মুখ ফসকেই বেরিয়ে আসে স্বামীকে হত্যার কথা। নিজের অজান্তেই দিতে থাকেন বর্ণনা। এসব কথা যে মুঠোফোনে ভিডিও হচ্ছে, তা টেরই পাননি তিনি। তবে কথোপকথনের সেই ভিডিও যায় পুলিশের হাতে। এতে ধরা পড়েন স্বামীর লাশ রান্নাঘরে চাপা দেওয়া পাষণ্ড স্ত্রী আকলিমা বেগম।

রোমহর্ষক এমনই ঘটনা ঘটেছে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার রমজানবেগ এলাকার। নিখোঁজের প্রায় আড়াই মাস পর ৫০ বছর বয়সী আরাফাত মোল্লার মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে নিজ বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

Advertisement

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আকলিমা ছাড়াও তার সহযোগী মো. রিয়াজকে আটক করা হয়েছে। নিহত আরাফাত মোল্লা রমজানবেগ এলাকার দুখু মাদবরের ছেলে।

পুলিশ জানায়, রান্নাঘরের মাটির নিচে স্বামীর লাশ চাপা দিয়ে চুলায় প্রতিদিন সংসারের সব রান্না করতেন আকলিমা। স্বামী নিখোঁজের অভিযোগ এনে নিজেই থানায় জিডি করেন। পরবর্তীতে মামলাও করেন স্ত্রী। এরপর আরাফাত মোল্লার খোঁজে মাঠে নামে পুলিশ। তবে আকলিমাকে নিয়ে সন্দেহ ছিল তাদের।

আকলিমার পেছনে একজন সোর্সও লাগান মামলার তদন্তে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা। একপর্যায়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ওই সোর্সের সঙ্গে কথা বলেন আকলিমা। হঠাৎ নিজের অজান্তেই স্বামীকে হত্যার কথা বলে ফেলেন। আকলিমার সঙ্গে কথা বলার দৃশ্য গোপনে মুঠোফোনে ধারণ করেন পুলিশের ওই সোর্স। পরে ভিডিওর ভিত্তিতে একইদিন বিকেল ৫টার দিকে আকলিমাকে আটক করে পুলিশ। এরপর তার দেওয়া তথ্যমতে নিজ বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচে থেকে আরাফাত মোল্লার লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকলিমা জানান, রিয়াজের সঙ্গে তার প্রেম চলছিল। বিষয়টি তার স্বামী জানতে পারেন। পথের কাঁটা সরাতে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী আরাফাত মোল্লাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘুমন্ত স্বামীকে হত্যা করেন। পরে লাশ গুম করতে রান্নাঘরের মাটির নিচে চাপা দেন। এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করেন রিয়াজ।

এডিশনাল এসপি (সদর সার্কেল) মিনহাজ উল-ইসলাম জানান, ২ মে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্বামী আরাফাত মোল্লা নিখোঁজ রয়েছেন জানিয়ে পরদিন সদর থানায় জিডি করেন আকলিমা। এরপর তাকে খুঁজতে থাকে পুলিশ। পরবর্তীতে ৩০ মে দ্বিতীয় দফায় মামলা করেন। মামলাটি বিভিন্নভাবে তদন্ত করতে থাকে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায় বৃহস্পতিবার আকলিমার সঙ্গে এক প্রতিবেশীর কথোপকথনের ভিডিও পুলিশের হাতে আসে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আকলিমাই আরাফাতকে হত্যা করে ঘরের পাশের রান্নাঘরে মাটিচাপা দেওয়ার বিষয়টি প্রতিবেশীর কাছে বলছেন। পরে আকলিমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরকীয়াকে কেন্দ্র করে তিনি ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে হত্যা করেছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।

Advertisement