হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌর শহরের শপিং মল, হাটবাজার, বাসস্ট্যান্ড, ব্যাংকসহ বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় ইদানীং নারী ছিনতাইকারী দলের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা যাত্রীর ছদ্মবেশে এবং কাস্টমার সেজে হাতিয়ে নিচ্ছে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন।

হাটবাজারসহ শপিংমল, মোবাইল মার্কেটে লোকজনের সমাগম বেশি হওয়ায় এ সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে এসব ছিনতাইকারী চক্র। যেখানে ভিড় সেখানেই সক্রিয় নারী পকেটমার ও ছিনতাইকারী দল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লোকজনের কাছ থেকে মুঠোফোন, নগদ টাকা ও মানিব্যাগ কৌশলে ছিনিয়ে নিচ্ছেন এ চক্রের সদস্যরা। বেশির ভাগ প্রবাসীর স্ত্রী, শিক্ষিকা, বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত লোকজন তাদের শিকার হচ্ছেন। 

Advertisement

জানা যায়, পুরুষ সদস্য থাকলেও এ চক্রে নারী সদস্যরাই বেশি। সোমবার দুপুরে বাসুল্লা গ্রামের শিক্ষিকার স্বর্ণের গলার চেইন চুরি হয়। মঙ্গলবার সকালে চুনারুঘাট পূবালী ব্যাংক শাখা থেকে আমতলী গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রী নগদ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ছিনতাইকারী দলের পাঁচ সদস্যকে বাসুল্লা বাজার থেকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
 
আটকৃতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসীরনগর উপজেলার ধরমণ্ডল এলাকার বাছির মিয়ার মেয়ে আলছুমা (৩৮), নুর মিয়ার মেয়ে আমিনা আক্তার (১৮), জমশেদ মিয়ার মেয়ে খায়রুন্নাহার (৩০), বিলা মিয়ার মেয়ে ফারহানা (১৮), আলিম মিয়ার স্ত্রী দিলারা বেগম (৪০)।

এ সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করে। স্থানীয় সূত্র জানায়, চুনারুঘাট সিএনজি স্টেশনে সিএনজিতে ওঠেন একডালা উচ্চ বিদ্যালয়ের  এক শিক্ষিকা, এ সময় ৫ জন নারীও যাত্রীর ছদ্মবেশে এ শিক্ষিকার পাশের সিটে বসেন। পরে স্থানীয় জনতা বাসুল্লাহ এলাকায় ওই ৫ নারীকে আটক করে পুলিশে দেন।

শিক্ষিকা রাজনা বেগম জানান, আটককৃত চক্রটি প্রায় দেড় ভরি ওজনের বিদেশি স্বর্ণের চেইন কৌশলে চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা তাদের আটকরে। 

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, চুনারুঘাট উপজেলার পৌর শহরসহ বিভিন্ন হাটবাজার ও মার্কেটে মহিলা চোরের বিস্তার ঘটে, এর আগে শহরে মোবাইল চুরির ঘটনায় তিনজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল।
 
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি মো. আলী আশরাফ বলেন, চুরির ঘটনায় রাতে একডালা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রাজনা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এর সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

Advertisement