WordPress হল একটি সি এম এস। অর্থাৎ কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। পৃথিবীতে এরকম অনেক সিএমএস রয়েছে যেগুলো দিয়ে খুব সহজে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। এদের মধ্যে প্রায় ৫৫% ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। ওয়ার্ডপ্রেসে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য প্রথমত একটি ডোমেইন অথবা আইপি সাথে হোস্টিং সংযুক্ত করে নিতে হবে। এরপর এতে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করে নিতে হবে। ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করার পর একটি ওয়ার্ডপ্রেসের ড্যাশবোর্ড আসবে। সেখানে ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

যেভাবে ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট বানানো যায়

ওয়ার্ডপ্রেসের ড্যাশবোর্ডে আমরা দেখতে পাবো Posts, Media, Categories, Pages, Comments, Projects, Appearance, Plugins, Users, Tools, Settings এরকম অনেক অপশন আমরা দেখতে পাবো। ওয়েবসাইট বানানোর জন্য সর্বপ্রথম আমাদেরকে Appearance বাটনে ক্লিক করতে হবে। এখান থেকে একটি Theme ইন্সটল করে নিতে হবে। এছাড়া Upload Theme অপশন থেকে কোন পেইড Theme অথবা কোন ডাউনলোড করা Theme ইন্সটল করে নিতে হবে।

ওয়ার্ডপ্রেস এর থিম গুলো সাধারণত ফ্রি হয়ে থাকে। আর এই থিমগুলো ওয়ার্ডপ্রেস এর মধ্যেই পাওয়া যায়।  এ ছাড়া বিভিন্ন থিম প্রোভাইডার যেমন- Mytheme shop, Elegant ThemesCss Igniter, Studio Press, এই ধরনের অনেক প্রোভাইডার থিম বিক্রি করে থাকে। এছাড়া Envato market এর Codecanyon থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ওয়ার্ডপ্রেস এর থিম কিনতে পাওয়া যায়। আপনারা চাইলে খুব সহজেই আপনাদের ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এই থিমগুলো কিনতে পারবেন। এছাড়া বাংলাদেশি কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে আপনারা বিকাশ অথবা নগদের মাধ্যমে এই থিমগুলো কিনতে পারবেন।

এরপর থিম Customize অপশনে ক্লিক করে থিমের লেআউট থিমের ফ্রন্ট, মেনু সাইজ, ফুটার ও হেডারের সাইজ কালার এ সমস্ত কিছু সেট করে নিতে হবে।

ওয়ার্ডপ্রেসের থিম অপশন

এরপর থিমের Widgets অপশনে ক্লিক করে আপনারা থিমের জন্য প্রয়োজনীয় সাইডবার এবং ফুটারের ফাংশন যুক্ত করে নিতে পারবেন। এরপর Menus অপশনে ক্লিক করে আপনারা প্রাইমারি menu, সেকেন্ডারি menu এবং ফুটার menu লাগায় নিতে পারবেন। এরপর প্লাগিন্স বাটনে ক্লিক করে ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য প্রয়োজনীয় প্লাগিন্স যোগ করে নিতে হবে।

ওয়ার্ডপ্রেসে এরকম অনেক প্লাগিন্স রয়েছে যা একদম ফ্রিতে পাওয়া যায়। আর এই প্লাগিন এর সাহায্যে একটি ওয়েবসাইটের জন্য প্রয়োজনীয় যত ফাংশন রয়েছে তার সবকিছু যুক্ত করা যায়।  যেমন আপনি যদি মনে করেন যে আপনার সাইটে একটি ক্যালেন্ডার যুক্ত করবেন তাহলে আপনারা ক্যালেন্ডার প্লাগিনের মাধ্যমে সহজে আপনাদের ওয়েবসাইটের সাইডবারে অথবা হেডারে আপনারা একটি ক্যালেন্ডার যুক্ত করে নিতে পারবেন।  অথবা আপনি যদি মনে করেন যে আপনাদের একটি রিলেটেড পোস্ট প্লাগইন দরকার অর্থাৎ আপনি যে পোস্ট লিখেছেন সেই পোস্টটির রিলেটেড আরও কিছু পোস্ট নিচে অটোমেটিক্যালি শো করবে। তাহলে সেই অপশনটির জন্য আপনারা একটি প্লাগিন্স লাগাতে পারবেন। যেটার নাম হল Related Postএভাবে ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক প্লাগিনস রয়েছে যেই প্লাগিন্স গুলো দিয়ে আপনারা সহজে একটি ওয়ার্ডপ্রেসের ওয়েবসাইটকে ফাংশান বহুল করে নিতে পারবেন। 

