যেহেতু গাছটি টবে লাগানো হয়েছে তাই এর যত্ন খুব ভাল করে করতে হবে। যেসকল গাছ রোদ ভালবাসে সেই সকল গাছকে রোদে রাখতে হবে, আর যে সকল গাছ রোদ পছন্দ করেনা খুব একটা, সেগুলোকে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।

প্রতিদিন নিয়ম করে গাছে পানি দিতে হবে। গাছের টবের উপরিভাগ যদি ভেজা থাকে তবে পানি দেওয়া যাবেনা, আর শুকনা হলেই দিতে হবে। গরমের সময় সকাল ও সন্ধ্যা দুইবার পানি দেওয়া যেতে পারে। আর বৃষ্টির সময় পানি দেওয়ার আর দরকার নেই। যেদিন বৃষ্টি হবে না, সেদিন গাছের টবের মাটি ভেজা থাকলেই পানি দিতে হবে। আর শীতের সময় ১ দিন পর পর পানি দেওয়া যেতে পারে। তবে সেটিও টবের মাটি ভেজা বা শুষ্ক থাকা সাকল্যে। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, গাছে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক পানি দিলে গাছ মারা যেতে পারে। আবার অতিরিক্ত কম পানি দিলে না নিয়মিত সময়মত পানি না দিলে গাছ মারা যেতে পারে।

ADVERTISEMENT

গাছে সবসময় প্রাকৃতিক খাবার দিতে হবে। কৃত্রিম সার দিলে মাটির উর্বরতা তাড়াতাড়ি কমে যাবে। আর কৃত্রিম সার স্বাস্থ্যের জন্যও খবু ক্ষতিকর হবে। সাধারণত প্রায় সকল গাছে ১৫ দিন পর পর খৈল পচা পানি সামান্য পরিমানে দিতে হবে। এই পানিতে আছে নাইট্রোজেন যা গাছের ডাল ও পাতা বৃদ্ধি করবে। খৈল পচা পানি তৈরি করতে একটি পাত্রে ২ লিটার পানিতে ২০০ গ্রাম খৈল নিয়ে পাত্রটি ঢেকে ৭ দিন ঢেকে রাখতে হবে। ৭ দিন পর থেকে এই পানি ব্যবহার করা যাবে। এই ২ লিটার পানির সাথে আরো ৫ লিটার পানি যোগ করে সেই পানি ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া ১ মাস পর পর খৈলের গুড়া, হাড়ের গুড়া, শিংকুচি, ভার্মিকম্পোস্ট এগুলো পরিমাণ মত মিশিয়ে টবের সাইজ অনুযায়ী মাটিতে দিতে হবে। তবেখেয়াল রাখতে হবে এই সারগুলি যে এবারে বাছের শিকড়ে না দেওয়া হয়।

সার সাধারণত হালকা ভেজা মাটিতে দেওয়াই উত্তম হবে। সার দেওয়ার পর ভাল করে পানি দিতে হবে টবের মাটিতে। খৈলের গুড়া, হাড়ের গুড়া, শিংকুচি, ভার্মিকম্পোস্ট এগুলিসাধারণত গাছের বৃদ্ধি ও পুষ্টি যোগান দিতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রতিমাসে কলার খোসার পানি গাছের টবের মাটিতে পরিমাণমত দিতে হবে। কলার খোসার পানিতে রয়েছে পটাশিয়াম যা গাছের ফল, ফুল ও মুকুলবৃদ্ধিতে সহায়তা করতে করবে। কলার খোসার রস করার জন্য একটি এক লিটার বোতলে ৪-৫ টি কলার খোসা নিয়ে ভালকরে বোতলের মুখ ছিপি দিয়ে দিতে হবে। এরপর ১ সপ্তাহ পর সেই ১ লিটার পানির সাথে আরো ৫ লিটার পানি মিশিয়ে এই কলার কলার খোসার রস গাছের টবের মাটিতে দিতে হবে।

গাছে কীটনাশক ব্যবহারঃ

ছাদের বাগানের সবথেকে বড় শ্ত্রু হল বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকা। এই পোকাগুলি ফল, ফুল ও পাতা খেয়ে গাছকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। অনেক সময় গাছ মারা পর্যন্ত যেতে পারে। বাজারে বিভিন্ন কীটনাশকের মাধ্যমে এই ক্ষতিকর পোকা
দমন করা যায়। তবে এগুলি পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরুপ। কারণ এগুলি কৃত্রিম উপায়ে তৈরি হয়ে থাকে। তাই পোকা দমনের জন্য প্রাকৃতিক উপায় সবথেকে ভাল। পোকা দমনের জন্য ১ লিটার পানিতে কয়েকটি নিমের পাতা, কিছুটা হলুদের গুড়া নিয়ে সেদ্ধ করে, সেই সেদ্ধ করা পানি ঠান্ডা করে প্রতিটি গাছে ১৫ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে। এই ভাবে পোকা দমন করলে গাছের কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু কৃত্রিম কীটনাশক ব্যবহার করলে গাছ মারাও যেতে পারে।