গুগল এডসেন্স (Google Adsene) হল গুগলের একটি অ্যাড প্লাটফর্ম। গুগলের অ্যাড ওয়েবসাইটে লাগিয়ে গুগল থেকে ইনকাম করা যায়। এখানে মূলত গুগল তাদের অ্যাড প্রোভাইডারের কাছ থেকে অ্যাড নিয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে দেখিয়ে থাকে। আর ওয়েবসাইটে যত বেশি মানুষ গুগলের অ্যাড দেখে সেই ওয়েবসাইটের মালিক তত বেশি আয় করে থাকে।

এই গুগল অ্যাডসেন্স ওয়েবসাইটে লাগানোর জন্য প্রথমে গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য অ্যাপ্লাই করতে হবে। তবে ওয়েবসাইটে গুগল অ্যাডসেন্স লাগানোর কিছু শর্ত আছে। দেখে নিন শর্তগুলো কি কি-

গুগল এডসেন্সের আবেদনের শর্ত

১. কোয়ালিটি কন্টেন্ট

একটি ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স লাগানোর করার জন্য ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট বা আর্টিকেল অনেক হাই কোয়ালিটি হতে হবে। সেই কনটেন্ট বা আর্টিকেল কোনভাবেই কপি রাইট হওয়া যাবে না। আর সেটি কোনভাবেই রি রাইট হওয়া যাবে না। অর্থাৎ আপনি যদি কোন আর্টিকেল অন্য কোন আর্টিকেল দেখে দেখে সেটার কপি করে বা সেটার কিছুটা মডিফাই করেন লিখেন তাহলে সেটি কপিরাইট হয়ে যাবে। আপনাকে সম্পন্ন নিজস্ব চিন্তাধারায় এবং নিজের মতো করে নিজের লেআউট এ সেই আর্টিকেলটি লিখতে হবে। সেই ব্লগ বা আর্টিকেল কমপক্ষে ৭০০ থেকে ১০০০ শব্দের মধ্যে হলে খুব ভালো হয়। আর অনেক বেশি তথ্য সমৃদ্ধ হতে হবে। আর কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ টি আর্টিকেল বা ব্লগ হলে যথেষ্ট।

২. ওয়েবসাইট লে আউট

আপনার ওয়েবসাইটটি অনেক সুন্দর লে আউটের হতে হবে। ওয়েবসাইটের হোমপেজ টি অনেক আকর্ষণীয় হতে হবে। কালার কম্বিনেশন সুন্দর হতে হবে। অতিরিক্ত লাল নীল হলুদ সবুজ এই ধরনের কালার ব্যবহার না করাই ভালো। ওয়েবসাইটের প্রতিটি ক্যাটাগরির আলাদা আলাদা ভাবে সেট করতে হবে এবং ক্যাটাগরি অনুযায়ি ব্লগগুলো হোমপেজে সাজাতে হবে। কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয়টি ক্যাটাগরি হলে সবথেকে ভালো হয় এবং প্রতিটি ক্যাটাগরির আন্ডারে সমানভাবে ব্লগ সেট করতে হবে। অর্থাৎ কোন ক্যাটাগরিতে কম কোন ক্যাটাগরিতে বেশি ব্লগ আছে এইভাবে কখনোই লাগানো যাবে না। ওয়েবসাইটে অবশ্যই একটি রিলেটেড পোস্ট অপশন থাকতে হবে। যাতে করে ইউজার একটি ব্লগ থেকে আরেকটি ব্লগে খুব সহজে যেতে পারে।ওয়েবসাইটের একটি দৃষ্টিনন্দন সাইড বার থাকতে হবে। সেই সাইট বারে রিসেন্ট পোস্ট (recent post) থাকতে হবে। ওয়েবসাইটটির লোগো অনেক সুন্দর হতে হবে। আপনার ওয়েবসাইটের নামের সাথে সেই লোগোর মিল থাকতে হবে। ওয়েবসাইটের ফন্টের কালার কালো হলে সবথেকে ভালো হয়। এছাড়া ওয়েবসাইটের H1 এবং H2 ডিস্ট্রিবিউশন খুব সুন্দর ভাবে হতে হবে। ওয়েবসাইটের ব্লগের বডির ভেতর হেডার গুলো H2 হলে সবথেকে ভালো হয়।  আর পুরো ব্লগের হেডার টাইটেল H1 হতে হবে। ওয়েবসাইটটির ব্লগের ফন্ট ১৮ পিকসেল ডেস্কটপ এবং মোবাইল ভার্সন উভয় থেকেই হতে হবে। এর থেকে কম হলে গুগলের ওয়েবমাস্টার গাইডলাইন অনুসারে সেটা খারাপ হবে। আর গুগলের ওয়েবস ওয়েবমাস্টার গাইডলাইনে কোন প্রকার error থাকলে সেটা গুগল এডসেন্স এপ্রুভ এর ক্ষেত্রে খারাপ হবে।

