অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা বা ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা ওজন বাড়ার একটি প্রধান কারণ। আমরা প্রচুর ডায়েট বা ব্যায়াম করার পরেও আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা, শুধুমাত্র অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগার কারণে। কারণ এই অতিরিক্ত ক্ষুধা আমাদের অনেক বেশি খেতে সহায়তা করে। তাই ফিট থাকতে হলে ডায়েট বা ব্যায়ামের পাশাপাশি যেন অতিরিক্ত ক্ষুধা না লাগে সেই দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এই ক্ষুধা শুধুমাত্র চিনি জাতীয় খাবার, ভাজাপোড়া, ফাস্ট ফুড এই খাবারগুলির পরি বেশি আকৃষ্ট করে, যার ফলশ্রুতিতে এগুলি অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে প্রচুর ওজন বাড়া শুরু করে। দেখে নিন ব্যায়াম বা ডায়েটের পাশাপাশি যেন অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার উপায়ঃ

পানি পান করাঃ

Advertisement

যখন আপনার প্রচন্ড ক্ষুধা লাগবে তখন আপনি হয়তো নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে অনেক খাওয়ার আকাঙ্গা পোষণ করে অনেক বেশি খাওয়া শুরু করতে পারেন। কিন্তু আপনি এই সময় যদি কোন কিছু না খেয়ে প্রচুর পানি পান করে ফেলেন, তাহলে দেখবেন যে আপনার ক্ষুধা একেবেরেই কমে গেছে। তবে এভাবে আপনি ১- ২ঘন্টা ক্ষুধা দমিয়ে রাখতে পারবেন। এরপর আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ডায়েট অনুসারে খাবার খেতে পারবেন।

প্রোটিন জাতীয় খাবারঃ

প্রোটিন জাতীয় খাবার আপনার ক্ষুধা অনেক কমানোর পাশাপাশি ক্যালরিও বার্ন করে থাকে। রাতের বেলা প্রোটিন খাবার খেলে আপনার রাতে হঠাৎ করে ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমে যাবে।

অতিরিক্ত ক্ষুধা না লাগানোঃ

দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থেকে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগানো যাবেনা। এতে করে আপনার অনেক বেশি খাওয়ার প্রতি আকর্ষণ বেড়ে একসাথে ২-৩ বেলার খাবার এক বেলাতেই খেয়ে ফেলতে পারেন। একারণে এরকম করা
ঠিক নয়। তাই আপনার যখন ক্ষুধা লাগবে তখন আপনি অল্প কিছু ফলমুল বা অল্প ক্যালরি যুক্ত খাবা খেয়ে পানি খেয়ে নিতে পারেন। এতে তৎক্ষণাৎ ক্ষুধা কমে যাবে। যা আপনার ওজন কমাতে সাহয্য করবে।

দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলাঃ

আপনার যদি অনেক দুশ্চিন্তা বা প্রেসার কাজ করে তবে আপনার ক্ষুধা প্রচুর লাগবে। এটা বিজ্ঞানসম্মত ও পরীক্ষিত। বিশেষ এই দুশ্চিন্তায় মহিলারা অধিক পরিমাণ ক্ষুধা অনুভব করে প্রচুর পরিমান খেয়ে থাকে।
যার ফলে তাদের পেটের ওজন সবথেকে বেশি বাড়ে। তাই দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলতে হবে।

সুপার মার্কেট ত্যাগ করাঃ

সুপার মার্কেট থেকে কেনাকাটা না করে সাধারণ দোকান থেকে কেনাকাটা করুন। কারন সুপার মার্কেটে অনেক খাবার চোখের সামনে দেখার ফলে ও হাত দিয়ে নাড়ার ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায় ও মনের অজান্তেই আমরা অনেক খাবার একসাথে কিনে ফেলি ও সেগুলি তৎক্ষণাৎ বাসায় নিয়ে গিয়ে খেয়ে ফেলি। আর এক্ষেত্রে নতুন ভ্যারাইটির খাবার আমরা অনেক বেশি খেয়ে ফেলি।

নিয়মিত পালং শাক খাওয়ার অভ্যাসঃ

দুপুরে ও রাতের খাবারে পালং শাক রাখার চেষ্টা করু। এটি অতিরিক্ত ক্ষুধা প্রবণতা একেবারেই ম্যাজিকের মত কমিয়ে দেবে।

পর্যাপ্ত ঘুমঃ

দৈনিক ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। যারা অনেকে কম ঘুমান তাদের অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা বেশি। তাই বেশি করে ঘুমাতে হবে। এতে অনেকটাই ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

Advertisement