বাঁচায়, আর ঠোঁটে নিয়মিত পুষ্টি পৌছায়। যার ফলে ঠোঁট অনেক চকচকে ও গোলাপি হয়ে উঠে।