৩. গুগল অ্যানালাইটিক লাগানো

গুগল অ্যানালাইটিক এর মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইটের সম্পন্ন ডাটা আপনি দেখতে পাবেন।  আপনার ওয়েবসাইটে কতটুকু ভিজিটর প্রতিদিন হল। আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর গুলো কোন দেশ থেকে আসলো। আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর গুলো কতক্ষণ আপনার ওয়েবসাইটে থাকল। এই সকল কিছু গুগল অ্যানালাইটিকের মাধ্যমে চেক করা যায়। গুগল অ্যানালাইটিক অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটে থাকতে হবে। আপনার ওয়েবসাইটে যদি গুগল অ্যানালাইটিক না থাকে তবে সেক্ষেত্রে গুগল এডসেন্স কখনোই এপ্রুভ হবে না। গুগল অ্যানালাইটিক লাগানোর জন্য প্রথমত একটি জিমেইল তৈরি করতে হবে। যেই জিমেইল দিয়ে আপনি গুগল এডসেন্স এর জন্য এপ্লাই করবেন সেই জিমেইলের মাধ্যমে গুগল অ্যানালাইটিক লাগালে ভালো হয়। তবে এটা অন্য কোন জিমেইলে মাধ্যমে করলেও সমস্যা নেই। জিমেইল তৈরি করা হয়ে গেলে গুগল অ্যানালাইটিক লিখে সার্চ বাড়ে সার্চ করতে হবে। এরপর গুগল অ্যানালাইটিকে ঢুকতে হবে। এরপর গুগল অ্যানালাইটিকে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে সেটি সেটআপ করে নিতে হবে। এরপর গুগল অ্যানালাইটিক থেকে একটি ট্র্যাকিং কোড দিবে। সেই ট্রাকিং কোড আপনার ওয়েবসাইটের হেডারে লাগিয়ে গুগল অ্যানালাইটিক আপনার ওয়েবসাইটে সেট করে নিতে হবে।

৪. গুগল সার্চ কলসোল সেটআপ

গুগল এডসেন্স এপ্রুভ এর ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে গুগল ওয়েবমাস্টার গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে এবং গুগল সাইট ম্যাপ সেটআপ করতে হবে। এর জন্য আপনাকে আপনার জিমেইল দিয়ে প্রথমে গুগল সার্চ কলসোলে সাইন ইন করতে হবে। এরপর সেখান থেকে আপনি আপনার ডোমেইন অথবা ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে আপনার ওয়েবসাইট ভেরিফাই করে নিতে হবে। এরপর ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার ওয়েবসাইটের সাইট ম্যাপের  অপশনে ক্লিক করে সেখানে সাইটম্যাপ লিংক সাবমিট করতে হবে। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আপনার ওয়েবসাইটটি গুগলের সার্চে ইনডেক্স হয়ে যাবে। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইট সাইটম্যাপ না করান তাহলে আপনার ওয়েবসাইটটি গুগলের সার্চ রেজাল্টে দেখাবে না। যার ফলে আপনি কখনোই সার্চ ভিজিটর পাবেন না। এজন্য অবশ্যই আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটকে সাইট ম্যাপ করে ইনডেক্স করতে হবে। আর আপনি যদি এই কাজটি না করেন তাহলে আপনার গুগল এডসেন্স কখনোই অ্যাপ্রুভ হবে না।

৫. contact, about, terms, privacy পেজ লাগানো

আপনার ওয়েবসাইট গুগল এডসেন্স অ্যাপ্রুভের জন্য আপনাকে অবশ্যই একটি contact, about, privacy ও terms পেজ আপনার ওয়েবসাইটে সেট করতে হবে। গুগল এডসেন্সের শর্ত অনুযায়ী আপনি যদি এই পেজগুলো আপনার ওয়েবসাইটে না বানিয়ে থাকেন। তাহলে আপনার ওয়েবসাইট কখনোই গুগল এডসেন্স পাবে না। সুতরাং আপনি যদি গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ করাতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে এই পেজগুলো আপনার ওয়েবসাইটের জন্য তৈরি করতে হবে।

উপরের এই বিষয়গুলোর মাধ্যমে খুব সহজেই আপনি আপনার ওয়েবসাইটে গুগল এডসেন্স সেট করে নিতে পারবেন। আর এই অ্যাড দেখিয়ে টাকা আয় করতে পারবেন।