স্টিয়ারিংয়ের পেছনে দূর থেকে মাথাটা আবছা দেখা যায়। মনে হবে হয়তো অটোরিকশাটি ঢালু সড়কে হঠাৎ চলছে। আসলে তা নয় ১১ বছরের শিশু আরাফাত নিজেই স্টিয়ারিং হাতে নিয়েছে। পেছনে যাত্রীর আসনেও তার সমবয়সী অন্য দুটি শিশু। আজ মঙ্গলবার দুপরে এ  দৃশ্য চোখে পড়ে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নান্দাইল হোসেনপুর আঞ্চলিক সড়কে। 

শিশুদের হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং তুলে দেওয়ায় সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা। প্রশাসনিকভাবে শিশু-কিশোরদের এ কাজ থেকে বিরত রাখার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

Advertisement

শিশু চালক আরাফাত জানায়, তার বাবা যখন আটোরিকশাটি নিয়ে দুপুরে বাড়িতে খেতে যায় তখন বাড়ির সামনে খোলা জায়গায় মাত্র দুদিনেই চালানো শিখেছে। আর আজ প্রথম সড়কে বের হয়েছে। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০০ টাকার ওপরে আয় হয়েছে তার। নিজে ছোট বলে অনেকেই উঠছে। 

আরাফাত বলে, ‘ওয়ানে পড়ি। স্কুল বন্ধ দেইখ্যা এইডা (অটোরিকশা) শিইখ্যালছি। অহন আব্বার চালানো লাগতো না, আমিই পারবাম।’

যাত্রীর আসনে বসা জনি (১২) ও ইসলাম (১৩) বলে, আমরা তো অনেক দূরারতে (দূর) আইছি, হে তো ভালাই চালাইছে। 

একই সড়কে পাওয়া যায় সোহেল মিয়া (১৩) নামের আরেক শিশু চালককে। সে ইজিবাইক চালিয়ে নান্দাইল সদরের দিকে যাচ্ছে। সোহেল জানায়, তার বাবার অনুপস্থিতিতে সে এটি (ইজিবাইক) চালাচ্ছে। 

স্থানীয় যাত্রীরা জানায়, এখানকার বেশির ভাগ ইজিবাইকের চালকের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বাধ্য হয়ে তারা এসব বাহনের যাত্রী হচ্ছে। 

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত (ওসি) মিজানুর রহমান আকন্দ বলেন, আমাদের দল যখন টহলে তাকে তখন নির্দেশ আছে কোনো শিশুকে যানবাহন চালাতে দেখলেই থামিয়ে দেওয়া। তবে তা বন্ধ করতে হলে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকার প্রয়োজন।

Advertisement