লকডাউনের (কঠোর বিধি-নিষেধ) প্রভাবে খাগড়াছড়িতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমসহ মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা। আম, কাঁঠাল, আনারস ও পেঁপে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বাগানে বাগানে। বিশেষ করে বাগানে গাছের আম নিচে পড়ছে। কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে ক্রেতা সংকটে এসব মৌসুমি ফল বিক্রি হচ্ছে না বাজারেও। তাই মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় প্রধানতম আয়ের উত্স মৌসুমি ফলফলাদি। এখানকার পাহাড়ি জমিতে এই মৌসুমে দেশের সেরা ‘আম্রপালি, বারি-৪, রাঙ্গুইসহ বিভিন্ন জাতের আম উত্পন্ন হয়ে থাকে। এসব উত্পাদিত আম, কাঁঠাল, আনারস, পেঁপে ও কলাসহ বিভিন্ন উত্পাদিত ফল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। পাহাড়ি ফলের কদর বেশি থাকায় অনেক ব্যবসায়ী পাহাড়ি ফল দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যায়। তবে এবার লকডাউনের কারণে হাট-বাজারে কোনো ক্রেতা বা পাইকার আসছেন না। তা ছাড়া শ্রমিক ও পণ্য পরিবহন সংকট তো রয়েছেই। এতে বাগান মালিকের পাশাপাশি লোকসান গুনছেন খুচরা ব্যবসায়ীরাও। প্রতিবছর জেলার ছোট বড় দুই শতাধিক বাগান মালিকের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক জমির আম, কাঁঠাল, আনারস, পেঁপে ও কলা কিনে নেন ব্যবসায়ীরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনও হয়েছিল। তবে জেলার বাইরে থেকে ফল ব্যবসায়ীরা না আসায় বাগানের ফল বাগানেই পচে যাচ্ছে। পরিবহন সংকটের মধ্যেও কেউ কেউ মৌসুমের এই ফল বাজারে নিয়ে নিচ্ছেন কষ্ট করে। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় পরিবহন খরচও উঠছে না তাঁদের। অথচ প্রতিবছর শতকোটি টাকার বেশি আমের ব্যবসা হয়ে থাকে এ অঞ্চলজুড়ে।

Advertisement

খাগড়াছড়ি আমবাগান মালিক সমিতির সভাপতি দিবাকর চাকমা বলেন, ‘এখানকার বহু বাগান মালিক ঋণ নিয়ে আমবাগান করেছেন। অথচ করোনার কারণে শত শত বাগানের আম বাজারজাত নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। অন্যান্য বছরের মতো এবারও আমসহ সব মৌসুমি ফল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ জেলার বাইরে নিয়ে যেতে না পারায় বিপুল পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়বেন বাগান মালিক ও স্থানীয় আম ব্যবসায়ীরা।’ এ জন্য তিনি সরকারের কাছে প্রণোদনা দাবি করেছেন।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মো. মর্তুজ আলী জানান, কৃষিজাত পণ্য যাতে নষ্ট হয়ে না যায় তা নিয়ে পদক্ষপে নেওয়া হবে। সরকারিভাবে বাজারজাতকরণে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা চলছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি বছর জেলায় তিন হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে ২৯ হাজার ১৯৬ মেট্রিক টন আম, এক হাজার ১৯৬ হেক্টর জমিতে ২৫ হাজার ১১৬ মেট্রিক টন আনারস, তিন হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে ৭৮ হাজার এক হাজার ১৫৬ মেট্রিক টন কাঁঠাল এবং তিন হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে ৮৭ হাজার ৮৭৪ মেট্রিক টন কলা উত্পন্ন হয়েছে।

Advertisement