একটি ওয়েবসাইটের জন্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি প্লাগিন হল-

W3 Total Cache

Seo Plugin

Related Post Plugin

404 to 301 Redirect Plugin

Google Sitemap

Google Analytics Plugin

Image Optimizer

Wp pagenavi Plugin

এরপর ওয়েবসাইটে পোস্ট দেওয়ার জন্য Posts অপশন থেকে Add new বাটনে ক্লিক করে category অনুযায়ী পোস্ট দেওয়া যাবে পোস্টে অবশ্যই আপনার একটি টাইটেল থাকবে। ডেসক্রিপশন থাকবে। সেগুলো দিয়ে আপনারা একটি পোস্ট সেট করতে পারবেন।   

এছাড়া Pages অপশন থেকে আপনারা যে কোন পেজ আপনার ওয়েবসাইটের জন্য তৈরি করে নিতে পারবেন এবং সেই পেজের আন্ডারে আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করতে পারেন। অথবা পেজের আন্ডারে আপনারা আপনাদের সেই পোস্টগুলোকে সেট করে দিতে পারেন। এভাবে সব ধরনের কাজ আপনারা পেজ, পোষ্টের মাধ্যমে আপনাদের পুরা সাইটকে একটি তথ্যবহুল ওয়েবসাইটে পরিণত করতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেসের কমেন্ট ও ইউজার অপশন

Comments অপশন থেকে আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইটে প্রতিটা পোস্টের নিচে একটি কমেন্ট ফাংশন যুক্ত করে দিতে পারবেন। এই কমেন্টের মাধ্যমে যদি আপনাদের পোস্ট বা পেজের আপনাদের কোন কনটেন্ট দেখে কেউ কোনো কাস্টমার বা কোনো আপনাদের ভিজিটর যদি আপনাদের ওয়েবসাইট সম্বন্ধে বা আপনার সার্ভিস সম্বন্ধে কোন অনুসন্ধান করে থাকে বা কোন জিজ্ঞাসা থাকে তাহলে আপনাদের কমেন্ট সেকশনের মাধ্যমে সেটা আপনাদেরকে বলতে পারবে। আর প্রতিটি কমেন্ট আপনাদের ওয়ার্ডপ্রেসের কমেন্ট সেকশনে যুক্ত হয়ে যাবে। যা দেখে পরবর্তীতে আপনারা তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।

এছাড়া একটি ওয়াডপ্রেস ওয়েবসাইটের Settings অপশন থেকে আপনারা ওয়েবসাইটের টাইটেল, ওয়েবসাইটের ট্যাগলাইন এবং ওয়েবসাইট ইউআরএল যুক্ত করতে পারবেন। তারপর আপনাদের ওয়েবসাইটের টাইম জোন ও আপনাদের ল্যাঙ্গুয়েজ সেট করে নিতে পারবেন। এছাড়া এর permalinks আপশন url structure সেট করে নিতে পারবেন।  

Users অপশন থেকে আপনারা আপনাদের ওয়েবসাইটের জন্য প্রয়োজনীয় ইউজার এবং তাদের পাসওয়ার্ড অ্যাড করে দিলে কেউ পরবর্তীতে কেউ যদি আপনাদের ওয়েবসাইট ড্যাশবোর্ডে ঢুকতে চায়, তাহলে সে তার ইউজার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে ঢুকে ওয়েবসাইট টাকে এডিট করতে পারে বা কাস্টমাইজ করতে পারবে।