পেটের মেদ বা ভুরি কমানোর সবথেকে আদর্শ উপায় হল ব্যায়াম করা। আপনার যদি অনেক বড় ভুরি হয়েই যায়, তাহলে যে খাবার দাবার নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডায়েট করেই এটি কমানো যায়, তাহলে এটি ভুল হবে।
এইভাবে হয়তো পেটের ভুরি কিছুটা কমবে কিন্তু সেই সাথে অতিরিক্ত ডায়েট করার ফলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিবে। এছাড়া এর সাথে সাথে দেখা যাবে পেটের ভুরি কমার সাথে সাথে সমস্ত শরীরও অনেক শুকিয়ে যাচ্ছে।
অনেক সময় দেখা যায় ভুরি কিছুটা কমলেও এর থেকে শরীর অনেক শুকিয়ে গেছে। তখন দেখতে অনেক রোগাটে লাগে। চোখ মুখ শুকিয়ে যায়। যার ফলে প্রকৃত ডায়েট ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের চেয়ে ব্যায়াম সবথেকে
কাজে দেয়, পেটের ভুরি কমানোর জন্য।

তাই বলে অতিরিক্ত যে খেতে হবে তা নয়। খাওয়ার পরিমাণটা স্বাভাবিক রেখে ব্যায়ামের পরিমাণটা বেড়ে দিতে হবে। বিশেষ করে পেটের ব্যায়াম। আর এই উপায়ে আপনার পেটের ভুরি খুব দ্রুত গতিতে কমবে। আর হাঁটার তো কোন বিকল্প নেই। নিয়মিত প্রচুর হাঁটতে হবে। এই উপায়ে পেটের ভুরি কমার সাথে সাথে শরীর কিন্তু খুব বেশি কমবে না বা দেখতেও রোগাটে দেখাবে না বা শরীরে পুষ্টির পরিমাণ একদম ঠিক থাকবে। এখন দেখা যাক কি কি ব্যায়াম করে পেটের ভুরি কমানো যায়-

ADVERTISEMENT

পেটের ব্যায়ামঃ

পেটের ভুরি কমানোর জন্য পেটের ব্যায়ামের বিকল্প নেই। এই পেটের ব্যায়াম কিভাবে করব, অনেকের এই প্রশ্ন হতে পারে। এই পেটের ব্যায়াম করার অনেক টিউটোরিয়াল অনলাইনে পাওয়া যায়। তা দেখে করতে হবে। এছাড়া মোবাইলে পেটের ব্যায়ামের প্রচুর অ্যাপ্স আছে, সেগুলি দেখে ও নিয়মমত করলে আরো উপকার হয়। প্রথম দিকে দিনে ১৫ মিনিট করে করা শুরু করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে এই ব্যায়াম করার গতি বাড়িয়ে দিতে হবে। একসময় এটি দিনে ১ ঘন্টা করে করতে হবে। তখন আপনার পেটের ভুরি অনেকটাই নাই হয়ে যাবে। তবে এই ব্যায়াম করার উপযুক্ত সময় হল সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে অথবা রাতে ঘুমাতে যাবার আগে।

কার্ডিও ড্যান্সঃ

এটি একধরনের নৃত্যের তালে তালে ব্যায়াম করা। এই ব্যায়াম করতে আপনি যেমন মজা পাবেন, তেমনি এটি আপনার পেটের মেদ খুব দ্রুত কমিয়ে দেবে। কার্ডিওড্যান্স কিভাবে করে, তার উপর ইউটিউবে অনেক ভিডিও আছে,
আপনাকে এর মধ্যে থেকে যেকোন একটি ভিডিও দেখে এই ব্যায়াম রপ্ত করে নিয়মিত প্রতিদিন করতে হবে। এই ব্যায়াম সাধারণত ৩ টি স্টেপে ১৫ মিনিট ধরে করতে হয়। এই ব্যায়ামের আপনার পেটের খুব দ্রুত গতিতে কমা শুরু করবে। এটিও আপনি রাতে ঘুমাবার আগে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, কার্ডিওড্যান্স সর্বদা খালি পেটে করাই ভাল। তবে ব্যায়াম করা কালীন পানি খাওয়া যাবে।

পুসআপ বা বুক ডাউনঃ

পুসআপ পেটের মেদ কমাতে খুবই কার্যকর। তবে প্রকৃতভাবে সুষ্ঠভাবে এটি করতে হবে। সঠিকভাবে পুসআপ প্রথম দিকে দিনে ১০-২০ বার করা যাতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে এটি ৫০-৬০ বার করে করতে হবে। একটি কথা মাথায়
রাখতে হবে তা হল নিয়মছাড়া ১০০ বার পুসআপ করার থেকে সঠিকভাবে ১০ বার পুসআপ করাও অনেক ভাল। প্রকৃতভাবে কিভাবে পুসআপ করতে হয়, তা জানার জন্য আপনাকে অনলাইন, ইউটিউব, বা মোবাইল অ্যাপসের
সাহায্য নিতে হবে।

হাটাঃ

প্রতিদিন হাটলে যেমন আপনার শরীর, মন, ত্বক, চুল ইত্যাদি ঠিক থাকে সেই সাথে আপনার পেটের ভুরি বা মেদ খুব দ্রুত কমে যায়। আমরা অনেকেই ২ মিনিটের রাস্তাও হাঁটতে চাই না। এটা করা যাবেনা আপনার যদি কোথাও যাওয়ার থাকে, যেমন মার্কেট, অফিস, স্কুল/কলেজ ইত্যাদি, তবে আপনি সেই যায়গায় হেঁটে যেতে পারেন। এরকম সুযোগ না থাকলে বাড়ির পাশে বা ছাদে হাঁটতে পারেন। এছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠে হাঁটতে পারেন। হাঁটার কোন নির্দিষ্ট সময় মেনে না চললেও হবে। তবে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট অবশ্যই হাঁটতে হবে। এছাড়া এর থেকেও বেশি হাঁটা যেতে পারে যেমন, ৪০ মিনিট বা ১ ঘন্টা। এভাবে প্রতিদিন যখন সময় পাওয়া যাবে, তখন হাটলে আপনার পেটের মেদ বা ভুরি অবিশ্বাস্য ভাবে মাত্র ১০ দিনে কমতে শুরু করবে।