মাথায় উকুন হওয়া মারাত্মক একটি সমস্যা। এটা একধরনের পোকা, যা মাথার চুলে বসবাস করে ও মাথার স্ক্যাল্পের রক্ত চুষে খায়। এই উকুন একজন ব্যক্তির মাথা থেকে আরেকজন ব্যক্তির মাথাতে খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। যার ফলে এটি অনেক ভায়াবহ হয়ে থাকে। সাধারণত উকুন অপরিষ্কার পরিবেশেই বেড়ে উঠে। এছাড়া একজন ব্যক্তি অনেক নোংরা হলেও এটি খুব হতে পারে। কোন কারণে একবার এই উকুন হলে তা খুব দ্রুত বংশ বিস্তার করে। আর পরিবারের সকলের মাথায় এই উকুন ছড়িয়ে পড়ে।

Advertisement

মাথায় উকুন হলে তা খুবই বিরক্তিকর চুলকানির সৃষ্টি করে। অনেক সময় এটি চুলকানোর সময় নখে উঠে আসে অথবা চিরুনীতে উঠে আসে। এছাড়া এই উকুনের মাধ্যমে ঘাড়েও ব্যাকটেরিয়া জমে চুলকানি হতে পারে।

প্রাকৃতিকভাবে উকুন দূর করার উপায়ঃ

বাড়িঘর সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে। উকুন সাধারনত নোংরা পরিবেশে বংশ বিস্তার করে। তাই পরিবেশ যেন নোংরা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সকলের ব্যবহৃত চিরুনি, তোয়ালে বা গামছা আলাদা করতে হবে।

ভেজা চিরুনীর ব্যবহার অনেক সময় উকুন অনেকটাই কমিয়ে দেয়। ভেজা চিরুনী দিয়ে চুল আচড়ালে অনেক উকুন চিরুনীর সাহায্যে বের হয়ে আসলে তখন সেগুলিকে সহজেই মেরে ফেলা যায়।

নিম তেলের ব্যবহারে উকুন নাশ হয়ে যায়। মাথায় নিম তেল প্রয়োগ করে ২০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলতে হবে। নিম তেল বানানোর জন্য সাধারণ তেলের সাথে কিছুটা নিম রস মিশিয়ে নিতে হবে। এছাড়া অলিভ অয়েল বা নারকেল তেলের সাথে ১ চামচ টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে তা মাথায় দিয়ে ৪০ মিনিট রেখে শ্যামপু করে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটাও উকুনকে মেরে ফেলবে।

ভিনেগার ব্যবহারঃ

১ কাপ ভিনেগার ও ১ কাপ পানি একত্রে মিশিয়ে এটি দিয়ে মাথার চুলে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলতে হবে। ভিনেগার উকুন মারতে সাহায্য করে থাকে।

এত কিছু প্রয়োগের পরেও কাজ না হলে কোন চিন্তার কারণ নেই। উকুনের চিকিৎসা অনেক সহজ। ডাক্তারের পরামর্শ মত উকুননাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করলে উকুন খুব সহজেই দূর হয়ে যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে উকুন দূর হবার পর যেন আর যেন না হয়।

Advertisement