বাবা হয়ে নিজের মেয়েকে হত্যা করল বাবা আবার সেই খুন ধামাচাপা দেবার জন্য মেয়ের গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়েছিল সেই পাশন্ড বাবা। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে সৈয়দপুরে রসুলপুরে।

নূর মোহাম্মদ নামে ঐ ব্যক্তি রেল কোয়ার্টারে স্ত্রী ও দুই সন্তান সহ প্রায় ছয় বছর থেকে বসবাস করতেন। আর তিনি রেলওয়েতেই চাকরী করতেন ঘটনার দিন ছিল শুক্রবার। তিনি নামজ পরে এসে তার মেয়ে নুরানি আক্তার নূপুর ও ছোট ছেলে সাত বছরের আবু সোহানসহ খাওয়া শেষে তাদের কোয়ার্টারের উত্তর দিকের ঘরে গল্প করছিলেন।

Advertisement

তার মেয়ে ও ছেলের বয়স ছিল যথাক্রমে ৮ বছর ও ৭ বছর। এ সময় তার দুই ছেলে মেয়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। তখন তিনি তার ছেলে মেয়েদের ঝগড়া থামাতে তার মেয়েকে নিয়ে পাশের রুমে এসে টিভি ছাড়েন। তার মেয়ে তখন টিভি দেখছিল। আর তিনি তার স্মার্টফোনে নাটক দেখছিলেন। এমন সময় তার মেয়ে মোবাইল দেখবে বলে বাবার কাছে বায়না ধরে ও খুব জেদ করে বসে।

এই সময় নূর মোহাম্মদ তার মেয়েকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেয়। এই সময় মেয়ে জেদাজেদির এক পর্যায়ে বাবাকে কুত্তার বাচ্চা বলে গালি দেয়। আর এতেই নূর মোহাম্মদ রেগে গিয়ে মেয়ের গলা চেপে ধরে। আর এতে তার ৮ বছরের মেয়ে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যায়। তার মেয়ের মৃত্যুর পর নূর মোহাম্মদ ঘাবড়ে যায়। আর তখন সে তার মেয়েকে ঘরের মধ্যে কাপড় শুকানোর রশিতে মেয়ের লেহেঙ্গার ওড়না বেঁধে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার করতে থাকে।

এরপর নীলফামারীর সৈয়দপুর থানা পুলিশ এই মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে চালিয়ে দেয়। কিন্তু শিশুটির ময়না তদন্তে ধরা পড়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর পুলিশ বাদি হয়ে নূর মোহাম্মদের নামে মামলা করে। কিন্তু এতেও এই হত্যার রহস্য উন্মোচন না হওয়ায় পুলিশ মামলাটিকে পিবিআই এর নিকট হস্তান্তর করে। এরপর পিবিআই তদন্ত শুরু করলে মাত্র ১১ দিনের মাথায় আসল সত্য বেরিয়ে আসে। এমনটি জানিয়েছেন রংপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন।

পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন জানান, পুলিশ যখন এই হত্যা মামলাটির কোন কুল কিনারা করতে পারছিলনা, ঠিক তখন পিবিআই মামলাসংশ্লিষ্ট আলামত হিসেবে একটি নীল রংয়ের লেহেঙ্গার ওড়না জব্দ করে। আর সেই ওড়নার গিট দেখে সন্দেহ করে এবং নূর মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে নেয়, সে তার মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করে।১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর নূর হসেনকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Advertisement