কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সামান্য কিছু টাকার লোভে নকল খাবার তৈরি করছে। আর খাবারগুলি আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই খাবার গুলি খেয়ে আমাদের নানা ধরনের রোগ বালাই হতে পারে। আজকাল অনেক দেশেই নকল ডিম, নকল চাল, নকল ডাল এই রকম নানা খাবার তৈরি করে বিভিন্ন দেখে রপ্তানি করছে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশ এই নকল খাবারগুলি কিনে বিক্রি করছে। সাধারণ জনগন এই খাবারগুলি কিনে এনে প্রতারিত হচ্ছে ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। কারণ অনেকেই আসল
ও নকলের ভেদাভেদ বুঝতে পারেনা। আর এই খাবার গুলির মধ্যে সবথেকে বেশি যে খাবারটি নকল হচ্ছে তা হল ডিম। লাল ও সাদা দুই ধরনের ডিমের নকলেই বাজার ছেয়ে গেছে।

নকল ডিম কিভাবে তৈরি করা হয়ঃ

নকল ডিমের বাইরের খোসাগুলি তৈরি করা হয় ক্যালশিয়াম কার্বনেট, প্যারাফিন, জিপসাম পাউডার দিয়ে। আর ভেতরের হলুদ কুসুম তৈরি করা হয় সোডিয়াম অ্যালজিনেট, জেলাটিন, বেঞ্জয়িক এসিড ও ফুড কালারের মাধ্যমে। আর নকল ডিম গুলি এমনভাবে তৈরি করা হয় যে, খালি চোখে দেখলে বোঝার উপায় নেই কোনটি আসল আর কোনটি নকল।

নকল ডিম খেলে কি কি স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারেঃ

এই নকল ডিম আমাদের শরীরের অনেক মারাত্বক ক্ষতি করতে পারে। কারণ এর মধ্যে থাকে অনেক ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান। যার ফলে আমাদের মেটাবলিজম ডিসওডার, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর রোগ, লিভার ক্যান্সার, ব্লাড প্রেসার তারতম্য সহ নানা ধরনের জটিল রোগ হতে পারে। তাই আমাদের নকল ও আসল ডিম শনাক্ত করা জানতে হবে।

দেখে নিন নকল ও আসল ডিম কিভাবে চিনবঃ

১। নকল ডিম দেখতে আসল ডিমের ভাইতে চকচকে দেখতে হয়।

২। নকল ডিমের বাইরের খোসা খসখসে হয়। কিন্তু আসল ডিমের খোসা অনেক মসৃণ হয়।

৩। নকল ডিম হাত দিয়ে ঝাঁকালে একটি শব্দ হবে, কিন্তু আসল ডিমে এই ধরনের কোন শব্দ হয় না।

৪। আসল ডিম ভাঙ্গার পর এর মধ্যে থেকে কাঁচা মাংসের মত একটি গন্ধ পাওয়া যায়। কিন্তু আসল ডিমে এই ধরনের কোন গন্ধই পাওয়া যায় না।

৫। আসল ডিমের খোসা হাত দিয়ে মোচারালে একটি ক্রিস্পি অরিজিনাল শব্দ শোনা যায়, কিন্তু নকল ডিমে এই ধরনের কোন শব্দই শোনা যায় না।

৬। নকল ডিম ভাঙ্গার পর এর ভেতরের কুসুম ও সাদা অংশ সহজেই মিশে যায়। কিন্তু আসল ডিমে কুসুম ও সাদা অংশ আলাদা করা যায়।

৭। আসল ডিম ভেঙ্গে একটি পাত্রে রেখে দিলে এতে পোকা, মাছি, পিঁপড়া লাগে। কিন্তু নকল ডিমে কোন কীট পতংগ বসে না।

উপরের এই লক্ষণগুলি দেখে খুব সহজেই আসল ও নকল ডিম শনাক্ত করা সম্ভব।