একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট অথবা একটি ব্লগার ওয়েবসাইট অথবা যেকোন একটি ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র ব্লগ লিখে আয় করা যায়। ব্লগ লিখে আয় করার উপায় পর্যায়ক্রমিকভাবে দেখুন-

ওয়েবসাইট খোলা

প্রথমে ওয়ার্ডপ্রেস, ব্লগার বা wix ওয়েবসাইট বিল্ডার দিয়ে একটি ওয়েবসাইট খুলতে হবে।.

ওয়েবসাইটে ব্লগ লেখার নিয়ম

এরপর সেই ওয়েবসাইটে প্রচুর (কমপক্ষে ৫০টি) ব্লগ লিখতে হবে। ব্লগগুলো ইউনিক হতে হবে এবং কোয়ালিটি সম্পন্ন হতে হবে এবং অনেক বড় হতে হবে (কমপক্ষে ৭০০-৮০০ শব্দ বিশিষ্ট্য)। এছাড়া ব্লগগুলি অনেক তথ্যবহুল হতে হবে।

ওয়েবসাইটে ভালভাবে seo করা

এরপর সেই ব্লগের ওয়েবসাইটকে খুব ভালোভাবে এস ই ও করতে হবে। খুব ভালভাবে এই ওয়েবসাইটের এসইও করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে গুগল সাইটম্যাপ করার পর যেন ওয়েবসাইটের প্রতিটি ব্লগ ভালভাবে ইনডেক্স হয়। এরপর এই ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানোর জন্য কাজ করতে হবে। ওয়েবসাইটের লে আউট অনেক সুন্দর হতে হবে। যাতে করে পাঠক যেন ওয়েব সাইটে ঢুকে খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

ওয়েবসাইটে অ্যাড লাগিয়ে আয়

ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে আয় করার জন্য ওয়েবসাইটে কমপক্ষে দুইটি কোম্পানির এড লাগাতে হবে। প্রথমটি হল গুগল এডসেন্স(Google Adsense)। গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে খুব সহজে অ্যাড লাগে অনেক বেশি টাকা আয় করা যায়। গুগল এডসেন্সের কিওয়ার্ড গুলোর সিপিসির মান অনেক বেশি। তারপর ওয়েবসাইটটিকে গুগল এডসেন্সের জন্য এপ্লাই করতে হবে। গুগল এডসেন্সের পলিসি অনুযায়ী ওয়েবসাইটটি ওয়েবমাস্টার গাইডলাইন অনুযায়ী সুন্দরভাবে সাজাতে হবে। তাহলে খুব সহজে গুগল এডসেন্স ওয়েবসাইটে অ্যাপ্রুভ হয়ে যাবে। এরপর ওয়েবসাইটে খুব সুন্দরভাবে অ্যাড স্লটে গুগল এডসেন্সের এড কোড গুলি ওয়েবসাইটে লাগাতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, অ্যাড গুলি এমনভাবে লাগাতে হবে যেন অ্যাড দেখে ভিজিটর বিরক্ত না হয় এবং ভিজিটরের প্রয়োজন অনুযায়ী যেন সে অ্যাড দেখতে পারে।

গুগল ব্যতীত অন্যান্য অ্যাড নেটওয়ার্ক

গুগল এডসেন্স ছাড়া অন্য অ্যাড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অ্যাড লাগিয়ে আয় করা যাবে। এক্ষেত্রে তাবোলা ডট কম(taboola.com), আউটব্রেন ডট কম(outbrain.com), এম গিড ডট কম(Mgid.com) এই তিনটির মধ্যে যেকোনো একটি গুগল এডসেন্সের পাশাপাশি লাগানো যেতে পারে। তাবোলাতে অ্যাড লাগানোর জন্য প্রতি মাসে এক মিলিয়ন পেজ ভিউ দরকার হয়। এই ভিজিটর গুলো অথেন্টিক হতে হবে। গুগল সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর হলে সবথেকে ভালো হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অ্যাড আপ্রুভ পাওয়া যায় এবং তাবোলা থেকে অনেক বেশি টাকা পয়সা আয় করা যায়। কারণ তাবোলার এ্যাডগুলো অনেক ভাল হয়।  এর অ্যাডগুলো গুগলের পাশাপাশি রিলেটেড পোস্টে লাগানো যেতে পারে। এছাড়া আউটব্রেনের অ্যাড লাগানোর জন্য একই ধরনের শর্ত থাকে।

এছাড়া আরো একটি অ্যাড অ্যাড নেটওয়ার্ক এম গিড ডট কম  থেকে অনেক বেশি আয় করা যায়। এম গিড ডট কম এর জন্য আপনার মাসিক পেজভিউ ৩০০০০ হলেই  এপ্রুভ হয়ে যায়। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে তাবোলা অ্যাপ্রুভাল না পেলে এম গিড ডট কম লাগিয়ে গুগল এডসেন্সের পাশাপাশি আয় করতে পারেন।

ব্লগ ওয়েবসাইটে অ্যাফেলেইট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয়

আপনি ব্লগ বা ম্যাগাজিন ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র অ্যাড লাগিয়েই আয় করার পাশাপাশি অ্যাফেলেইট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয় করতে পারেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের সার্ভিস বিক্রির উদ্দেশ্যে অ্যাফিলিয়েট কোড প্রদান করে। আপনি সেই প্রতিষ্ঠানের কোড গুলো আপনার ওয়েবসাইটের লাগিয়ে আয় করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিটর যদি অ্যাফেলেইট লিংকে ক্লিক করে কোন প্রোডাক্ট কিনে বা সার্ভিস নেয়, তাহলে আপনি সেই সার্ভিসের টাকা থেকে কিছু কমিশন পাবেন। তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটের ক্যাটাগরি আর অ্যাফেলেইট ওয়েবসাইটের বা অ্যাফেলেইট প্রোডাক্টের ক্যাটাগরি এক থাকে। এক্ষেত্রে ভিজিটর কখনোই বিরক্ত হবে না এবং আপনার আয় অনেক বেশি বেড়ে যাবে। এভাবে আপনি ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে খুব সহজে গুগল এডসেন্স বা অন্য কোন অ্যাড নেটওয়ার্ক বা অ্যাফেলেইট মার্কেটিং করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন।